কবিতা : সোনার তরী Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : সোনার তরী অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৪৪

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এক সময়ের ডাকসাইটে জমিদার নারায়ণ চৌধুরী প্রজ্ঞা ও প্রতিভায় ছিলেন সবার শীর্ষে। তাঁর জীবনের অর্জিত সম্পদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বাবার খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় নেই তাঁদের কারও। বার্ধক্যের এই সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যাননি সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে। এখন তাঁর সময় কাটে নিজের বাড়িতে একেবারে একা একা।

Chittagong · 2022

ক
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর

'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
খ
'শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে মহাকালের কাছে ব্যক্তিমানুষের চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি এক নিঃসঙ্গ কৃষকের রূপকে জীবনের এক গভীর সত্যকে তুলে ধরেছেন। মহাকাল কৃষকের কর্মফলের প্রতীক সোনার ধানকে গ্রহণ করলেও তাঁকে গ্রহণ করে না। ফলে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য । প্রশ্নোক্ত চরণটিতে শূন্য নদীর তীরে কৃষকের পড়ে থাকার চিত্র উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কবি এ বিষয়টিকেই উপস্থাপন করেছেন।
গ
উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকের কোন দিকটির মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকের ব্যক্তি মানুষটির চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটি মিল রয়েছে। এ কবিতায় কৃষক শিল্পস্রষ্টা কবির প্রতীক। এখানে কৃষকের উৎপাদিত ফসল মূলত কবির সৃষ্টিকর্ম। কবি জানেন, মহাকাল তাঁর সৃষ্টিকর্মকে গ্রহণ করলেও সেখানে তাঁর ঠাঁই নেই, তেমনটি দেখা যায় এ কবিতার কৃষকের ক্ষেত্রে। কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের সবটুকু মাঝির নৌকায় তুলে দেওয়ার পর সেখানে তাঁর নিজের জন্য জায়গা থাকে না। মহাকালের নিয়মের কাছে ব্যক্তি মানুষের এই চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটিই কবি কৃষক চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন । উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরী একজন ডাকসাইটে জমিদার ছিলেন। তাছাড়া প্রজ্ঞা ও প্রতিভায়ও ছিলেন সবার শীর্ষে। তাঁর জীবনে অর্জিত সকল সম্পদ দিয়ে তিনি তাঁর ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন । এখন তাঁর ছেলে মেয়েরা বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অথচ নারায়ণ চৌধুরীর খোঁজখবর নেওয়ার সময়ও তাদের নেই। তাই বলা যায়, নারায়ণ চৌধুরীর জীবনের সকল অর্জন তাঁর সন্তানেরা নিজেদের কাজে লাগালেও পিতার দায়িত্ব তারা কেউ নেয়নি। সুতরাং, নিষ্ঠুর পৃথিবী শুধু মানুষের কর্মফলকেই বহন করে ব্যক্তি মানুষটার খোঁজ কেউ রাখে না। যা আলোচ্য কবিতার কৃষকের ক্ষেত্রেও সত্য।
ঘ
'সৃষ্টিকর্ম সর্বদা মূল্যবান, সৃষ্টিকর্তা নয়'- উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

পৃথিবী মানুষের কর্মফল গ্রহণ করলেও ব্যক্তি মানুষটাকে হারিয়ে যেতে হয় কালের অতল গহ্বরে। সময়ের পরিক্রমায় ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হয় ঠিকই। কিন্তু তার সৃষ্টিশীল কর্মের মৃত্যু নেই। সংগত কারণেই মানুষের মৃত্যুর পরও তার সৃষ্টিকর্ম টিকে যায়। রূপকের আড়ালে এ ভাবসত্যটিই উন্মোচিত হয়েছে আলোচ্য কবিতাটিতে। সেখানে দেখা যায়, বিরূপ পরিবেশে ধান কাটার পর এক কৃষক মাঝিকে তাঁর ধান তুলে নেওয়ার জন্য আর্জি জানালে মাঝি তাঁর কর্মফলরূপী ধান নৌকায় তুলে নেয়, কিন্তু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের আশ্রয় মেলে না। অর্থাৎ, মানুষের মহৎ কর্ম মহাকালের মাঝে ঠাঁই পেলেও ব্যক্তি মানুষকে অবধারিতভাবেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হয় । জমিদার নারায়ণ চৌধুরী জীবনের সকল জ্ঞান ও সম্পদ উজাড় করে নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলেন।তারা এখন বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অথচ নারায়ণ চৌধুরীর খোঁজখবর নেওয়ার কেউ নেই। সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যান না। নিজ বাড়িতে তাঁর একা একা দিন কাটে। সময় পরিকল্পনায় অনিবার্যভাবে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও তার সৃষ্টিকর্মের মৃত্যু নেই। মাঝি সে মহাকালের প্রতীক। সে কৃষকের উৎপাদিত ফসল নৌকায় তুলে নিলেও কৃষককে তীরেই ফেলে রেখে চলে যায়। ঠিক তেমনি, নারায়ণ চৌধুরীর সকল ধন-সম্পদ ও জ্ঞান গরিমা তাঁর সন্তানরা গ্রহণ করলেও নারায়ণ চৌধুরীকে গ্রহণ করেননি। তাঁকে একা একাই জীবনের শেষ পরিণতির দিকে এগোতে হবে। তাই বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা নয়, সৃষ্টিকর্মই মুখ্য এই পৃথিবীর বুকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এক সময়ের ডাকসাইটে জমিদার নারায়ণ চৌধুরী প্রজ্ঞা ও প্রতিভায় ছিলেন সবার শীর্ষে। তাঁর জীবনের অর্জিত সম্পদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বাবার খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় নেই তাঁদের কারও। বার্ধক্যের এই সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যাননি সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে। এখন তাঁর সময় কাটে নিজের বাড়িতে একেবারে একা একা।

Chittagong · 2022

ক
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর

'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
খ
'শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে মহাকালের কাছে ব্যক্তিমানুষের চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি এক নিঃসঙ্গ কৃষকের রূপকে জীবনের এক গভীর সত্যকে তুলে ধরেছেন। মহাকাল কৃষকের কর্মফলের প্রতীক সোনার ধানকে গ্রহণ করলেও তাঁকে গ্রহণ করে না। ফলে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য । প্রশ্নোক্ত চরণটিতে শূন্য নদীর তীরে কৃষকের পড়ে থাকার চিত্র উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কবি এ বিষয়টিকেই উপস্থাপন করেছেন।
গ
উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকের কোন দিকটির মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকের ব্যক্তি মানুষটির চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটি মিল রয়েছে। এ কবিতায় কৃষক শিল্পস্রষ্টা কবির প্রতীক। এখানে কৃষকের উৎপাদিত ফসল মূলত কবির সৃষ্টিকর্ম। কবি জানেন, মহাকাল তাঁর সৃষ্টিকর্মকে গ্রহণ করলেও সেখানে তাঁর ঠাঁই নেই, তেমনটি দেখা যায় এ কবিতার কৃষকের ক্ষেত্রে। কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের সবটুকু মাঝির নৌকায় তুলে দেওয়ার পর সেখানে তাঁর নিজের জন্য জায়গা থাকে না। মহাকালের নিয়মের কাছে ব্যক্তি মানুষের এই চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটিই কবি কৃষক চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন । উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরী একজন ডাকসাইটে জমিদার ছিলেন। তাছাড়া প্রজ্ঞা ও প্রতিভায়ও ছিলেন সবার শীর্ষে। তাঁর জীবনে অর্জিত সকল সম্পদ দিয়ে তিনি তাঁর ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন । এখন তাঁর ছেলে মেয়েরা বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অথচ নারায়ণ চৌধুরীর খোঁজখবর নেওয়ার সময়ও তাদের নেই। তাই বলা যায়, নারায়ণ চৌধুরীর জীবনের সকল অর্জন তাঁর সন্তানেরা নিজেদের কাজে লাগালেও পিতার দায়িত্ব তারা কেউ নেয়নি। সুতরাং, নিষ্ঠুর পৃথিবী শুধু মানুষের কর্মফলকেই বহন করে ব্যক্তি মানুষটার খোঁজ কেউ রাখে না। যা আলোচ্য কবিতার কৃষকের ক্ষেত্রেও সত্য।
ঘ
'সৃষ্টিকর্ম সর্বদা মূল্যবান, সৃষ্টিকর্তা নয়'- উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

পৃথিবী মানুষের কর্মফল গ্রহণ করলেও ব্যক্তি মানুষটাকে হারিয়ে যেতে হয় কালের অতল গহ্বরে। সময়ের পরিক্রমায় ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হয় ঠিকই। কিন্তু তার সৃষ্টিশীল কর্মের মৃত্যু নেই। সংগত কারণেই মানুষের মৃত্যুর পরও তার সৃষ্টিকর্ম টিকে যায়। রূপকের আড়ালে এ ভাবসত্যটিই উন্মোচিত হয়েছে আলোচ্য কবিতাটিতে। সেখানে দেখা যায়, বিরূপ পরিবেশে ধান কাটার পর এক কৃষক মাঝিকে তাঁর ধান তুলে নেওয়ার জন্য আর্জি জানালে মাঝি তাঁর কর্মফলরূপী ধান নৌকায় তুলে নেয়, কিন্তু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের আশ্রয় মেলে না। অর্থাৎ, মানুষের মহৎ কর্ম মহাকালের মাঝে ঠাঁই পেলেও ব্যক্তি মানুষকে অবধারিতভাবেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হয় । জমিদার নারায়ণ চৌধুরী জীবনের সকল জ্ঞান ও সম্পদ উজাড় করে নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলেন।তারা এখন বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অথচ নারায়ণ চৌধুরীর খোঁজখবর নেওয়ার কেউ নেই। সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যান না। নিজ বাড়িতে তাঁর একা একা দিন কাটে। সময় পরিকল্পনায় অনিবার্যভাবে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও তার সৃষ্টিকর্মের মৃত্যু নেই। মাঝি সে মহাকালের প্রতীক। সে কৃষকের উৎপাদিত ফসল নৌকায় তুলে নিলেও কৃষককে তীরেই ফেলে রেখে চলে যায়। ঠিক তেমনি, নারায়ণ চৌধুরীর সকল ধন-সম্পদ ও জ্ঞান গরিমা তাঁর সন্তানরা গ্রহণ করলেও নারায়ণ চৌধুরীকে গ্রহণ করেননি। তাঁকে একা একাই জীবনের শেষ পরিণতির দিকে এগোতে হবে। তাই বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা নয়, সৃষ্টিকর্মই মুখ্য এই পৃথিবীর বুকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ওরে মোর মূঢ় মেয়ে। কে রে তুই, কোথা হতে কী শক্তি পেয়ে কহিলি এমন কথা, এত স্পর্ধা ভরে- “যেতে আমি দিব না তোমায়।” চরাচরে কাহারে রাখিবি ধরে' দুটি ছোট হাতে, গরবিনী সংগ্রাম করিবি কার সাথে বসি গৃহদ্বার প্রান্তে প্রান্ত ক্ষুদ্র দেহ শুধু লয়ে ওইটুকু বুক ভরা স্নেহ!

Barisal · 2022

ক
'আমি একেলা'- এখানে 'আমি' কে?

উত্তর

'আমি একেলা'- এখানে 'আমি' হলো কৃষক কিংবা শিল্পস্রষ্টা কৰি।
খ
“ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা”- বাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।

উত্তর

ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা' বলতে কবি বুঝিয়েছেন বর্ষার ভরা নদীতে বয়ে চলা স্রোত ক্ষুর ও বর্শার মতোই ধারালো। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। 'সোনার তরী' কবিতায় ভরা বর্ষায় নদীর আগ্রাসী এই স্রোতকে কবি ক্ষুরধারা খরপরশা বলেছেন। এই ঘূর্ণায়মান স্রোত ছোটো ধানখেতটির চারপাশে ভয়ংকররূপে বিরাজমান।।আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা কবি সেই সব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকেই বুঝিয়েছেন ।
গ
উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় কতটুকু প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় সামান্যই প্রকাশ পেয়েছে। সোনার তরী' কাব্যে কবির মহাকালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার গভীর জীবন দর্শন ফুটে উঠেছে। এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের ব্যক্তিসত্তা টিকে থাকে না । ব্যাক্তিসত্তা হারিয়ে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকে অনন্তকালব্যাপী। ধরায় শিল্পস্রষ্টার ঠাই না হলেও তার শিল্পসৃষ্টি সবার কাছেই সমাদৃত হয় । উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে ব্যক্তিসত্তাকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা। মূঢ় মেয়ে বিশ্ব চরাচরে ধরে রাখতে চায় ব্যক্তি সত্তাকে। তাকে সে যেতে দেবে না বলে প্রকাশ করে।'কিন্তু ব্যক্তিসত্তা জানে তাকে এই পৃথিবী এক সময় ছেড়ে যেতেই হবে। উদ্দীপকের এই বোধ 'সোনার তরী' কবিতার গভীর জীবন দর্শনের আংশিকই প্রকাশ করেছে। কবিতায় কবি মহাকালের নিষ্ঠুর কবলে গ্রাস হওয়ার কথা বলেছেন। তার রাশি রাশি সৃষ্টিকর্ম সবাই গ্রহণ করলেও কালের নিষ্ঠুর নিয়মে তাঁর সেখানে স্থান হয় না। মহাকালের স্রোতে জীবন-- যৌবন ভেসে যায় । কেবল বেঁচে থাকে তার সৃষ্ট সোনার ফসল । এই সুতীব্র কাব্যিক প্রকাশ উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবনদর্শন আংশিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র ।
ঘ
'সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি- আলোচনা কর।

উত্তর

'মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষেরই সৃষ্টি সোনার ফসল'– 'সোনার তরী' কবিতার এই ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি । সোনার তরী' কবিতায় কবি একজন কৃষকরূপী শিল্পস্রষ্টা। তাঁর সোনালি ফসলের ঠাঁই জগতে হলেও স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে কেউ আগলে রাখে না । মহাকালের নিষ্ঠুরতার তাঁর শারীরিক অস্তিত্ব হারিয়ে যায় অতলে। কেউমনে রাখে না শিল্পের স্রষ্টাকে, কেবল তাঁর সৃষ্টিই হয় পূজনীয় । উদ্দীপকে কবিতাংশের ভাব আলোচ্য কবিতার ভাববস্তুর মতো নয়।বিস্তৃত জীবনকে জগতে ধরে রাখার ভাব সেখানে ফুটে উঠেছে।যে জগতে কেউ চিরস্থায়ী না সেখানে মূঢ় মেয়ে ব্যক্তিসত্তাকে যেতে দিতে চায় না।সে ছোটে দুটি হাতে আগলে রাখতে চায় ব্যক্তিকে। তার মনে স্নেহভরা শক্তি সঞ্চারিত হয়ে শারীরিক সত্তাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।কীভাবে কার সাথে সংগ্রাম করে সে এভাবে ব্যক্তির অস্তিত্ব ধরে রাখার সাহস করে তা প্রশ্নসাপেক্ষ সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু উদ্দীপকের মতো সংকুচিত নয়। সেখানে ব্যক্তির ব্যথা, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ হয়েছে। খরস্রোতা নদীতে নৌকার মাঝি কৃষকের রাশি রাশি ধান তুলে নেয় ঠিকই, কিন্তু সেই ফসলের | মালিকের স্থান হয় না মাঝির নৌকায়। তরী বেয়ে সব ধান নিয়ে গেলেও চাষি পড়ে থাকে চারদিকে তীব্র স্রোত বয়ে যাওয়া শূন্য দ্বীপে। এ জগতে সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকলেও স্রষ্টার শারীরিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। মহাকালের স্রোতে ভেসে যায় জীবন-যৌবন। কালের নিষ্ঠুর করালগ্রাসে ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে নিশ্চিহ্ন হয়। কবির এই মর্মবেদনার ভাববস্তু উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি। কেবল মূঢ় মেয়ের ব্যক্তিকে ধরে রাখার মনোবাসনা প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। তাই বলা যায়, “আলোচ্য উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি” – মন্তব্যটি যথার্থ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ওরে মোর মূঢ় মেয়ে। কে রে তুই, কোথা হতে কী শক্তি পেয়ে কহিলি এমন কথা, এত স্পর্ধা ভরে- “যেতে আমি দিব না তোমায়।” চরাচরে কাহারে রাখিবি ধরে' দুটি ছোট হাতে, গরবিনী সংগ্রাম করিবি কার সাথে বসি গৃহদ্বার প্রান্তে প্রান্ত ক্ষুদ্র দেহ শুধু লয়ে ওইটুকু বুক ভরা স্নেহ!

Barisal · 2022

ক
'আমি একেলা'- এখানে 'আমি' কে?

উত্তর

'আমি একেলা'- এখানে 'আমি' হলো কৃষক কিংবা শিল্পস্রষ্টা কৰি।
খ
“ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা”- বাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।

উত্তর

ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা' বলতে কবি বুঝিয়েছেন বর্ষার ভরা নদীতে বয়ে চলা স্রোত ক্ষুর ও বর্শার মতোই ধারালো। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। 'সোনার তরী' কবিতায় ভরা বর্ষায় নদীর আগ্রাসী এই স্রোতকে কবি ক্ষুরধারা খরপরশা বলেছেন। এই ঘূর্ণায়মান স্রোত ছোটো ধানখেতটির চারপাশে ভয়ংকররূপে বিরাজমান।।আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা কবি সেই সব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকেই বুঝিয়েছেন ।
গ
উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় কতটুকু প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় সামান্যই প্রকাশ পেয়েছে। সোনার তরী' কাব্যে কবির মহাকালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার গভীর জীবন দর্শন ফুটে উঠেছে। এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের ব্যক্তিসত্তা টিকে থাকে না । ব্যাক্তিসত্তা হারিয়ে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকে অনন্তকালব্যাপী। ধরায় শিল্পস্রষ্টার ঠাই না হলেও তার শিল্পসৃষ্টি সবার কাছেই সমাদৃত হয় । উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে ব্যক্তিসত্তাকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা। মূঢ় মেয়ে বিশ্ব চরাচরে ধরে রাখতে চায় ব্যক্তি সত্তাকে। তাকে সে যেতে দেবে না বলে প্রকাশ করে।'কিন্তু ব্যক্তিসত্তা জানে তাকে এই পৃথিবী এক সময় ছেড়ে যেতেই হবে। উদ্দীপকের এই বোধ 'সোনার তরী' কবিতার গভীর জীবন দর্শনের আংশিকই প্রকাশ করেছে। কবিতায় কবি মহাকালের নিষ্ঠুর কবলে গ্রাস হওয়ার কথা বলেছেন। তার রাশি রাশি সৃষ্টিকর্ম সবাই গ্রহণ করলেও কালের নিষ্ঠুর নিয়মে তাঁর সেখানে স্থান হয় না। মহাকালের স্রোতে জীবন-- যৌবন ভেসে যায় । কেবল বেঁচে থাকে তার সৃষ্ট সোনার ফসল । এই সুতীব্র কাব্যিক প্রকাশ উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবনদর্শন আংশিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র ।
ঘ
'সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি- আলোচনা কর।

উত্তর

'মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষেরই সৃষ্টি সোনার ফসল'– 'সোনার তরী' কবিতার এই ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি । সোনার তরী' কবিতায় কবি একজন কৃষকরূপী শিল্পস্রষ্টা। তাঁর সোনালি ফসলের ঠাঁই জগতে হলেও স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে কেউ আগলে রাখে না । মহাকালের নিষ্ঠুরতার তাঁর শারীরিক অস্তিত্ব হারিয়ে যায় অতলে। কেউমনে রাখে না শিল্পের স্রষ্টাকে, কেবল তাঁর সৃষ্টিই হয় পূজনীয় । উদ্দীপকে কবিতাংশের ভাব আলোচ্য কবিতার ভাববস্তুর মতো নয়।বিস্তৃত জীবনকে জগতে ধরে রাখার ভাব সেখানে ফুটে উঠেছে।যে জগতে কেউ চিরস্থায়ী না সেখানে মূঢ় মেয়ে ব্যক্তিসত্তাকে যেতে দিতে চায় না।সে ছোটে দুটি হাতে আগলে রাখতে চায় ব্যক্তিকে। তার মনে স্নেহভরা শক্তি সঞ্চারিত হয়ে শারীরিক সত্তাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।কীভাবে কার সাথে সংগ্রাম করে সে এভাবে ব্যক্তির অস্তিত্ব ধরে রাখার সাহস করে তা প্রশ্নসাপেক্ষ সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু উদ্দীপকের মতো সংকুচিত নয়। সেখানে ব্যক্তির ব্যথা, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ হয়েছে। খরস্রোতা নদীতে নৌকার মাঝি কৃষকের রাশি রাশি ধান তুলে নেয় ঠিকই, কিন্তু সেই ফসলের | মালিকের স্থান হয় না মাঝির নৌকায়। তরী বেয়ে সব ধান নিয়ে গেলেও চাষি পড়ে থাকে চারদিকে তীব্র স্রোত বয়ে যাওয়া শূন্য দ্বীপে। এ জগতে সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকলেও স্রষ্টার শারীরিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। মহাকালের স্রোতে ভেসে যায় জীবন-যৌবন। কালের নিষ্ঠুর করালগ্রাসে ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে নিশ্চিহ্ন হয়। কবির এই মর্মবেদনার ভাববস্তু উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি। কেবল মূঢ় মেয়ের ব্যক্তিকে ধরে রাখার মনোবাসনা প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। তাই বলা যায়, “আলোচ্য উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি” – মন্তব্যটি যথার্থ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে প্রেম ও দ্রোহের বার্তা সমানভাবে। বঞ্চিত মানুষরা তাঁর লেখায় খুঁজে পান উজ্জীবনের মন্ত্র। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। অথচ তাঁর কবিতা ও গান আজও প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। তাই তো তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন আপামর জনসাধারণের মাঝে।

Sylhet · 2022

ক
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর

'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
খ
“চারি দিকে বাঁকা জল”- চরণটিতে কিসের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা'- চরণটির মধ্য দিয়ে বর্ষার জলস্রোতবেষ্টিত ছোটো জমিটুকুর বিলীন হওয়ার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি ব্যক্ত হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় কবি নানা রূপক এবং দৃশ্যের অবতারণা ঘটিয়েছেন । উদ্ধৃত অংশের মধ্য দিয়ে তেমনই অসাধারণ একটি দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে । কবিতায় ধানখেতটি ছোটো দ্বীপের মতো কল্পিত। তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। নদীর 'বাঁকা জলস্রোত' পরিবেষ্টিত ছোট্ট জমিটুকুর আশু বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এ অংশে । এখানে বাঁকা জল কালস্রোতের প্রতীক।
গ
'সোনার তরী' কবিতার কোন দিকটি উদ্দীপকের কবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় রূপকের আশ্রয়ে মানবজীবনের গূঢ় দর্শন প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় বাহ্যরূপে বর্ষার হিংস্র স্রোত পরিবেষ্টিত ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করেন এক কৃষক। একসময় ভরা পালে সোনার তরী বেয়ে চলে যেতে থাকা এক মাঝিকে ধানগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতর অনুনয় করেন তিনি। মাঝি তাঁর ধানগুলো তরীতে তুলে নেয়; কিন্তু ব্যক্তিকৃষকের সেখানে স্থান হয় না । উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে। নিজ লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা দিয়েছেন তিনি। অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তিনি আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। সংগত কারণেই বাঙালির মনের মণিকোঠায় আসন লাভ করেছেন তিনি। আজও বাঙালিরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। অর্থাৎ, ব্যক্তি নজরুলের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিনাশ হয়নি। 'সোনার তরী' কবিতাতেও কবি ব্যক্তি মানুষের বিপরীতে মহাকালের কালস্রোতে কর্মফলের টিকে যাওয়ার কথা মৃত্যুর বলেছেন, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত কবি নজরুলের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বিধৃত কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কবি নজরুল বেঁচে না থাকলেও বেঁচে আছে তাঁর কর্ম। বাংলা ভাষায় এক বিদ্রোহ, সাম্য ও অধিকারের কথা লিখে সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি আজও তাঁর প্রেরণা জোগান সাধারণ মানুষের অন্তরে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো কের। আমাদের শক্তি দেয়, সাহস জোগায়। যেকোনো সংগ্রামে-সমরে তাঁকে আমরা স্মরণ করি। উদ্দীপকে এ ভাবটি ব্যক্ত হওয়ায় বলা যায় যে, | আলোচ্য কবিতার অন্তর্নিহিত জীবনদর্শন উদ্দীপকে যথাযথভাবে । চরে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে সময়ের বহমানতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সময় পরিক্রমায় ব্যক্তিমানুষ একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়; শুধু টিকে থাকে তার সোনার ধান বা কর্মফল ।
ঘ
“কর্ম নয়, কর্মই অবিনশ্বর”- উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

মানুষ চলে গেলেও তার কর্ম পৃথিবীতে থেকে যায়, উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতায় এ বিষয়টিই বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। 'সোনার তরী' কবিতার মূলকথা হলো, মহাকাল মানুষের কর্মকে সযত্নে যুগের পর যুগ ধরে রাখলেও কর্মের স্রষ্টাকে ধরে রাখে না। মানুষের সৃষ্টিকর্ম অবিনশ্বর হলেও মানুষের জীবন নশ্বর। অনাদিকাল ধরে জগতের ই নিয়ম একই। হাজার বছরের পুরোনো কীর্তি টিকে থাকলেও তাদের যাঁরা সৃষ্টি করেছিল তাঁরা কেউই বেঁচে নেই। যদিও তাঁরা তাঁদের কর্মের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন, কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে পারেননি। 'সোনার তরী' কবিতায় কর্মের এই অবিনশ্বরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে উল্লেখ্য কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে অধিকার-সচেতন করে তুলেছেন। জাতির মুক্তির লক্ষ্যে রচিত তাঁর দ্রোহের বাণী বাঙালিকে শ্রেণিসংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো বাঙালির আত্মপ্রেরণার উৎস। মহৎ কর্মের জন্যই আজও বাঙালি জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। উদ্দীপকে কর্মের অমরত্বের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় বৈরী পরিবেশে এক কৃষকের রূপকে এক গভীর জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। তিনি মনে করেন, মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষ বা কবিতার কৃষক হারিয়ে যাবেন ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকবে তাঁর সোনার ধান বা কর্মফল। কবিতায় নির্দেশিত এ কর্মফল প্রকৃতপক্ষে | উদ্দীপকে বর্ণিত কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের ইঙ্গিতবাহী। | মহাকালের স্রোতে ব্যক্তি নজরুল হারিয়ে গেছেন ঠিকই; কিন্তু তাঁর কীর্তির মৃত্যু হয়নি। সৃষ্টিকর্মের ভেতর দিয়েই অমরত্ব পেয়েছেন তিনি। আলোচ্য কবিতার অন্তরালেও সৃষ্টিকর্মের অমরতার এ দিকটিই প্রকাশ হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ৷

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে প্রেম ও দ্রোহের বার্তা সমানভাবে। বঞ্চিত মানুষরা তাঁর লেখায় খুঁজে পান উজ্জীবনের মন্ত্র। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। অথচ তাঁর কবিতা ও গান আজও প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। তাই তো তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন আপামর জনসাধারণের মাঝে।

Sylhet · 2022

ক
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর

'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
খ
“চারি দিকে বাঁকা জল”- চরণটিতে কিসের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা'- চরণটির মধ্য দিয়ে বর্ষার জলস্রোতবেষ্টিত ছোটো জমিটুকুর বিলীন হওয়ার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি ব্যক্ত হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় কবি নানা রূপক এবং দৃশ্যের অবতারণা ঘটিয়েছেন । উদ্ধৃত অংশের মধ্য দিয়ে তেমনই অসাধারণ একটি দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে । কবিতায় ধানখেতটি ছোটো দ্বীপের মতো কল্পিত। তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। নদীর 'বাঁকা জলস্রোত' পরিবেষ্টিত ছোট্ট জমিটুকুর আশু বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এ অংশে । এখানে বাঁকা জল কালস্রোতের প্রতীক।
গ
'সোনার তরী' কবিতার কোন দিকটি উদ্দীপকের কবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় রূপকের আশ্রয়ে মানবজীবনের গূঢ় দর্শন প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় বাহ্যরূপে বর্ষার হিংস্র স্রোত পরিবেষ্টিত ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করেন এক কৃষক। একসময় ভরা পালে সোনার তরী বেয়ে চলে যেতে থাকা এক মাঝিকে ধানগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতর অনুনয় করেন তিনি। মাঝি তাঁর ধানগুলো তরীতে তুলে নেয়; কিন্তু ব্যক্তিকৃষকের সেখানে স্থান হয় না । উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে। নিজ লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা দিয়েছেন তিনি। অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তিনি আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। সংগত কারণেই বাঙালির মনের মণিকোঠায় আসন লাভ করেছেন তিনি। আজও বাঙালিরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। অর্থাৎ, ব্যক্তি নজরুলের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিনাশ হয়নি। 'সোনার তরী' কবিতাতেও কবি ব্যক্তি মানুষের বিপরীতে মহাকালের কালস্রোতে কর্মফলের টিকে যাওয়ার কথা মৃত্যুর বলেছেন, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত কবি নজরুলের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বিধৃত কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কবি নজরুল বেঁচে না থাকলেও বেঁচে আছে তাঁর কর্ম। বাংলা ভাষায় এক বিদ্রোহ, সাম্য ও অধিকারের কথা লিখে সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি আজও তাঁর প্রেরণা জোগান সাধারণ মানুষের অন্তরে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো কের। আমাদের শক্তি দেয়, সাহস জোগায়। যেকোনো সংগ্রামে-সমরে তাঁকে আমরা স্মরণ করি। উদ্দীপকে এ ভাবটি ব্যক্ত হওয়ায় বলা যায় যে, | আলোচ্য কবিতার অন্তর্নিহিত জীবনদর্শন উদ্দীপকে যথাযথভাবে । চরে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে সময়ের বহমানতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সময় পরিক্রমায় ব্যক্তিমানুষ একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়; শুধু টিকে থাকে তার সোনার ধান বা কর্মফল ।
ঘ
“কর্ম নয়, কর্মই অবিনশ্বর”- উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

মানুষ চলে গেলেও তার কর্ম পৃথিবীতে থেকে যায়, উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতায় এ বিষয়টিই বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। 'সোনার তরী' কবিতার মূলকথা হলো, মহাকাল মানুষের কর্মকে সযত্নে যুগের পর যুগ ধরে রাখলেও কর্মের স্রষ্টাকে ধরে রাখে না। মানুষের সৃষ্টিকর্ম অবিনশ্বর হলেও মানুষের জীবন নশ্বর। অনাদিকাল ধরে জগতের ই নিয়ম একই। হাজার বছরের পুরোনো কীর্তি টিকে থাকলেও তাদের যাঁরা সৃষ্টি করেছিল তাঁরা কেউই বেঁচে নেই। যদিও তাঁরা তাঁদের কর্মের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন, কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে পারেননি। 'সোনার তরী' কবিতায় কর্মের এই অবিনশ্বরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে উল্লেখ্য কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে অধিকার-সচেতন করে তুলেছেন। জাতির মুক্তির লক্ষ্যে রচিত তাঁর দ্রোহের বাণী বাঙালিকে শ্রেণিসংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো বাঙালির আত্মপ্রেরণার উৎস। মহৎ কর্মের জন্যই আজও বাঙালি জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। উদ্দীপকে কর্মের অমরত্বের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 'সোনার তরী' কবিতায় বৈরী পরিবেশে এক কৃষকের রূপকে এক গভীর জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। তিনি মনে করেন, মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষ বা কবিতার কৃষক হারিয়ে যাবেন ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকবে তাঁর সোনার ধান বা কর্মফল। কবিতায় নির্দেশিত এ কর্মফল প্রকৃতপক্ষে | উদ্দীপকে বর্ণিত কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের ইঙ্গিতবাহী। | মহাকালের স্রোতে ব্যক্তি নজরুল হারিয়ে গেছেন ঠিকই; কিন্তু তাঁর কীর্তির মৃত্যু হয়নি। সৃষ্টিকর্মের ভেতর দিয়েই অমরত্ব পেয়েছেন তিনি। আলোচ্য কবিতার অন্তরালেও সৃষ্টিকর্মের অমরতার এ দিকটিই প্রকাশ হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ৷

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো