কবিতা : বিদ্রোহী Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : বিদ্রোহী অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২২৪

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"তার চেয়ে পোষমানাকে অস্বীকার করো অস্বীকার করো বশ্যতাকে। চলো শুকনো হাড়ের বদলে সন্ধান করি তাজা রক্তের। তৈরি হোক লাল আগুনে ঝলসানো আমাদের খাদ্য শিকলের দাগ ঢেকে দিয়ে গজিয়ে উঠুক সিংহের কেশর প্রত্যেকের ঘাড়ে।"

Mymensingh · 2025

ক
'বিদ্রোহী' কবিতা কবির কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর

'বিদ্রোহী' করিতা কবির 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
খ
"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য।"- পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি পৌরাণিক চরিত্রের সাহসী চেতনাকে নিজের মধ্যে ধারণ করাকে বুঝিয়েছেন। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, অকল্যাণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর বিদ্রোহী সত্তাকে পৌরাণিক বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে তুলনা করে নিজের সাহসী চেতনার পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণভাবে ভারতীয় পুরাণে দুর্বাসা একজন কোপন-স্বভাববিশিষ্ট মুনি। মহর্ষি অত্রির ঔরসে ও তাঁর স্ত্রী অনসূয়ার গর্ভে তাঁর জন্ম। তাঁর কোপানলে পড়ে অনেকেই দগ্ধ হন। কবিও তাঁর মতো হয়ে অন্যায়কারীদের দগ্ধ করতে চেয়েছেন। অন্যায়ের অবসানকল্পেই 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে 'ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য' বলেছেন।
গ
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য হলো বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। দেশ ও দেশের মানুষকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করে তিনি স্বাধীনতা এনে দিতে শাসক ও শোষকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই বিদ্রোহী চেতনায় জাতির আত্মজাগরণ ঘটেছে। উদ্দীপকের কবিতায় কবি আত্মজাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের অধিকার নিজেকে আদায় করে নেওয়ার জন্য তিনি জাগরণ ঘটানোর প্রয়াস পেয়েছেন। বশ্যতাকে স্বীকার না করে নিজের অধিকার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। তিনি আসলে বিদ্রোহী হওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা-করেছেন। তিনি নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে এবং শোষকের বিপক্ষে সংগ্রাম করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চান। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবগত মিল হলো- অন্যায়, অবিচার, নিপীড়ন, শোষণ-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আত্মজাগরণের আহ্বান।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ”- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

ভাববস্তুর দিক থেকে "উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ” মন্তব্যটি যথার্থ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি শোষিত বঞ্চিত অত্যাচারিত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামের কথা বলেছেন। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রত্যেক মানুষের মধ্যে বিদ্রোহী সত্তার আত্মজাগরণ ঘটাতে চেয়েছেন। যার ফলে প্রত্যেকে মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছেন। উৎপীড়িত জনতার কান্নার রোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত কবির এই বিদ্রোহ চলতেই থাকবে। অত্যাচারীর অত্যাচার থেকে মানুষের মুক্তি না মেলা পর্যন্ত কবির এই সংগ্রাম চলবে। কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশের মধ্য দিয়ে আসলে মানুষকে জাগ্রত করার প্রয়াস পেয়েছেন। উদ্দীপকের কবিতার মূল সুরও একই। এখানে কবি অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার কথা বলেছেন। যা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে নিজের অধিকার আদায় করে নেওয়ার দিকটি নির্দেশ করে। উদ্দীপকের কবিতাংশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার 'বিদ্রোহী' কবিতায় বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য ও পুরাণের বিভিন্ন শক্তির উৎসকে স্মরণ করে কবি বিশ্বব্যাপী সব অন্যায়, অত্যাচার বন্ধ করতে চান এবং এসব থেকে মানুষের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"তার চেয়ে পোষমানাকে অস্বীকার করো অস্বীকার করো বশ্যতাকে। চলো শুকনো হাড়ের বদলে সন্ধান করি তাজা রক্তের। তৈরি হোক লাল আগুনে ঝলসানো আমাদের খাদ্য শিকলের দাগ ঢেকে দিয়ে গজিয়ে উঠুক সিংহের কেশর প্রত্যেকের ঘাড়ে।"

Mymensingh · 2025

ক
'বিদ্রোহী' কবিতা কবির কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর

'বিদ্রোহী' করিতা কবির 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
খ
"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য।"- পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি পৌরাণিক চরিত্রের সাহসী চেতনাকে নিজের মধ্যে ধারণ করাকে বুঝিয়েছেন। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, অকল্যাণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর বিদ্রোহী সত্তাকে পৌরাণিক বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে তুলনা করে নিজের সাহসী চেতনার পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণভাবে ভারতীয় পুরাণে দুর্বাসা একজন কোপন-স্বভাববিশিষ্ট মুনি। মহর্ষি অত্রির ঔরসে ও তাঁর স্ত্রী অনসূয়ার গর্ভে তাঁর জন্ম। তাঁর কোপানলে পড়ে অনেকেই দগ্ধ হন। কবিও তাঁর মতো হয়ে অন্যায়কারীদের দগ্ধ করতে চেয়েছেন। অন্যায়ের অবসানকল্পেই 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে 'ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য' বলেছেন।
গ
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য হলো বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। দেশ ও দেশের মানুষকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করে তিনি স্বাধীনতা এনে দিতে শাসক ও শোষকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই বিদ্রোহী চেতনায় জাতির আত্মজাগরণ ঘটেছে। উদ্দীপকের কবিতায় কবি আত্মজাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের অধিকার নিজেকে আদায় করে নেওয়ার জন্য তিনি জাগরণ ঘটানোর প্রয়াস পেয়েছেন। বশ্যতাকে স্বীকার না করে নিজের অধিকার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। তিনি আসলে বিদ্রোহী হওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা-করেছেন। তিনি নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে এবং শোষকের বিপক্ষে সংগ্রাম করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চান। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবগত মিল হলো- অন্যায়, অবিচার, নিপীড়ন, শোষণ-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আত্মজাগরণের আহ্বান।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ”- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

ভাববস্তুর দিক থেকে "উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ” মন্তব্যটি যথার্থ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি শোষিত বঞ্চিত অত্যাচারিত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামের কথা বলেছেন। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রত্যেক মানুষের মধ্যে বিদ্রোহী সত্তার আত্মজাগরণ ঘটাতে চেয়েছেন। যার ফলে প্রত্যেকে মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছেন। উৎপীড়িত জনতার কান্নার রোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত কবির এই বিদ্রোহ চলতেই থাকবে। অত্যাচারীর অত্যাচার থেকে মানুষের মুক্তি না মেলা পর্যন্ত কবির এই সংগ্রাম চলবে। কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশের মধ্য দিয়ে আসলে মানুষকে জাগ্রত করার প্রয়াস পেয়েছেন। উদ্দীপকের কবিতার মূল সুরও একই। এখানে কবি অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার কথা বলেছেন। যা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে নিজের অধিকার আদায় করে নেওয়ার দিকটি নির্দেশ করে। উদ্দীপকের কবিতাংশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার 'বিদ্রোহী' কবিতায় বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য ও পুরাণের বিভিন্ন শক্তির উৎসকে স্মরণ করে কবি বিশ্বব্যাপী সব অন্যায়, অত্যাচার বন্ধ করতে চান এবং এসব থেকে মানুষের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিরাগী- পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি, দীঘল রজনী তার তরে জাগি, ঘুম যে হরেছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

Sylhet · 2022

ক
'বিদ্রোহী' কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?

উত্তর

'বিদ্রোহী' কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।
খ
কবি নিজেকে বেদুঈন বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরতেই কবি নিজেকে বেদুঈন বলে আখ্যায়িত করেছেন । বেদুঈন হলো আরবের যাযাবর জাতি। এদের স্থায়ী কোনো আবাস নেই। কঠিন মরুভূমির বুকে এরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। মরুভূমির বিরূপ পরিবেশ বা শত প্রতিকূলতা তাদের দমন করতে পারে না । আলোচ্য অংশে কবি হতোদ্যম না হয়ে বেদুঈনদের জীবনযুদ্ধের সাথে নিজের তুলনা করে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ।
গ
উদ্দীপকের কবির বক্তব্য বিষয়ের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো দুজন কবি সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন । 'বিদ্রোহী' কবিতায় সমাজে জেঁকে বসা অপশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। এখানে কবি অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান চান । এজন্য তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত থাকবে, ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সত্তাও শান্ত হবে না । উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন । সমাজ- সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও | কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য তিনি তাঁর পরম শত্রুকে শুধু ক্ষমা | করেই ক্ষান্ত হননি; বরং তার উপকারে আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ, একজন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান শত্রুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর অন্যজন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এখানেই উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্য।
ঘ
“উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার মর্মকথারই প্রতিরূপ।”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনার মূলে রয়েছে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাঁর বিদ্রোহ মূলত সামাজিক বৈষম্য ও উৎপীড়নকারীর বিরুদ্ধে। তিনি সমাজের উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন । সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর পরম শত্রুকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। যে কবিকে বিষেভরা বাণ দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে, কবি তাকে বুকভরা গান দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। আবার যে তাঁকে কাঁটা দিয়ে গেছে, তাকে তিনি ফুল দিয়েছেন। কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতায় এর বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। 'বিদ্রোহী' কবিতায় শত্রুর প্রতি কবির ক্রোধের বিপরীতে, আলোচ্য কবিতাংশের কবি ভালোবাসা দিয়ে শত্রুকে জয় করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, একজন অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যজন অত্যাচারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আপাতদৃষ্টে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও তাঁরা মূলত একই উদ্দেশ্যকে ধারণ করেন; আর তা হলো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে একজন বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অন্যজন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যগত দিক বিচারে উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিরাগী- পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি, দীঘল রজনী তার তরে জাগি, ঘুম যে হরেছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

Sylhet · 2022

ক
'বিদ্রোহী' কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?

উত্তর

'বিদ্রোহী' কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।
খ
কবি নিজেকে বেদুঈন বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরতেই কবি নিজেকে বেদুঈন বলে আখ্যায়িত করেছেন । বেদুঈন হলো আরবের যাযাবর জাতি। এদের স্থায়ী কোনো আবাস নেই। কঠিন মরুভূমির বুকে এরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। মরুভূমির বিরূপ পরিবেশ বা শত প্রতিকূলতা তাদের দমন করতে পারে না । আলোচ্য অংশে কবি হতোদ্যম না হয়ে বেদুঈনদের জীবনযুদ্ধের সাথে নিজের তুলনা করে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ।
গ
উদ্দীপকের কবির বক্তব্য বিষয়ের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো দুজন কবি সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন । 'বিদ্রোহী' কবিতায় সমাজে জেঁকে বসা অপশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। এখানে কবি অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান চান । এজন্য তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত থাকবে, ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সত্তাও শান্ত হবে না । উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন । সমাজ- সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও | কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য তিনি তাঁর পরম শত্রুকে শুধু ক্ষমা | করেই ক্ষান্ত হননি; বরং তার উপকারে আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ, একজন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান শত্রুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর অন্যজন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এখানেই উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্য।
ঘ
“উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার মর্মকথারই প্রতিরূপ।”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনার মূলে রয়েছে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাঁর বিদ্রোহ মূলত সামাজিক বৈষম্য ও উৎপীড়নকারীর বিরুদ্ধে। তিনি সমাজের উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন । সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর পরম শত্রুকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। যে কবিকে বিষেভরা বাণ দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে, কবি তাকে বুকভরা গান দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। আবার যে তাঁকে কাঁটা দিয়ে গেছে, তাকে তিনি ফুল দিয়েছেন। কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতায় এর বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। 'বিদ্রোহী' কবিতায় শত্রুর প্রতি কবির ক্রোধের বিপরীতে, আলোচ্য কবিতাংশের কবি ভালোবাসা দিয়ে শত্রুকে জয় করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, একজন অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যজন অত্যাচারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আপাতদৃষ্টে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও তাঁরা মূলত একই উদ্দেশ্যকে ধারণ করেন; আর তা হলো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে একজন বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অন্যজন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যগত দিক বিচারে উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে মম ললাটে। মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে। আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

Comilla · 2023

ক
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম কী ছিল?

উত্তর

অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস।
খ
'কবি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' কেন?

উত্তর

নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' বলে অভিহিত করেছেন।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।

উত্তর

ব্রিটিশ শাসন আর আধিপত্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ যখন এক মহা সঙ্কটের মুখে পতিত হয়েছিল, ঠিক এমনই দুর্বিষহ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম শতাব্দীর ধূমকেতু হয়ে উদিত হলেন বাংলা সাহিত্যের গগনে। এক 'ধূমকেতুর' হাতে আরেক 'ধূমকেতুর' প্রজ্বলন ঘটালেন উদ্দীপকের পংক্তিগুলো রচনা করে। আজন্ম স্বাধীনতার চেতনা লালনকারী এই পরাধীনতার যাঁতাকল থেকে কবি এ দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন জাতীয় জাগরণের মাধ্যমে। তিনি আধিপত্যবাদী ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে একটি সর্বব্যাপী স্বাধীনতা চেতনার জন্ম দিতে চেয়েছিলেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের মনে। বিদ্রোহী কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দ্রোহের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে উদ্দিপকের পংক্তিগুলোর মতো স্ফূরণ ঘটিয়েছেন। ঔপনিবেশিক ভারতের সেই সময় যখন নজরুল আবির্ভূত হলেন, তখন তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঔপনিবেশিক বিরোধিতা বড় করে তুলছেন। বল বীর, চির উন্নত মম শির, এই বীর তিনি বলছেন সমস্ত বাঙ্গালিকে, যে বীরের মতো তোমরা উঠে দাঁড়াও। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে বিদ্রোহী কবিতার বিদ্রোহী চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" কথাটির মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ক্রোধ-ঘৃণা ইত্যাদি মনের অসংখ্য মৌলিক অনুভূতির মধ্যে প্রেম ও দ্রোহ বা বিদ্রোহ এতটাই শক্তিশালী যে এই চেতনার দ্বারা মানুষ নিমিষে বদলে যেতে পারে, এমনকি জীবনকেও উৎসর্গ করতে পারে। প্রেমের মতো দ্রোহও হয়ে উঠতে পারে কাব্যের প্রধান উপাদান। তবে কাব্যে দ্রোহ চেতনার প্রতিফলন ঘটে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের অনবদ্য কবিতা বিদ্রোহী এবং ধুমকেতু আজও চেতনায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উৎসারণ ঘটায়। নজরুল তার সমকালের সমাজনীতি, রাজনীতি ও ব্যক্তি মানুষের অর্ন্তগত নৈতিক অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, অনুসন্ধান করেছেন ও বিদ্যমান অসঙ্গতির সঙ্গে আপোষ করতে না পেরে দ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এখানেই তার বিদ্রোহী সত্তার শেকড় নিহিত। উভয় কবিতায় ছিল অন্তর্গত চেতনায় শাণিত দেশপ্রেম। ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে দ্রোহউদ্ভাসিত হয়ে দুঃসাহসী উচ্চারণ - 'আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ।' ধুমকেতুর পুচ্ছটি উচ্চে তুলে ধরে নজরুল পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ভেঙ্গেছিলেন। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে উঠে কবির কপালে। তিনি বার বার ফিরে আসতে চান পরাধীনতার শিকল ছিন্ন করে। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দলে যান নিয়ন কানুন শৃংঙ্খল। মানবপ্রেম যেখানে পদদলিত সেখানে কবিতা নিজেই বিদ্রোহী সত্ত্বায় দেদীপ্যমান। তৎকালীন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে স্রষ্টাকে আহবান করে কবিতায় প্রকাশ। ধুমকেতু যেমন বারবার মহাবিপ্লবের জন্য ফিরে আসে, তেমনি কবি আসতে চান দ্রোহের মন্ত্র হাতে নিয়ে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে মম ললাটে। মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে। আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

Comilla · 2023

ক
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম কী ছিল?

উত্তর

অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস।
খ
'কবি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' কেন?

উত্তর

নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' বলে অভিহিত করেছেন।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।

উত্তর

ব্রিটিশ শাসন আর আধিপত্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ যখন এক মহা সঙ্কটের মুখে পতিত হয়েছিল, ঠিক এমনই দুর্বিষহ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম শতাব্দীর ধূমকেতু হয়ে উদিত হলেন বাংলা সাহিত্যের গগনে। এক 'ধূমকেতুর' হাতে আরেক 'ধূমকেতুর' প্রজ্বলন ঘটালেন উদ্দীপকের পংক্তিগুলো রচনা করে। আজন্ম স্বাধীনতার চেতনা লালনকারী এই পরাধীনতার যাঁতাকল থেকে কবি এ দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন জাতীয় জাগরণের মাধ্যমে। তিনি আধিপত্যবাদী ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে একটি সর্বব্যাপী স্বাধীনতা চেতনার জন্ম দিতে চেয়েছিলেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের মনে। বিদ্রোহী কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দ্রোহের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে উদ্দিপকের পংক্তিগুলোর মতো স্ফূরণ ঘটিয়েছেন। ঔপনিবেশিক ভারতের সেই সময় যখন নজরুল আবির্ভূত হলেন, তখন তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঔপনিবেশিক বিরোধিতা বড় করে তুলছেন। বল বীর, চির উন্নত মম শির, এই বীর তিনি বলছেন সমস্ত বাঙ্গালিকে, যে বীরের মতো তোমরা উঠে দাঁড়াও। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে বিদ্রোহী কবিতার বিদ্রোহী চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" কথাটির মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ক্রোধ-ঘৃণা ইত্যাদি মনের অসংখ্য মৌলিক অনুভূতির মধ্যে প্রেম ও দ্রোহ বা বিদ্রোহ এতটাই শক্তিশালী যে এই চেতনার দ্বারা মানুষ নিমিষে বদলে যেতে পারে, এমনকি জীবনকেও উৎসর্গ করতে পারে। প্রেমের মতো দ্রোহও হয়ে উঠতে পারে কাব্যের প্রধান উপাদান। তবে কাব্যে দ্রোহ চেতনার প্রতিফলন ঘটে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের অনবদ্য কবিতা বিদ্রোহী এবং ধুমকেতু আজও চেতনায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উৎসারণ ঘটায়। নজরুল তার সমকালের সমাজনীতি, রাজনীতি ও ব্যক্তি মানুষের অর্ন্তগত নৈতিক অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, অনুসন্ধান করেছেন ও বিদ্যমান অসঙ্গতির সঙ্গে আপোষ করতে না পেরে দ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এখানেই তার বিদ্রোহী সত্তার শেকড় নিহিত। উভয় কবিতায় ছিল অন্তর্গত চেতনায় শাণিত দেশপ্রেম। ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে দ্রোহউদ্ভাসিত হয়ে দুঃসাহসী উচ্চারণ - 'আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ।' ধুমকেতুর পুচ্ছটি উচ্চে তুলে ধরে নজরুল পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ভেঙ্গেছিলেন। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে উঠে কবির কপালে। তিনি বার বার ফিরে আসতে চান পরাধীনতার শিকল ছিন্ন করে। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দলে যান নিয়ন কানুন শৃংঙ্খল। মানবপ্রেম যেখানে পদদলিত সেখানে কবিতা নিজেই বিদ্রোহী সত্ত্বায় দেদীপ্যমান। তৎকালীন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে স্রষ্টাকে আহবান করে কবিতায় প্রকাশ। ধুমকেতু যেমন বারবার মহাবিপ্লবের জন্য ফিরে আসে, তেমনি কবি আসতে চান দ্রোহের মন্ত্র হাতে নিয়ে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো