HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
'শাবাশ বাংলাদেশ
এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।'
Dhaka · 2019
ক
'হরিৎ উপত্যকা' অর্থ কী?
উত্তর
'হরিৎ উপত্যকা' শব্দের অর্থ— সবুজ প্রান্তর।
খ
সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা'– ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
কবি ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের বিপ্লবী বাংলাকে যেন ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালামের বিপ্লবী মুখাবয়বে খুঁজে পেয়েছেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার উপর পাকিস্তান সরকারের অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করে এবং বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালাম, বরকতসহ অনেকেই ছিলেন এ আন্দোলনের মূল প্রেরণা। এ বিষয়টি বোঝাতে গিয়েই আলোচ্য চরণটিতে কবি বিপ্লবী ভাষাশহিদ সালামের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
গ
উদ্দীপকের সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কোন অংশের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ফুটে ওঠা বাঙালির প্রতিবাদী মানসিকতার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি বায়ান্নর পটভূমিতে দাঁড়িয়ে বাঙালির আত্মচেতনার জাগরণ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সকল আন্দোলন- সংগ্রাম সংঘটনের দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন । কবিতাটিতে কবি দেখিয়েছেন, ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাঙালি মানসে যে বিপ্লবী চেতনার জাগরণ ঘটেছিল তাই ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের প্রেরণা জুগিয়েছিল।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বাঙালির অকুতোভয় মনোভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে। বিদেশি শত্রুর সীমাহীন অত্যাচারের মুখেও তারা নতি স্বীকার করেনি, বরং তাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও এদিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন কবি । কবিতাটিতে তিনি দেখিয়েছেন, পাকিস্তানি শাসকদের জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অকুতোভয় বাঙালি ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রেরণা ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। আলোচ্য কবিতাটিতে ফুটে ওঠা বাঙালির এই প্রতিবাদী মনোভাব উদ্দীপকের কবিতাংশটির বক্তব্যের সমান্তরাল। এদিক থেকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সাথে উদ্দীপকের কবিতাংশটির সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
ঘ
“উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মর্মবাণীকে পুরোপুরি ধারণ করে না”— মন্তব্যটি নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
“উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মর্মবাণীকে পুরোপুরি ধারণ করে না”— মন্তব্যটি যথার্থ বলেই আমি মনে করি।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। আর এ আন্দোলন সংঘটনের পিছনের প্রেরণা হিসেবে কবি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গটিকে সামনে এনেছেন। এক্ষেত্রে কবি ভাষা শহিদদের আত্মদানের প্রসঙ্গটিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বাঙালি জাতির প্রতিবাদী মানসিকতার জয়গান গেয়েছেন। তিনি দেখেছেন, শত অত্যাচার ও নিপীড়নের মুখেও বাঙালি জাতি নতি স্বীকার করেনি। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার হলেও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তারা বারবার অস্ত্র হাতে প্রতিবাদী রূপ নিয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঙালি জাতির এই দৃঢ়তার দিকটি আলোচ্য 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাতেও একইভাবে ফুটে উঠেছে। তবে এটিই এ কবিতার মূল বিষয় নয়।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি পাকিস্তানি শাসনামলে স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালির আত্মজাগরণ এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন।
কবিতাটিতে তিনি দেখিয়েছেন যে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি সবসময় সোচ্চার থেকেছে। আলোচ্য কবিতায় বিধৃত এ বিষয়টি উদ্দীপকের কবিতাংশেও গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও কবিতাটিতে ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে এসব বিষয় সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো