HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
চাইনে বিষাদ আমি তবু সে প্রাণের উপকূলে
দিনরাত বসে থাকে নীলস্রোত নদীর বেদনায়।
নাবিক চৈতন্যে তাই মেঘপুঞ্জ অশ্রান্ত ঘনায়।
দ্রুত-সূর্য ডুবে যায় নিঃসঙ্গ চিন্তার কালো চুলে।
চড়ায় ঠেকে না তবু আমার বাণিজ্যপোতখানি
অক্লান্ত উদ্যম তার অনুভবে সমুদ্র সন্ধানী।
ক
কবি কীসের টানে মানবজন্মের ঘরে এসেছেন?
উত্তর
পৃথিবীর রূপ-রস এবং মানুষের শুভবোধ বা 'সুচেতনা' বিকাশের টানে কবি মানবজন্মের ঘরে এসেছেন।
খ
'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়'- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' বলতে কবি জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর বুকে মানবকল্যাণকামী সুচেতনার বা শুভবোধের অনিবার্য জাগরণকে বুঝিয়েছেন।
পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা হিংসা, হানাহানি ও রক্তপাতে পূর্ণ, যা কবির কাছে 'শাশ্বত রাত্রি' বা দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের সমতুল্য। তবে কবি নিরাশ নন; তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, রাতের অন্ধকার যত দীর্ঘই হোক না কেন, তা ভেদ করে একসময় আলোর রেখা বা অনন্ত সূর্যোদয় ঘটবেই। অর্থাৎ, সাময়িক নৈরাশ্য ও অশুভ শক্তির পতন ঘটিয়ে পৃথিবীতে একদিন শাশ্বত কল্যাণময় ভোর বা সুচেতনার উন্মেষ নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশের 'সুচেতনা' কবিতার নৈরাশ্য ও বিষাদ পেরিয়ে নতুন ও আলোকিত জীবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার গভীর প্রত্যাশার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
'সুচেতনা' কবিতায় কবি বর্তমান পৃথিবীর হিংসা, হানাহানি ও রক্তাক্ত রূপ দেখে ব্যথিত হলেও হতাশ হননি। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানের এই জরাজীর্ণতার অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়; একদিন এই 'শাশ্বত রাত্রি' ভেদ করে অনন্ত সূর্যোদয় বা সুচেতনার আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মাঝেও কবি এই অশুভ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও একই আশাবাদ লক্ষ করা যায়, যেখানে কবি নীলস্রোত নদীর বেদনা বা বিষাদকে স্বীকার করে নিয়েও নিঃসঙ্গ চিন্তার অন্ধকারে ডুবে যেতে চান না। তাঁর বাণিজ্যপোতটি কোনো চড়ায় আটকে না থেকে অক্লান্ত উদ্যমে সমুদ্রের সন্ধান করে। 'সুচেতনা' কবিতার কবি যেমন পৃথিবীর গভীরতর অসুখের মাঝেও কল্যাণময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, উদ্দীপকের কবিও তেমনি বিষাদ ও অন্ধকারের প্রলোভন এড়িয়ে অনন্ত সম্ভাবনার দিকে যাত্রা করতে চেয়েছেন। এই আশাবাদ ও অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণের দিক থেকেই উদ্দীপকটি কবিতার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
ঘ
সম্পর্ক থাকলেও উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার মধ্যে আশাবাদের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি— মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুচেতনা' কবিতায় কেবল সুদিনের প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়নি, বরং এতে বর্তমান পৃথিবীর হানাহানি, মানুষের ভ্রষ্টতা, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং সভ্যতার গভীরতর অসুখের বাস্তব চিত্রও ফুটে উঠেছে। কবি যেমন সুচেতনার বা শুভবোধের সন্ধান করেছেন, তেমনি সমকালীন পৃথিবীর রক্তক্ষরণ, মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা ও সভ্যতার সংকটের কথাও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে কেবল বিষাদ ও নৈরাশ্যকে অতিক্রম করে অক্লান্ত উদ্যমে নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। এখানে কবির 'বাণিজ্যপোত' কোনো বাধায় না থেমে সমুদ্রের সন্ধান করে, যা নতুন জীবনের আশাবাদের প্রতীক। 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই আশাবাদ রয়েছে, তবে তা মানবসভ্যতার এক বৃহত্তর সংকটের প্রেক্ষাপটে রচিত। উদ্দীপকে সেই বৃহত্তর সংকট, মানুষের হানাহানি বা পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মতো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের কোনো ইঙ্গিত নেই।
'সুচেতনা' কবিতাটি মূলত সমকালীন পৃথিবীর অবক্ষয় এবং তা থেকে মুক্তির জন্য শুভবোধের আবাহনের এক মহাকাব্যিক ক্যানভাস, যেখানে উদ্দীপকটি কেবল ব্যক্তিগত বিষাদ অতিক্রমের আশাবাদের একটি ক্ষুদ্র অংশকে ধারণ করেছে। উদ্দীপকে কবিতার নেতিবাচক বাস্তবতার বিস্তৃত চিত্রটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার একটি খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তা কখনোই সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো