HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
শীতকাল মানেই কনকনে ঠান্ডা, শুষ্ক ত্বক আর নানা অসুস্থতার ঝুঁকি। শীতের সকালে উঠতে কষ্ট হয়, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। গরম কাপড় পরা, গরম খাবার খাওয়া প্রয়োজনীয় হলেও এগুলো সবার জন্য পাওয়া সহজ নয়। অনেকে আছে যারা পুরো দীতে একটা শীতবস্ত্র কিনতে পারে না। অনেক উদ্বাস্তু রাস্তায় রাত কাটায় বিনা কম্বলে। শীতকাল সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়।
ক
'যাবক' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর
'যাবক' শব্দের অর্থ হলো আলতা।
খ
"দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ।"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ "দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ"- কথাটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাককে বোঝানো হয়েছে।
➤ কবি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রসঙ্গত তিনি এ সময় প্রাণিকুলের আনন্দিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ মুছে দিতে বর্ষা আসে। বর্ষাকালে গ্রামে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। বনে ময়ূরী ডেকে ওঠে মনের আনন্দে। এ সময় প্রকৃতিতে এক নতুন আবহ সৃষ্টি করে। মূলত মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাকে প্রকৃতি মুখর হওয়ার বিষয়টি বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।
উত্তর
➤ শীতকালের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ কবিরা ভাবুক প্রকৃতির হয়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিস্তর ফারাক। কবিরা সবকিছুর সঙ্গে জীবনকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, অন্যরা যা পারে না। ঋতুর সঙ্গে মানবমনের পরিবর্তন কবির রচনায়ই ধরা পড়ে।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তিনি সব ঋতুর পাশাপাশি শীতকালের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন। শীতকালে সূর্য তাড়াতাড়ি অস্ত যায়, সুখনিদ্রার রাত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এরূপ আরও অনেক বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের বর্ণনায়ও শীতকালের এরূপ নানা বিষয় পাওয়া যায়। শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠার কষ্ট, গরম কাপড় পরার প্রয়োজনীয়তা কবিতার শীতকালীন প্রসঙ্গ আলোচনার সঙ্গে মিলে যায়। এভাবেই শীতকালের প্রসঙ্গ বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যাচাই কর।
উত্তর
➤ "উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ষড়ঋতুর মধ্যে অন্যতম একটি ঋতু হলো শীতকাল। শীতকাল এক শ্রেণির মানুষের কাছে যেমন অনেক সুখ ও আরামের তেমনই অন্য শ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত কষ্টের। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষ শীতকালকে নানাভাবে উপভোগ্য করে তুলতে পারে। কিন্তু উদবাস্তু, দিনমজুর প্রভৃতি অভাগা মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খায়। তাই শীত সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। প্রসঙ্গত তিনি শীতকালের বিষয়ও বর্ণনা করেছেন। কবিতায় শীতকালের দিনের দৈর্ঘ্য ছোট আর রাতের দৈর্ঘ্য বড় এরূপ বিষয় বলা হয়েছে। পাশাপাশি শীতকালে দাম্পত্য জীবনের চিত্তের সুখ অনুভবের কথা বলা হয়েছে। এখানে শীতকালের দরিদ্র জীবনের কোনো ইঙ্গিত নেই।। অন্যদিকে উদ্দীপকে শীতকালে দরিদ্র জীবনের কষ্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
➤ উদ্দীপকে শীতকালের নিম্নবিত্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বাস্তু মানুষের শীতকালের কষ্টের কথাই উদ্দীপকের মূল কথা। দারিদ্র্য তাদের জীবনের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে; কবিতায় শীতকালের অন্যান্য বিষয় থাকলেও দরিদ্র শ্রেণির কথা নেই। এখানে জনজীবনে শীতের প্রভাব আংশিক। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো