কবিতা : সুচেতনা Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : সুচেতনা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৩৫

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

চাইনে বিষাদ আমি তবু সে প্রাণের উপকূলে দিনরাত বসে থাকে নীলস্রোত নদীর বেদনায়। নাবিক চৈতন্যে তাই মেঘপুঞ্জ অশ্রান্ত ঘনায়। দ্রুত-সূর্য ডুবে যায় নিঃসঙ্গ চিন্তার কালো চুলে। চড়ায় ঠেকে না তবু আমার বাণিজ্যপোতখানি অক্লান্ত উদ্যম তার অনুভবে সমুদ্র সন্ধানী।
ক
কবি কীসের টানে মানবজন্মের ঘরে এসেছেন?

উত্তর

পৃথিবীর রূপ-রস এবং মানুষের শুভবোধ বা 'সুচেতনা' বিকাশের টানে কবি মানবজন্মের ঘরে এসেছেন।
খ
'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়'- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' বলতে কবি জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর বুকে মানবকল্যাণকামী সুচেতনার বা শুভবোধের অনিবার্য জাগরণকে বুঝিয়েছেন। পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা হিংসা, হানাহানি ও রক্তপাতে পূর্ণ, যা কবির কাছে 'শাশ্বত রাত্রি' বা দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের সমতুল্য। তবে কবি নিরাশ নন; তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, রাতের অন্ধকার যত দীর্ঘই হোক না কেন, তা ভেদ করে একসময় আলোর রেখা বা অনন্ত সূর্যোদয় ঘটবেই। অর্থাৎ, সাময়িক নৈরাশ্য ও অশুভ শক্তির পতন ঘটিয়ে পৃথিবীতে একদিন শাশ্বত কল্যাণময় ভোর বা সুচেতনার উন্মেষ নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশের 'সুচেতনা' কবিতার নৈরাশ্য ও বিষাদ পেরিয়ে নতুন ও আলোকিত জীবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার গভীর প্রত্যাশার সাথে সম্পর্কযুক্ত। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি বর্তমান পৃথিবীর হিংসা, হানাহানি ও রক্তাক্ত রূপ দেখে ব্যথিত হলেও হতাশ হননি। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানের এই জরাজীর্ণতার অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়; একদিন এই 'শাশ্বত রাত্রি' ভেদ করে অনন্ত সূর্যোদয় বা সুচেতনার আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মাঝেও কবি এই অশুভ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও একই আশাবাদ লক্ষ করা যায়, যেখানে কবি নীলস্রোত নদীর বেদনা বা বিষাদকে স্বীকার করে নিয়েও নিঃসঙ্গ চিন্তার অন্ধকারে ডুবে যেতে চান না। তাঁর বাণিজ্যপোতটি কোনো চড়ায় আটকে না থেকে অক্লান্ত উদ্যমে সমুদ্রের সন্ধান করে। 'সুচেতনা' কবিতার কবি যেমন পৃথিবীর গভীরতর অসুখের মাঝেও কল্যাণময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, উদ্দীপকের কবিও তেমনি বিষাদ ও অন্ধকারের প্রলোভন এড়িয়ে অনন্ত সম্ভাবনার দিকে যাত্রা করতে চেয়েছেন। এই আশাবাদ ও অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণের দিক থেকেই উদ্দীপকটি কবিতার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
ঘ
সম্পর্ক থাকলেও উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার মধ্যে আশাবাদের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি— মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুচেতনা' কবিতায় কেবল সুদিনের প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়নি, বরং এতে বর্তমান পৃথিবীর হানাহানি, মানুষের ভ্রষ্টতা, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং সভ্যতার গভীরতর অসুখের বাস্তব চিত্রও ফুটে উঠেছে। কবি যেমন সুচেতনার বা শুভবোধের সন্ধান করেছেন, তেমনি সমকালীন পৃথিবীর রক্তক্ষরণ, মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা ও সভ্যতার সংকটের কথাও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে কেবল বিষাদ ও নৈরাশ্যকে অতিক্রম করে অক্লান্ত উদ্যমে নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। এখানে কবির 'বাণিজ্যপোত' কোনো বাধায় না থেমে সমুদ্রের সন্ধান করে, যা নতুন জীবনের আশাবাদের প্রতীক। 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই আশাবাদ রয়েছে, তবে তা মানবসভ্যতার এক বৃহত্তর সংকটের প্রেক্ষাপটে রচিত। উদ্দীপকে সেই বৃহত্তর সংকট, মানুষের হানাহানি বা পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মতো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের কোনো ইঙ্গিত নেই। 'সুচেতনা' কবিতাটি মূলত সমকালীন পৃথিবীর অবক্ষয় এবং তা থেকে মুক্তির জন্য শুভবোধের আবাহনের এক মহাকাব্যিক ক্যানভাস, যেখানে উদ্দীপকটি কেবল ব্যক্তিগত বিষাদ অতিক্রমের আশাবাদের একটি ক্ষুদ্র অংশকে ধারণ করেছে। উদ্দীপকে কবিতার নেতিবাচক বাস্তবতার বিস্তৃত চিত্রটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার একটি খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তা কখনোই সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

চাইনে বিষাদ আমি তবু সে প্রাণের উপকূলে দিনরাত বসে থাকে নীলস্রোত নদীর বেদনায়। নাবিক চৈতন্যে তাই মেঘপুঞ্জ অশ্রান্ত ঘনায়। দ্রুত-সূর্য ডুবে যায় নিঃসঙ্গ চিন্তার কালো চুলে। চড়ায় ঠেকে না তবু আমার বাণিজ্যপোতখানি অক্লান্ত উদ্যম তার অনুভবে সমুদ্র সন্ধানী।
ক
কবি কীসের টানে মানবজন্মের ঘরে এসেছেন?

উত্তর

পৃথিবীর রূপ-রস এবং মানুষের শুভবোধ বা 'সুচেতনা' বিকাশের টানে কবি মানবজন্মের ঘরে এসেছেন।
খ
'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়'- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' বলতে কবি জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর বুকে মানবকল্যাণকামী সুচেতনার বা শুভবোধের অনিবার্য জাগরণকে বুঝিয়েছেন। পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা হিংসা, হানাহানি ও রক্তপাতে পূর্ণ, যা কবির কাছে 'শাশ্বত রাত্রি' বা দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের সমতুল্য। তবে কবি নিরাশ নন; তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, রাতের অন্ধকার যত দীর্ঘই হোক না কেন, তা ভেদ করে একসময় আলোর রেখা বা অনন্ত সূর্যোদয় ঘটবেই। অর্থাৎ, সাময়িক নৈরাশ্য ও অশুভ শক্তির পতন ঘটিয়ে পৃথিবীতে একদিন শাশ্বত কল্যাণময় ভোর বা সুচেতনার উন্মেষ নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশের 'সুচেতনা' কবিতার নৈরাশ্য ও বিষাদ পেরিয়ে নতুন ও আলোকিত জীবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার গভীর প্রত্যাশার সাথে সম্পর্কযুক্ত। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি বর্তমান পৃথিবীর হিংসা, হানাহানি ও রক্তাক্ত রূপ দেখে ব্যথিত হলেও হতাশ হননি। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানের এই জরাজীর্ণতার অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়; একদিন এই 'শাশ্বত রাত্রি' ভেদ করে অনন্ত সূর্যোদয় বা সুচেতনার আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মাঝেও কবি এই অশুভ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও একই আশাবাদ লক্ষ করা যায়, যেখানে কবি নীলস্রোত নদীর বেদনা বা বিষাদকে স্বীকার করে নিয়েও নিঃসঙ্গ চিন্তার অন্ধকারে ডুবে যেতে চান না। তাঁর বাণিজ্যপোতটি কোনো চড়ায় আটকে না থেকে অক্লান্ত উদ্যমে সমুদ্রের সন্ধান করে। 'সুচেতনা' কবিতার কবি যেমন পৃথিবীর গভীরতর অসুখের মাঝেও কল্যাণময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, উদ্দীপকের কবিও তেমনি বিষাদ ও অন্ধকারের প্রলোভন এড়িয়ে অনন্ত সম্ভাবনার দিকে যাত্রা করতে চেয়েছেন। এই আশাবাদ ও অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণের দিক থেকেই উদ্দীপকটি কবিতার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
ঘ
সম্পর্ক থাকলেও উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার মধ্যে আশাবাদের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি কবিতার সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি— মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুচেতনা' কবিতায় কেবল সুদিনের প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়নি, বরং এতে বর্তমান পৃথিবীর হানাহানি, মানুষের ভ্রষ্টতা, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং সভ্যতার গভীরতর অসুখের বাস্তব চিত্রও ফুটে উঠেছে। কবি যেমন সুচেতনার বা শুভবোধের সন্ধান করেছেন, তেমনি সমকালীন পৃথিবীর রক্তক্ষরণ, মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা ও সভ্যতার সংকটের কথাও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে কেবল বিষাদ ও নৈরাশ্যকে অতিক্রম করে অক্লান্ত উদ্যমে নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। এখানে কবির 'বাণিজ্যপোত' কোনো বাধায় না থেমে সমুদ্রের সন্ধান করে, যা নতুন জীবনের আশাবাদের প্রতীক। 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই আশাবাদ রয়েছে, তবে তা মানবসভ্যতার এক বৃহত্তর সংকটের প্রেক্ষাপটে রচিত। উদ্দীপকে সেই বৃহত্তর সংকট, মানুষের হানাহানি বা পৃথিবীর 'গভীরতর অসুখ'-এর মতো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের কোনো ইঙ্গিত নেই। 'সুচেতনা' কবিতাটি মূলত সমকালীন পৃথিবীর অবক্ষয় এবং তা থেকে মুক্তির জন্য শুভবোধের আবাহনের এক মহাকাব্যিক ক্যানভাস, যেখানে উদ্দীপকটি কেবল ব্যক্তিগত বিষাদ অতিক্রমের আশাবাদের একটি ক্ষুদ্র অংশকে ধারণ করেছে। উদ্দীপকে কবিতার নেতিবাচক বাস্তবতার বিস্তৃত চিত্রটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার একটি খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তা কখনোই সম্পূর্ণ ভাবনার দ্যোতক হয়ে উঠতে পারেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পুরাণপুরুষ, গণমানুষ, নারীপুরুষ, মানবতা, অসংখ্য বিপ্লব অর্থবিহীন হয়ে গেলে- তবু আরেক নবীনতর ভোরে সার্থকতা পাওয়া যাবে ভেবে মানুষ সঞ্চারিত হয়ে পথে পথে সবের শুভ নিকেতনের সমাজ বানিয়ে তবুও কেবল দ্বীপ বানাল যে যার নিজের অবক্ষয়ের জলে। প্রাচীন কথা নতুন ক'রে এই পৃথিবীর অনন্ত বোনভায়ে ভাবছে একা একা ব'সে যুদ্ধ রক্ত রিরংসা ভয় কলরোলের ফাঁকে: আমাদের এই আকাশ সাগর আঁধার আলোয় আজ যে দোর কঠিন; নেই মনে হয়, - সে দ্বার খুলে দিয়ে যেতে হবে আবার আলো অসার আলোর ব্যসন ছাড়িয়ে।
ক
মাটি-পৃথিবীর টানে কবি কোথায় এসেছেন?

উত্তর

মাটি-পৃথিবীর টানে কবি মানবজন্মের ঘরে এসেছেন।
খ
'দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত ভাই বোন বন্ধু পরিজন পড়ে আছে' পঙক্তি দুটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ আলোচ্য পঙক্তি দুটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। ➤ 'সুচেতনা' কবিতায় কবি পৃথিবীর ধ্বংস, অমানবিকতা, হিংসা প্রভৃতির চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রশ্নোক্ত পঙক্তিদ্বয়ে কবি মানুষে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির কথা বলেছেন। মানুষই মানুষকে হত্যা করছে স্বার্থ চরিতার্থ করতে। অথবা স্বজনের হাতেই নিহত হচ্ছে স্বজন। কারণ ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে হলেও পাড়ি দিতে হয় অনেক রক্তাক্ত পথ- এটি দেখে কবি আহত ও বিচলিত। আলোচ্য পঙক্তিদ্বয়ে এই কথাই প্রকাশ পেয়েছে। সারকথা: আলোচ্য চরণদ্বয় কবি অশান্ত, বিক্ষুব্ধ ও অসুস্থ পৃথিবীর অমানবিকতা ও মনুষ্যত্বহীনতাকে নির্দেশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার কোন ভাবকে প্রতীকায়িত করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতায় প্রকাশিত অশান্ত ও অমানবিক পৃথিবীতে নতুন আশার আলো খোঁজার ভাবকে প্রতীকায়িত করেছে। ➤ মানুষের চেতনাজগতে যখন শুভবোধের উদয় হবে তখনই একটি মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য আমাদের সব ধরনের বৈষম্য, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে মানবিকতার পতাকাতলে সমবেত হতে হবে। মানুষ মানবিক না হলে পৃথিবী কখনই সুন্দর হবে না। ➤ উদ্দীপকে কবি নবীন ভোরের সার্থকতা লাভ করার জন্য শুভ নিকেতনের সমাজ বানানো তথা শুভবোধের উদয় হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। পৃথিবীর যুদ্ধ, রিরংসা পিছনে ফেলে আলোর ব্যসন ছাড়িয়ে নতুন ভোরের সন্ধান করার কথা বলেছেন। 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি অশান্ত পৃথিবীর হিংসা, অমানবিকতা, মনুষ্যত্বহীনতার মাঝেই একটি মানবিক পৃথিবী কামনা করেছেন। কবির বিশ্বাস, সুচেতনা জাগ্রত হলে পৃথিবীর গভীর অসুখ শেষ হবে। মানবসমাজের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হবে। কবিতার 'এই ভাবই উদ্দীপকটি প্রতীকায়িত করেছে। সারকথা: উদ্দীপকে এক মানবিক সমাজ তথা পৃথিবীর প্রত্যাশা করা হয়েছে যা 'সুচেতনা' কবিতায়ও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপক এবং 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানেই কবি সম্ভাবনাময় মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপক এবং 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানেই কবি সম্ভাবনাময় মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের লাভের জন্য অশান্ত করে তুলছে। তাদের হীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের শপথ হবে সমৃদ্ধিশালী এক মানবিক পৃথিবী গড়ার। ➤ উদ্দীপকের কবি সুন্দর, শান্ত, মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন। কবির মতে পৃথিবীর সব অতীত ইতিহাস, মানুষ, মানবতা, অসংখ্য বিপ্লব অর্থহীন হয়ে যাবে যদি আমাদের শুভবোধের উদয় না হয়। কবি চেয়েছেন এক শুভ নিকেতনের সমাজ তথা পৃথিবী গড়তে। এ ভাবটি 'সুচেতনা' কবিতার মূলভাবকে সমর্থন করে। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি সমকালীন অশান্ত, বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরেছেন। চারদিকের হিংসা, ঘৃণা, বৈষম্য, হত্যা, যুদ্ধ ইত্যাদি দেখে কবি সেটাকে পৃথিবীর গভীরতর অসুখ বলেছেন। কবি চেয়েছেন মানবিক হতে। কারণ তিনি জানেন পৃথিবীর কাছে আমরা ঋণী। এজন্য কবি প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক পৃথিবী কামনা করেছেন। দেখতে চেয়েছেন শাশ্বত রাতের বুকে অনন্ত সূর্যোদয়কে। ➤ উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় সমকালীন অশান্ত ও অমানবিক পৃথিবীর পরিবর্তে মানবিক ও কল্যাণময় পৃথিবীর প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি যে নতুন সূর্যোদয় প্রত্যাশা করেছেন, উদ্দীপকেও এই আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানের কবিই প্রাণপ্রাচুর্যময় মানবিক এক। পৃথিবী কামনা করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পুরাণপুরুষ, গণমানুষ, নারীপুরুষ, মানবতা, অসংখ্য বিপ্লব অর্থবিহীন হয়ে গেলে- তবু আরেক নবীনতর ভোরে সার্থকতা পাওয়া যাবে ভেবে মানুষ সঞ্চারিত হয়ে পথে পথে সবের শুভ নিকেতনের সমাজ বানিয়ে তবুও কেবল দ্বীপ বানাল যে যার নিজের অবক্ষয়ের জলে। প্রাচীন কথা নতুন ক'রে এই পৃথিবীর অনন্ত বোনভায়ে ভাবছে একা একা ব'সে যুদ্ধ রক্ত রিরংসা ভয় কলরোলের ফাঁকে: আমাদের এই আকাশ সাগর আঁধার আলোয় আজ যে দোর কঠিন; নেই মনে হয়, - সে দ্বার খুলে দিয়ে যেতে হবে আবার আলো অসার আলোর ব্যসন ছাড়িয়ে।
ক
মাটি-পৃথিবীর টানে কবি কোথায় এসেছেন?

উত্তর

মাটি-পৃথিবীর টানে কবি মানবজন্মের ঘরে এসেছেন।
খ
'দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত ভাই বোন বন্ধু পরিজন পড়ে আছে' পঙক্তি দুটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ আলোচ্য পঙক্তি দুটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। ➤ 'সুচেতনা' কবিতায় কবি পৃথিবীর ধ্বংস, অমানবিকতা, হিংসা প্রভৃতির চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রশ্নোক্ত পঙক্তিদ্বয়ে কবি মানুষে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির কথা বলেছেন। মানুষই মানুষকে হত্যা করছে স্বার্থ চরিতার্থ করতে। অথবা স্বজনের হাতেই নিহত হচ্ছে স্বজন। কারণ ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে হলেও পাড়ি দিতে হয় অনেক রক্তাক্ত পথ- এটি দেখে কবি আহত ও বিচলিত। আলোচ্য পঙক্তিদ্বয়ে এই কথাই প্রকাশ পেয়েছে। সারকথা: আলোচ্য চরণদ্বয় কবি অশান্ত, বিক্ষুব্ধ ও অসুস্থ পৃথিবীর অমানবিকতা ও মনুষ্যত্বহীনতাকে নির্দেশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার কোন ভাবকে প্রতীকায়িত করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতায় প্রকাশিত অশান্ত ও অমানবিক পৃথিবীতে নতুন আশার আলো খোঁজার ভাবকে প্রতীকায়িত করেছে। ➤ মানুষের চেতনাজগতে যখন শুভবোধের উদয় হবে তখনই একটি মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য আমাদের সব ধরনের বৈষম্য, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে মানবিকতার পতাকাতলে সমবেত হতে হবে। মানুষ মানবিক না হলে পৃথিবী কখনই সুন্দর হবে না। ➤ উদ্দীপকে কবি নবীন ভোরের সার্থকতা লাভ করার জন্য শুভ নিকেতনের সমাজ বানানো তথা শুভবোধের উদয় হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। পৃথিবীর যুদ্ধ, রিরংসা পিছনে ফেলে আলোর ব্যসন ছাড়িয়ে নতুন ভোরের সন্ধান করার কথা বলেছেন। 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি অশান্ত পৃথিবীর হিংসা, অমানবিকতা, মনুষ্যত্বহীনতার মাঝেই একটি মানবিক পৃথিবী কামনা করেছেন। কবির বিশ্বাস, সুচেতনা জাগ্রত হলে পৃথিবীর গভীর অসুখ শেষ হবে। মানবসমাজের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হবে। কবিতার 'এই ভাবই উদ্দীপকটি প্রতীকায়িত করেছে। সারকথা: উদ্দীপকে এক মানবিক সমাজ তথা পৃথিবীর প্রত্যাশা করা হয়েছে যা 'সুচেতনা' কবিতায়ও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপক এবং 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানেই কবি সম্ভাবনাময় মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপক এবং 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানেই কবি সম্ভাবনাময় মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের লাভের জন্য অশান্ত করে তুলছে। তাদের হীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের শপথ হবে সমৃদ্ধিশালী এক মানবিক পৃথিবী গড়ার। ➤ উদ্দীপকের কবি সুন্দর, শান্ত, মানবিক এক পৃথিবী কামনা করেছেন। কবির মতে পৃথিবীর সব অতীত ইতিহাস, মানুষ, মানবতা, অসংখ্য বিপ্লব অর্থহীন হয়ে যাবে যদি আমাদের শুভবোধের উদয় না হয়। কবি চেয়েছেন এক শুভ নিকেতনের সমাজ তথা পৃথিবী গড়তে। এ ভাবটি 'সুচেতনা' কবিতার মূলভাবকে সমর্থন করে। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি সমকালীন অশান্ত, বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরেছেন। চারদিকের হিংসা, ঘৃণা, বৈষম্য, হত্যা, যুদ্ধ ইত্যাদি দেখে কবি সেটাকে পৃথিবীর গভীরতর অসুখ বলেছেন। কবি চেয়েছেন মানবিক হতে। কারণ তিনি জানেন পৃথিবীর কাছে আমরা ঋণী। এজন্য কবি প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক পৃথিবী কামনা করেছেন। দেখতে চেয়েছেন শাশ্বত রাতের বুকে অনন্ত সূর্যোদয়কে। ➤ উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় সমকালীন অশান্ত ও অমানবিক পৃথিবীর পরিবর্তে মানবিক ও কল্যাণময় পৃথিবীর প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি যে নতুন সূর্যোদয় প্রত্যাশা করেছেন, উদ্দীপকেও এই আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতা উভয় স্থানের কবিই প্রাণপ্রাচুর্যময় মানবিক এক। পৃথিবী কামনা করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দানব মরে না যদি, আমিও প্রস্তুত আমার রক্তেও আছে আরো অভিযান; …………………………………………..\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots.. দুঃশাসনের আমি মৃত্যুদূত যত দিন লেলিহান বিশাল শৃঙ্খল আমার মুক্তির তৃষ্ণা তুফান উত্তল।
ক
'নির্জন' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'নির্জন' শব্দের অর্থ জনহীন।
খ
'সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ 'সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ' বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন- পৃথিবীর ক্রমমুক্তি একক দিনে সম্ভব নয়। সেটি বহু যুগের সাধনা ও পরিশ্রমের কাজ। ➤ যুগে যুগে মহামানবরা এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখে যাওয়ার জন্য সাধনা ও পরিশ্রম করে গেছেন। এমনকি পৃথিবীর মঙ্গল কামনা করে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তাদের মেধা, মনন ও ভালোবাসা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন এ পৃথিবীকে। এজন্যই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: প্রশ্নোক্ত চরণে কবি পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ার পেছনে মহামানবদের যুগযুগান্তরের সাধনার কথা বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতায় প্রকাশিত পৃথিবীর বৈরী অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিকটি নির্দেশ করে। ➤ স্বার্থপরতার কারণে পৃথিবীতে আজ অশান্তি বিরাজ করছে। এর মাঝে রয়েছে সামাজিক বৈষম্য, শোষণ ও পীড়ন। একসময় প্রাণৈশ্বর্যে পূর্ণ পৃথিবী আজ ধূসর-উষর ধু-ধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। মানবিকতা এখানে লুণ্ঠিত, মনুষ্যত্ব তিরোহিত। মানবিক বোধের উন্মেষ ঘটানো ছাড়া এটি থেকে পরিত্রাণের পথ নেই। ➤ উদ্দীপকে সব অন্যায়, দুঃশাসন, দানবিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সমস্ত বিশৃঙ্খলা থেকে কবি এ পৃথিবীকে মুক্ত করতে চান। যার জন্য কবি অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এ দিকটি 'সুচেতনা' কবিতায়ও উঠে এসেছে। কবি বর্তমান যুদ্ধবিদ্ধস্ত পৃথিবীর অস্থিরতা, হিংসা, হত্যা, ঘৃণা এবং ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা দেখে আহত হয়েছেন। পৃথিবীকে এই গভীরতর অসুখ থেকে তিনি মুক্ত করতে চান। এজন্য তিনি মানবিক হতে চেয়েছেন। কারণ তিন জানেন এ পৃথিবীর কাছে আমরা সবাই ঋণী। এ পৃথিবীকে যেকোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে। এজন্য তিনি মানবিকতার নতুন ভোরের আশা করেছেন। আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষের মাঝে সুচেতনা জাগ্রত হবে। সারকথা: 'সুচেতনা' কবিতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে মানবিকতার ভোরের যে প্রত্যাশা করা হয়েছে উদ্দীপকটি সেই দিকটি নির্দেশ করেছে।
ঘ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রকাশক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রকাশক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ আমরা সবাই চাই সুখী-সমৃদ্ধ এক মানবিক বিশ্ব। কিন্তু কিছু স্বার্থবাদী মানুষ হীন উদ্দেশ্যে পৃথিবীকে অস্থির করে তুলেছে, ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা ও মানবিক চেতনার বিকাশই পারে পৃথিবীকে রক্ষা করতে। ➤ উদ্দীপকে পৃথিবীর সব অসংগতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কবি যত দানবিকতা, দুঃশাসন, বৈষম্য, বিশৃঙ্খলা সবকিছু থেকে এই বিশ্বকে মুক্ত করতে চান, 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি সুচেতনাকে বলেছেন এক দূরতর নির্জন দ্বীপ। যেখানে পড়ে রয়েছে কবির মন। কবি সমকালীন যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, রক্তপাতসহ পৃথিবীর নানা অসংগতি দেখে সেটিকে গভীরতর অসুখ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি জানেন, এটি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো মনীষীদের মতো সাধনা, যা তাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী করে গেছেন। তবে এটি আলোচ্য কবিতার একটি দিকের প্রকাশমাত্র। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় অন্যান্য বিষয় ও ভাবের অবতারণা ঘটেছে। ➤ উদ্দীপকটি শুধু অসংগতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার কথা বলে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি অংশ। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে অমানবিকতা, মনুষ্যত্বহীনতা, পীড়নকারী বা হত্যাকারীর চরিত্র, পৃথিবীর কাছে মানুষের ঋণ, মহামানবদের সাধনা, সর্বোপরি নতুন ভোরের প্রত্যাশা। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে পৃথিবীর নানা অসংগতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি দিক মাত্র। কবিতার অন্যান্য বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দানব মরে না যদি, আমিও প্রস্তুত আমার রক্তেও আছে আরো অভিযান; …………………………………………..\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots\ldots.. দুঃশাসনের আমি মৃত্যুদূত যত দিন লেলিহান বিশাল শৃঙ্খল আমার মুক্তির তৃষ্ণা তুফান উত্তল।
ক
'নির্জন' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'নির্জন' শব্দের অর্থ জনহীন।
খ
'সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ 'সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ' বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন- পৃথিবীর ক্রমমুক্তি একক দিনে সম্ভব নয়। সেটি বহু যুগের সাধনা ও পরিশ্রমের কাজ। ➤ যুগে যুগে মহামানবরা এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখে যাওয়ার জন্য সাধনা ও পরিশ্রম করে গেছেন। এমনকি পৃথিবীর মঙ্গল কামনা করে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তাদের মেধা, মনন ও ভালোবাসা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন এ পৃথিবীকে। এজন্যই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: প্রশ্নোক্ত চরণে কবি পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ার পেছনে মহামানবদের যুগযুগান্তরের সাধনার কথা বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতায় প্রকাশিত পৃথিবীর বৈরী অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিকটি নির্দেশ করে। ➤ স্বার্থপরতার কারণে পৃথিবীতে আজ অশান্তি বিরাজ করছে। এর মাঝে রয়েছে সামাজিক বৈষম্য, শোষণ ও পীড়ন। একসময় প্রাণৈশ্বর্যে পূর্ণ পৃথিবী আজ ধূসর-উষর ধু-ধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। মানবিকতা এখানে লুণ্ঠিত, মনুষ্যত্ব তিরোহিত। মানবিক বোধের উন্মেষ ঘটানো ছাড়া এটি থেকে পরিত্রাণের পথ নেই। ➤ উদ্দীপকে সব অন্যায়, দুঃশাসন, দানবিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সমস্ত বিশৃঙ্খলা থেকে কবি এ পৃথিবীকে মুক্ত করতে চান। যার জন্য কবি অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এ দিকটি 'সুচেতনা' কবিতায়ও উঠে এসেছে। কবি বর্তমান যুদ্ধবিদ্ধস্ত পৃথিবীর অস্থিরতা, হিংসা, হত্যা, ঘৃণা এবং ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা দেখে আহত হয়েছেন। পৃথিবীকে এই গভীরতর অসুখ থেকে তিনি মুক্ত করতে চান। এজন্য তিনি মানবিক হতে চেয়েছেন। কারণ তিন জানেন এ পৃথিবীর কাছে আমরা সবাই ঋণী। এ পৃথিবীকে যেকোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে। এজন্য তিনি মানবিকতার নতুন ভোরের আশা করেছেন। আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষের মাঝে সুচেতনা জাগ্রত হবে। সারকথা: 'সুচেতনা' কবিতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে মানবিকতার ভোরের যে প্রত্যাশা করা হয়েছে উদ্দীপকটি সেই দিকটি নির্দেশ করেছে।
ঘ
উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রকাশক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'সুচেতনা' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রকাশক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ আমরা সবাই চাই সুখী-সমৃদ্ধ এক মানবিক বিশ্ব। কিন্তু কিছু স্বার্থবাদী মানুষ হীন উদ্দেশ্যে পৃথিবীকে অস্থির করে তুলেছে, ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা ও মানবিক চেতনার বিকাশই পারে পৃথিবীকে রক্ষা করতে। ➤ উদ্দীপকে পৃথিবীর সব অসংগতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কবি যত দানবিকতা, দুঃশাসন, বৈষম্য, বিশৃঙ্খলা সবকিছু থেকে এই বিশ্বকে মুক্ত করতে চান, 'সুচেতনা' কবিতায়ও এই দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি সুচেতনাকে বলেছেন এক দূরতর নির্জন দ্বীপ। যেখানে পড়ে রয়েছে কবির মন। কবি সমকালীন যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, রক্তপাতসহ পৃথিবীর নানা অসংগতি দেখে সেটিকে গভীরতর অসুখ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি জানেন, এটি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো মনীষীদের মতো সাধনা, যা তাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী করে গেছেন। তবে এটি আলোচ্য কবিতার একটি দিকের প্রকাশমাত্র। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় অন্যান্য বিষয় ও ভাবের অবতারণা ঘটেছে। ➤ উদ্দীপকটি শুধু অসংগতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার কথা বলে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি অংশ। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে অমানবিকতা, মনুষ্যত্বহীনতা, পীড়নকারী বা হত্যাকারীর চরিত্র, পৃথিবীর কাছে মানুষের ঋণ, মহামানবদের সাধনা, সর্বোপরি নতুন ভোরের প্রত্যাশা। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে পৃথিবীর নানা অসংগতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি দিক মাত্র। কবিতার অন্যান্য বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো