কবিতা : ঋতু-বর্ণন Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : ঋতু-বর্ণন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৫২

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শীতকাল মানেই কনকনে ঠান্ডা, শুষ্ক ত্বক আর নানা অসুস্থতার ঝুঁকি। শীতের সকালে উঠতে কষ্ট হয়, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। গরম কাপড় পরা, গরম খাবার খাওয়া প্রয়োজনীয় হলেও এগুলো সবার জন্য পাওয়া সহজ নয়। অনেকে আছে যারা পুরো দীতে একটা শীতবস্ত্র কিনতে পারে না। অনেক উদ্বাস্তু রাস্তায় রাত কাটায় বিনা কম্বলে। শীতকাল সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়।
ক
'যাবক' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'যাবক' শব্দের অর্থ হলো আলতা।
খ
"দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ "দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ"- কথাটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাককে বোঝানো হয়েছে। ➤ কবি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রসঙ্গত তিনি এ সময় প্রাণিকুলের আনন্দিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ মুছে দিতে বর্ষা আসে। বর্ষাকালে গ্রামে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। বনে ময়ূরী ডেকে ওঠে মনের আনন্দে। এ সময় প্রকৃতিতে এক নতুন আবহ সৃষ্টি করে। মূলত মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাকে প্রকৃতি মুখর হওয়ার বিষয়টি বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

উত্তর

➤ শীতকালের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ কবিরা ভাবুক প্রকৃতির হয়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিস্তর ফারাক। কবিরা সবকিছুর সঙ্গে জীবনকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, অন্যরা যা পারে না। ঋতুর সঙ্গে মানবমনের পরিবর্তন কবির রচনায়ই ধরা পড়ে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তিনি সব ঋতুর পাশাপাশি শীতকালের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন। শীতকালে সূর্য তাড়াতাড়ি অস্ত যায়, সুখনিদ্রার রাত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এরূপ আরও অনেক বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের বর্ণনায়ও শীতকালের এরূপ নানা বিষয় পাওয়া যায়। শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠার কষ্ট, গরম কাপড় পরার প্রয়োজনীয়তা কবিতার শীতকালীন প্রসঙ্গ আলোচনার সঙ্গে মিলে যায়। এভাবেই শীতকালের প্রসঙ্গ বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ ষড়ঋতুর মধ্যে অন্যতম একটি ঋতু হলো শীতকাল। শীতকাল এক শ্রেণির মানুষের কাছে যেমন অনেক সুখ ও আরামের তেমনই অন্য শ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত কষ্টের। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষ শীতকালকে নানাভাবে উপভোগ্য করে তুলতে পারে। কিন্তু উদবাস্তু, দিনমজুর প্রভৃতি অভাগা মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খায়। তাই শীত সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। প্রসঙ্গত তিনি শীতকালের বিষয়ও বর্ণনা করেছেন। কবিতায় শীতকালের দিনের দৈর্ঘ্য ছোট আর রাতের দৈর্ঘ্য বড় এরূপ বিষয় বলা হয়েছে। পাশাপাশি শীতকালে দাম্পত্য জীবনের চিত্তের সুখ অনুভবের কথা বলা হয়েছে। এখানে শীতকালের দরিদ্র জীবনের কোনো ইঙ্গিত নেই।। অন্যদিকে উদ্দীপকে শীতকালে দরিদ্র জীবনের কষ্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ➤ উদ্দীপকে শীতকালের নিম্নবিত্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বাস্তু মানুষের শীতকালের কষ্টের কথাই উদ্দীপকের মূল কথা। দারিদ্র্য তাদের জীবনের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে; কবিতায় শীতকালের অন্যান্য বিষয় থাকলেও দরিদ্র শ্রেণির কথা নেই। এখানে জনজীবনে শীতের প্রভাব আংশিক। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শীতকাল মানেই কনকনে ঠান্ডা, শুষ্ক ত্বক আর নানা অসুস্থতার ঝুঁকি। শীতের সকালে উঠতে কষ্ট হয়, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। গরম কাপড় পরা, গরম খাবার খাওয়া প্রয়োজনীয় হলেও এগুলো সবার জন্য পাওয়া সহজ নয়। অনেকে আছে যারা পুরো দীতে একটা শীতবস্ত্র কিনতে পারে না। অনেক উদ্বাস্তু রাস্তায় রাত কাটায় বিনা কম্বলে। শীতকাল সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়।
ক
'যাবক' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'যাবক' শব্দের অর্থ হলো আলতা।
খ
"দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ "দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ"- কথাটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাককে বোঝানো হয়েছে। ➤ কবি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রসঙ্গত তিনি এ সময় প্রাণিকুলের আনন্দিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ মুছে দিতে বর্ষা আসে। বর্ষাকালে গ্রামে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। বনে ময়ূরী ডেকে ওঠে মনের আনন্দে। এ সময় প্রকৃতিতে এক নতুন আবহ সৃষ্টি করে। মূলত মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাকে প্রকৃতি মুখর হওয়ার বিষয়টি বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

উত্তর

➤ শীতকালের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ কবিরা ভাবুক প্রকৃতির হয়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিস্তর ফারাক। কবিরা সবকিছুর সঙ্গে জীবনকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, অন্যরা যা পারে না। ঋতুর সঙ্গে মানবমনের পরিবর্তন কবির রচনায়ই ধরা পড়ে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তিনি সব ঋতুর পাশাপাশি শীতকালের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন। শীতকালে সূর্য তাড়াতাড়ি অস্ত যায়, সুখনিদ্রার রাত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এরূপ আরও অনেক বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের বর্ণনায়ও শীতকালের এরূপ নানা বিষয় পাওয়া যায়। শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠার কষ্ট, গরম কাপড় পরার প্রয়োজনীয়তা কবিতার শীতকালীন প্রসঙ্গ আলোচনার সঙ্গে মিলে যায়। এভাবেই শীতকালের প্রসঙ্গ বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের শীতকাল আর 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের রূপের ভিন্নতা রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ ষড়ঋতুর মধ্যে অন্যতম একটি ঋতু হলো শীতকাল। শীতকাল এক শ্রেণির মানুষের কাছে যেমন অনেক সুখ ও আরামের তেমনই অন্য শ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত কষ্টের। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষ শীতকালকে নানাভাবে উপভোগ্য করে তুলতে পারে। কিন্তু উদবাস্তু, দিনমজুর প্রভৃতি অভাগা মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খায়। তাই শীত সবার জন্য পিঠার উৎসব নয়। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। প্রসঙ্গত তিনি শীতকালের বিষয়ও বর্ণনা করেছেন। কবিতায় শীতকালের দিনের দৈর্ঘ্য ছোট আর রাতের দৈর্ঘ্য বড় এরূপ বিষয় বলা হয়েছে। পাশাপাশি শীতকালে দাম্পত্য জীবনের চিত্তের সুখ অনুভবের কথা বলা হয়েছে। এখানে শীতকালের দরিদ্র জীবনের কোনো ইঙ্গিত নেই।। অন্যদিকে উদ্দীপকে শীতকালে দরিদ্র জীবনের কষ্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ➤ উদ্দীপকে শীতকালের নিম্নবিত্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বাস্তু মানুষের শীতকালের কষ্টের কথাই উদ্দীপকের মূল কথা। দারিদ্র্য তাদের জীবনের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে; কবিতায় শীতকালের অন্যান্য বিষয় থাকলেও দরিদ্র শ্রেণির কথা নেই। এখানে জনজীবনে শীতের প্রভাব আংশিক। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতুরই পরিপূর্ণ প্রকাশ বাংলায় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মের দাবদাহের পর প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। বর্ষার ঝুম বৃষ্টির পর নির্মল আকাশ নিয়ে কাশফুলের সমারোহে প্রকৃতিতে আসে শরৎকাল। শরতের পর আসে হেমন্ত, তখন প্রকৃতি আবার সাজে ভিন্ন রূপে। এরপর রুক্ষতা নিয়ে আসে শীত। তখন প্রকৃতিতে থাকে না সজীবতা। এরপর সব রুক্ষতাকে বিদায় করে আসে বসন্ত। ফুলে, রূপে, রসে গন্ধে চারদিক ম ম করে। তাই তো বসন্ত হলো ঋতুরাজ।
ক
'কস্তুরী' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'কস্তুরী' শব্দের অর্থ মৃগনাভি।
খ
'নিদাঘ সময়ে অতি প্রচন্ড তপন।'- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

➤ "নিদাঘ সময়ে অতি প্রচন্ড তপন।"- চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন। ➤ বসন্তের নির্মল সৌন্দর্যের পরই প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম ঋতু আসে। এ ঋতুতে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয়। কেননা এ সময় সূর্য প্রচন্ড শক্তি নিয়ে তাপ বিকিরণ করে। এর তাপ এতটাই প্রখর যে আশপাশে ছায়ার তেমন দেখাই পাওয়া যায় না। মনে হয় যেন সূর্যের খরতাপে ছায়া পায়ের নিচে লুকিয়ে থাকে। তাই আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের প্রচন্ড খরতাপকেই বুঝিয়েছেন। সারকথা: প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতা কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ ষড়ঋতুর প্রকৃতি বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ বাংলাদেশের প্রকৃতিতে ছয়টি ঋতু পালাক্রমে আসে। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক রকম বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ঋতুর এমন বৈচিত্র্য অন্যান্য স্থানের চেয়ে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। একেক ঋতু মানবমনে একেক রকম প্রভাব ফেলে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। একেক ঋতুতে প্রকৃতি যে একেক রকম রূপ ধারণ করে তা করি খুব ভালোভাবে অবলোকন করেছেন। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রৌদ্রতাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পের বাহার, শীতের প্রকোপ, বসন্তে প্রকৃতির নবসাজ- এভাবে ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির সুনিপুণ চিত্র তিনি কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকেও ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির যে বিভিন্ন রূপ তার একটা ধারণা উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে। মূলত এভাবেই প্রকৃতির ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে যেমন ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এদিক থেকেই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি। ➤ ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনেরও পরিবর্তন হয়। কেননা প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। প্রকৃতি মানুষের মন ও শরীরে দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করে তা 'ঋতু বর্ণন' কবিতা থেকে বোঝা যায়। তবে এর পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্কো মানবমনে কী ধরনের পরিবর্তন হয় সেটি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। বসন্ত ঋতুতে মানবমন প্রেমে ব্যাকুল থাকে, আবার গ্রীষ্মকালে দাম্পত্য জীবন কেমন হয়, অন্যান্য ঋতুতেও দাম্পত্যে কেমন পরিবর্তন আসে তার রূপ কবি আলোচা কবিতায় উন্মোচন করেছেন। অথচ উদ্দীপকে শুধু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তনের বিষয় ফুটে উঠেছে। ➤ উদ্দীপকে ষড়ঋতুতে প্রকৃতির কীরূপ বৈশিষ্ট্য হয় সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু কবিতায় প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি। সারকথা: উদ্দীপকে কেবল ঋতুর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের বিষয়টি আছে মানবমনের বৈচিত্র্যের বিষয়টি নেই। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন: কবিতায় প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানবমনের বৈচিত্র্যের বর বিষয় আছে। ও কারণেই বলা হয়েছে উদ্দীপকটি কবিতায় সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতুরই পরিপূর্ণ প্রকাশ বাংলায় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মের দাবদাহের পর প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। বর্ষার ঝুম বৃষ্টির পর নির্মল আকাশ নিয়ে কাশফুলের সমারোহে প্রকৃতিতে আসে শরৎকাল। শরতের পর আসে হেমন্ত, তখন প্রকৃতি আবার সাজে ভিন্ন রূপে। এরপর রুক্ষতা নিয়ে আসে শীত। তখন প্রকৃতিতে থাকে না সজীবতা। এরপর সব রুক্ষতাকে বিদায় করে আসে বসন্ত। ফুলে, রূপে, রসে গন্ধে চারদিক ম ম করে। তাই তো বসন্ত হলো ঋতুরাজ।
ক
'কস্তুরী' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'কস্তুরী' শব্দের অর্থ মৃগনাভি।
খ
'নিদাঘ সময়ে অতি প্রচন্ড তপন।'- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

➤ "নিদাঘ সময়ে অতি প্রচন্ড তপন।"- চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন। ➤ বসন্তের নির্মল সৌন্দর্যের পরই প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম ঋতু আসে। এ ঋতুতে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয়। কেননা এ সময় সূর্য প্রচন্ড শক্তি নিয়ে তাপ বিকিরণ করে। এর তাপ এতটাই প্রখর যে আশপাশে ছায়ার তেমন দেখাই পাওয়া যায় না। মনে হয় যেন সূর্যের খরতাপে ছায়া পায়ের নিচে লুকিয়ে থাকে। তাই আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের প্রচন্ড খরতাপকেই বুঝিয়েছেন। সারকথা: প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতা কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ ষড়ঋতুর প্রকৃতি বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ বাংলাদেশের প্রকৃতিতে ছয়টি ঋতু পালাক্রমে আসে। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক রকম বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ঋতুর এমন বৈচিত্র্য অন্যান্য স্থানের চেয়ে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। একেক ঋতু মানবমনে একেক রকম প্রভাব ফেলে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। একেক ঋতুতে প্রকৃতি যে একেক রকম রূপ ধারণ করে তা করি খুব ভালোভাবে অবলোকন করেছেন। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রৌদ্রতাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পের বাহার, শীতের প্রকোপ, বসন্তে প্রকৃতির নবসাজ- এভাবে ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির সুনিপুণ চিত্র তিনি কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকেও ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির যে বিভিন্ন রূপ তার একটা ধারণা উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে। মূলত এভাবেই প্রকৃতির ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে যেমন ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এদিক থেকেই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি। ➤ ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনেরও পরিবর্তন হয়। কেননা প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। প্রকৃতি মানুষের মন ও শরীরে দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করে তা 'ঋতু বর্ণন' কবিতা থেকে বোঝা যায়। তবে এর পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্কো মানবমনে কী ধরনের পরিবর্তন হয় সেটি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। বসন্ত ঋতুতে মানবমন প্রেমে ব্যাকুল থাকে, আবার গ্রীষ্মকালে দাম্পত্য জীবন কেমন হয়, অন্যান্য ঋতুতেও দাম্পত্যে কেমন পরিবর্তন আসে তার রূপ কবি আলোচা কবিতায় উন্মোচন করেছেন। অথচ উদ্দীপকে শুধু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তনের বিষয় ফুটে উঠেছে। ➤ উদ্দীপকে ষড়ঋতুতে প্রকৃতির কীরূপ বৈশিষ্ট্য হয় সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু কবিতায় প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি। সারকথা: উদ্দীপকে কেবল ঋতুর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের বিষয়টি আছে মানবমনের বৈচিত্র্যের বিষয়টি নেই। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন: কবিতায় প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানবমনের বৈচিত্র্যের বর বিষয় আছে। ও কারণেই বলা হয়েছে উদ্দীপকটি কবিতায় সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আজকের দিনটা একেবারে অন্য রকম। ভোর থেকেই সারা আকাশ কালো মেঘের কুণ্ডলীতে ঢাকা। ক্ষণে ক্ষণে কানে বাজছে গুরু গুরু ধ্বনি- যেন মেঘের মুদগঙ্গ বাজছে। একটানা বৃষ্টি' পড়ছে রিমঝিমিয়ে। আকাশের আজ যেন বাঁধ ভেঙেছে। বৃষ্টির ঝাপটায় চারপাশ যেন ঢেকে আছে কুয়াশার স্বচ্ছ চাদরে। আর প্রাণিরাজ্যে সবচেয়ে আনন্দে মেতেছে বুঝি ব্যাঙের দল। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে তারা ঐকতান ধরেছে- ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। সূর্যের দেখা নেই, যেন সয়েওছে বারব্যাঙের এল মধ্যে মাঝে মাঝে আকাশে ঝলসে উঠছে বিদ্যুতের চাবুক।
ক
'শিখিনী' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'শিখিনী' শব্দের অর্থ ময়ূরী।
খ
'শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

➤ "শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ"- কথাটির মাধ্যমে কবি শীতকালে দিন ছোট হওয়া এবং সূর্য দেখা না যাওয়ার কথা- বলেছেন। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর ধারাবাহিক বর্ণনায় প্রতিটি ঋতুর বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে তিনি শীতকালের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন। শীত ঋতুতে অনেক কুয়াশা পড়ে। এ কুয়াশার প্রভাব এত বেশি থাকে যে, এর চাদর ভেদ করে সূর্যে আলো পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। শীতের এই ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না। শীতকালে দিন ছোট হয়। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: শীতের ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার কোণ ঋতুর সাদৃশ্য নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে। ➤ বর্ষা ঋতু এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতিতে। বর্ষার স্পর্শে প্রকৃতি সজীব ও সরাগ হয়ে ওঠে। ফসলের খেত পানির ছোঁয়া পেয়ে শস্যে ভরে ওঠে। ভাবুকদের অন্তরে জেগে ওঠে নানা ছন্দ, কবিতা, গান। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় মধ্যযুগের কবি ষড়ঋতুর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি উন্মোচন করেছেন। তিনি তাঁর কবিতায় বর্ষা ঋতুর বর্ণনায় বলেছেন মেঘের গর্জনের কথা। এ সময় চারপাশ মুখর হয় ব্যাঙের ডাকে। ময়ূরীর কেকা ধ্বনি মনের মধ্যে দোলা দেয়। বর্ষা ঋতুর এরূপ চিত্র উদ্দীপকেও পাওয়া যায়। বর্ষায় আকাশে মেঘের গুরু গুরু ধ্বনি যেন মেঘের মৃদঙ্গের মতো। এ সময় প্রাণিরাজ্যের আনন্দের প্রসঙ্গে ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও পাওয়া যায়। এভাবে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দ চিত্তের প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে। সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দের যে কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকে ঋতুবর্ণন' কবিতার একাংশের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার একাংশের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।" মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুর প্রকাশ বাংলাদেশে যেভাবে প্রকটিত হয় সেভাবে আর কোথাও হয় না। তাই ঋতু বৈচিত্র্যের এই দেশের মানুষের মনও বিচিত্র। ঋতুর সাথে তাদের মনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করেছে তা তিনি কাব্যে তুলে ধরেছেন সুনিপুণভাবে। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, গ্রীষ্মের প্রচন্ড রৌদ্র তাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, শীতের রজনিতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ- এভাবে ঋতুর বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি প্রকৃতির রূপমাধুরী তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনের যে পরিবর্তন তা তিনি কাব্যে স্থান দিয়েছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু বর্ষা ঋতুর বর্ণনা করা হয়েছে, এটি কবিতার একটি দিক। ➤ উদ্দীপকের বর্ণনায় বর্ষাকালের প্রকৃতির রূপের চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালের পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা রয়েছে এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও উন্মোচিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। আর উদ্দীপকে কেবল বর্ষা ঋতুর রূপটি ফুটে উঠেছে। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আজকের দিনটা একেবারে অন্য রকম। ভোর থেকেই সারা আকাশ কালো মেঘের কুণ্ডলীতে ঢাকা। ক্ষণে ক্ষণে কানে বাজছে গুরু গুরু ধ্বনি- যেন মেঘের মুদগঙ্গ বাজছে। একটানা বৃষ্টি' পড়ছে রিমঝিমিয়ে। আকাশের আজ যেন বাঁধ ভেঙেছে। বৃষ্টির ঝাপটায় চারপাশ যেন ঢেকে আছে কুয়াশার স্বচ্ছ চাদরে। আর প্রাণিরাজ্যে সবচেয়ে আনন্দে মেতেছে বুঝি ব্যাঙের দল। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে তারা ঐকতান ধরেছে- ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। সূর্যের দেখা নেই, যেন সয়েওছে বারব্যাঙের এল মধ্যে মাঝে মাঝে আকাশে ঝলসে উঠছে বিদ্যুতের চাবুক।
ক
'শিখিনী' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'শিখিনী' শব্দের অর্থ ময়ূরী।
খ
'শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

➤ "শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ"- কথাটির মাধ্যমে কবি শীতকালে দিন ছোট হওয়া এবং সূর্য দেখা না যাওয়ার কথা- বলেছেন। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর ধারাবাহিক বর্ণনায় প্রতিটি ঋতুর বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে তিনি শীতকালের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন। শীত ঋতুতে অনেক কুয়াশা পড়ে। এ কুয়াশার প্রভাব এত বেশি থাকে যে, এর চাদর ভেদ করে সূর্যে আলো পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। শীতের এই ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না। শীতকালে দিন ছোট হয়। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: শীতের ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার কোণ ঋতুর সাদৃশ্য নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে। ➤ বর্ষা ঋতু এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতিতে। বর্ষার স্পর্শে প্রকৃতি সজীব ও সরাগ হয়ে ওঠে। ফসলের খেত পানির ছোঁয়া পেয়ে শস্যে ভরে ওঠে। ভাবুকদের অন্তরে জেগে ওঠে নানা ছন্দ, কবিতা, গান। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় মধ্যযুগের কবি ষড়ঋতুর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি উন্মোচন করেছেন। তিনি তাঁর কবিতায় বর্ষা ঋতুর বর্ণনায় বলেছেন মেঘের গর্জনের কথা। এ সময় চারপাশ মুখর হয় ব্যাঙের ডাকে। ময়ূরীর কেকা ধ্বনি মনের মধ্যে দোলা দেয়। বর্ষা ঋতুর এরূপ চিত্র উদ্দীপকেও পাওয়া যায়। বর্ষায় আকাশে মেঘের গুরু গুরু ধ্বনি যেন মেঘের মৃদঙ্গের মতো। এ সময় প্রাণিরাজ্যের আনন্দের প্রসঙ্গে ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও পাওয়া যায়। এভাবে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দ চিত্তের প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে। সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দের যে কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকে ঋতুবর্ণন' কবিতার একাংশের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার একাংশের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।" মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুর প্রকাশ বাংলাদেশে যেভাবে প্রকটিত হয় সেভাবে আর কোথাও হয় না। তাই ঋতু বৈচিত্র্যের এই দেশের মানুষের মনও বিচিত্র। ঋতুর সাথে তাদের মনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করেছে তা তিনি কাব্যে তুলে ধরেছেন সুনিপুণভাবে। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, গ্রীষ্মের প্রচন্ড রৌদ্র তাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, শীতের রজনিতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ- এভাবে ঋতুর বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি প্রকৃতির রূপমাধুরী তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনের যে পরিবর্তন তা তিনি কাব্যে স্থান দিয়েছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু বর্ষা ঋতুর বর্ণনা করা হয়েছে, এটি কবিতার একটি দিক। ➤ উদ্দীপকের বর্ণনায় বর্ষাকালের প্রকৃতির রূপের চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালের পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা রয়েছে এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও উন্মোচিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। আর উদ্দীপকে কেবল বর্ষা ঋতুর রূপটি ফুটে উঠেছে। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো