গদ্য : কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর গদ্য : কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২০১

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জমিদার, মহাজন এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, জমির অধিকার হারানো এবং সাংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে ১৮৫৫- ৫৬ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব- এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে রুখে দাঁড়ায় সাঁওতাল সমাজ। এই যুদ্ধে সাঁওতালরা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করেছিল এবং তারা ধনুক ও তিরের মতো ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। সাঁওতালদের তির-ধনুকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল ইংরেজ বন্দুক-কামান। এতে শহিদ হন প্রায় দশ হাজার মানুষ।
ক
কপিলদাসের ছেলের নাম কী?

উত্তর

কপিলদাসের ছেলের নাম মহিন্দর।
খ
"একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।"- কোন কথা এবং কেন বলেই চলল?

উত্তর

➤ "একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।"- লোকে কপিলদাসকে বলে যে সে বুড়া হয়ে গেছে, সে কিছুই পারে না- এই কথাটিই সে নিজের অক্ষমতার দুঃখ ও আক্ষেপে নিজের মনে বলেই চলল। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অনেকেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখে। কেউ কেউ "তুই বুঢ়া মানুষ- তুই কিছু পারিস না" বলেও অবজ্ঞা করে। এসব কথাই কপিলদাস নিজেকে শোনায়- "তুই বুঢ়া মানুষ হে মড়ল, তোর কিছু করার নাই।" এই কথটি শুধু একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটি সে বলেই চলে। কথাটি বলতে বলতে সে কয়েকটি ভারি গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ওই কথা তাকে বার্ধক্যের অক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল। এ কারণে সে বারবার কথাটি বলেই চলছিল। সারকথা: কপিলদাস যে বুড়ো হয়ে অক্ষম হয়ে গিয়েছে এই কথাটা অনেকেই তাকে বলে। সেই কথাট্রিই আক্ষেপে সে বারবার বলে চলে।
গ
উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কোন চরিত্রের সাথে তুলনীয়?

উত্তর

➤ উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাই 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মু চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। ➤ সমাজের হীন স্বার্থপর লোকেরা নিজেদের স্বার্থের জন্য দুর্বলদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। তাদের অন্যায়-অবিচারে অতিষ্ঠ হয়ে এই দুর্বলরা এক সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এবং অন্যায়কারীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ➤ উদ্দীপকে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সময় ১৮৫৫-৫৬ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে। ওই বিদ্রোহে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের নেতৃত্বে সাঁওতাল সমাজ জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা গেরিলা যুদ্ধে ধনুক ও তির ব্যবহার করেছিল। এই বিদ্রোহে শহিদ হন প্রায় দশ হাজার মানুষ। উদ্দীপকের এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বের মতো 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসও আত্মত্যাগী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাঁওতালরা যখন বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার উপক্রম হয় তখন সে স্বজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় আপসহীন সংগ্রামী হয়ে ওঠে। এভাবে উদ্দীপকের লড়াকু সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব আলোচ্য গল্পের কপিলদাস মুর্মু চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। সারকথা: অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব আলোচ্য গল্পের কপিলদাস মুর্মুর সঙ্গে তুলনীয়।
ঘ
"নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহে-সংগ্রামে রুখে দাঁড়ায়।"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস 8 ৩ মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে সত্যতা যাচাই কর।

উত্তর

➤ "নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহে-সংগ্রামে রুখে দাঁড়ায়।"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি সত্য। ➤ সমাজে স্বার্থপর লোভী প্রকৃতির মানুষেরা অন্যের অধিকার হরণ করে নিজেরা লাভবান হয়। অনেকে অন্যায়ভাবে অন্যের জমি জবরদখল করে। এদের নির্যাতন ও নিপীড়নে এক সময় মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, অধিকার আদায়ে তৎপর হয়। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সাঁওতালদের প্রতি অন্যায়, নিপীড়ন, নির্যাতনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা যখন তীব্র হয়ে ওঠে তখন বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে নিপীড়িত সাঁওতালদের বিদ্রোহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৫-৫৬ সালে দরিদ্র সাঁওতালরা জমিদার, মহাজন এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, জমির অধিকার হারানো এবং সংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে বিদ্রোহ করে। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নামের চার ভাই নেতৃত্ব দেয় সেই বিদ্রোহে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে ম্যানেজার মহাজন সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সেই জমিতে ধানের আবাদ করতে চায়। কপিলদাস মুর্মু এর প্রতিবাদ করে এবং স্বজাতির অন্যদের ভয়-দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে একাই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। সারকথা: উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে-সংগ্রামে সোচ্চার হয়েছে। উদ্দীকের সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবের মতো গল্পের কপিলদাস মুর্মুও বৃদ্ধ হয়েও নব উদ্যমে যুদ্ধে ব্রতী হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জমিদার, মহাজন এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, জমির অধিকার হারানো এবং সাংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে ১৮৫৫- ৫৬ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব- এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে রুখে দাঁড়ায় সাঁওতাল সমাজ। এই যুদ্ধে সাঁওতালরা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করেছিল এবং তারা ধনুক ও তিরের মতো ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। সাঁওতালদের তির-ধনুকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল ইংরেজ বন্দুক-কামান। এতে শহিদ হন প্রায় দশ হাজার মানুষ।
ক
কপিলদাসের ছেলের নাম কী?

উত্তর

কপিলদাসের ছেলের নাম মহিন্দর।
খ
"একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।"- কোন কথা এবং কেন বলেই চলল?

উত্তর

➤ "একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।"- লোকে কপিলদাসকে বলে যে সে বুড়া হয়ে গেছে, সে কিছুই পারে না- এই কথাটিই সে নিজের অক্ষমতার দুঃখ ও আক্ষেপে নিজের মনে বলেই চলল। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অনেকেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখে। কেউ কেউ "তুই বুঢ়া মানুষ- তুই কিছু পারিস না" বলেও অবজ্ঞা করে। এসব কথাই কপিলদাস নিজেকে শোনায়- "তুই বুঢ়া মানুষ হে মড়ল, তোর কিছু করার নাই।" এই কথটি শুধু একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটি সে বলেই চলে। কথাটি বলতে বলতে সে কয়েকটি ভারি গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ওই কথা তাকে বার্ধক্যের অক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল। এ কারণে সে বারবার কথাটি বলেই চলছিল। সারকথা: কপিলদাস যে বুড়ো হয়ে অক্ষম হয়ে গিয়েছে এই কথাটা অনেকেই তাকে বলে। সেই কথাট্রিই আক্ষেপে সে বারবার বলে চলে।
গ
উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কোন চরিত্রের সাথে তুলনীয়?

উত্তর

➤ উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাই 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মু চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। ➤ সমাজের হীন স্বার্থপর লোকেরা নিজেদের স্বার্থের জন্য দুর্বলদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। তাদের অন্যায়-অবিচারে অতিষ্ঠ হয়ে এই দুর্বলরা এক সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এবং অন্যায়কারীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ➤ উদ্দীপকে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সময় ১৮৫৫-৫৬ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে। ওই বিদ্রোহে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের নেতৃত্বে সাঁওতাল সমাজ জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা গেরিলা যুদ্ধে ধনুক ও তির ব্যবহার করেছিল। এই বিদ্রোহে শহিদ হন প্রায় দশ হাজার মানুষ। উদ্দীপকের এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বের মতো 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসও আত্মত্যাগী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাঁওতালরা যখন বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার উপক্রম হয় তখন সে স্বজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় আপসহীন সংগ্রামী হয়ে ওঠে। এভাবে উদ্দীপকের লড়াকু সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব আলোচ্য গল্পের কপিলদাস মুর্মু চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। সারকথা: অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে উদ্দীপকের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব আলোচ্য গল্পের কপিলদাস মুর্মুর সঙ্গে তুলনীয়।
ঘ
"নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহে-সংগ্রামে রুখে দাঁড়ায়।"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস 8 ৩ মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে সত্যতা যাচাই কর।

উত্তর

➤ "নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহে-সংগ্রামে রুখে দাঁড়ায়।"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি সত্য। ➤ সমাজে স্বার্থপর লোভী প্রকৃতির মানুষেরা অন্যের অধিকার হরণ করে নিজেরা লাভবান হয়। অনেকে অন্যায়ভাবে অন্যের জমি জবরদখল করে। এদের নির্যাতন ও নিপীড়নে এক সময় মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, অধিকার আদায়ে তৎপর হয়। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সাঁওতালদের প্রতি অন্যায়, নিপীড়ন, নির্যাতনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা যখন তীব্র হয়ে ওঠে তখন বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে নিপীড়িত সাঁওতালদের বিদ্রোহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৫-৫৬ সালে দরিদ্র সাঁওতালরা জমিদার, মহাজন এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, জমির অধিকার হারানো এবং সংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে বিদ্রোহ করে। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নামের চার ভাই নেতৃত্ব দেয় সেই বিদ্রোহে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে ম্যানেজার মহাজন সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সেই জমিতে ধানের আবাদ করতে চায়। কপিলদাস মুর্মু এর প্রতিবাদ করে এবং স্বজাতির অন্যদের ভয়-দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে একাই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। সারকথা: উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে-সংগ্রামে সোচ্চার হয়েছে। উদ্দীকের সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবের মতো গল্পের কপিলদাস মুর্মুও বৃদ্ধ হয়েও নব উদ্যমে যুদ্ধে ব্রতী হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এই মানবিকতাকে যদি বাঙালি সংস্কৃতির একটা মুখ্য প্রকাশ বলে গণ্য করি, তাহলে উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে সেই মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করি। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ আছে। একালের সংস্কৃতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা সরবে শোনা যায়। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের সংস্কৃতির প্রবহমান ধারায় মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত ফুটে উঠেছে। আমাদের সংস্কৃতির বিচিত্র রূপ নিয়ে যেমন আমরা গর্ব করতে পারি, তেমনি তার এই ভাববস্তুও আমাদের গৌরবের বিষয়।
ক
'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কাদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর

'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে মেয়েদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে।
খ
"কপিলদাস দেখতে দেখতে নিজের যৌবনকালে চলে যায়।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ প্রশ্নোক্ত কথাটিতে কপিলদায় মুর্মুর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস প্রায়ই টাঙন নদীর পাড়ে বসে থাকে। সেখানে বসে থাকতে থাকতে তার একটা গা-ছাড়া ভাব চলে আসে। এই ভাবটি যখন আসে তখন তার জীবনের পুরনো ঘটনার ছবি সাজিয়ে নিয়ে আসে। তার চোখের সামনে পুশনা পরবের তুমুল নাচ, মেয়েদের গলায় শানানো স্বর প্রভৃতি ঘটনা ভেসে ওঠে। তখন সে যৌবনকালের ঘটনা স্মরণ করতে থাকে। মহাজনের ধান খামারবাড়ি থেকেই কিষানদের হাতে বিলিয়ে দেওয়া, মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি ঘটনা তার চোখে ভাসতে থাকে। সারকথা: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনার সময় কপিলদাস দেখতে দেখতে তার কল্পনায় যৌবনকালে চলে যায়।
গ
উদ্দীপকটি কোন দিক থেকে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ সমাজের মানুষ নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়। সমাজে এমন অনেক সাহসী মানুষও থাকেন যারা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রবল সাহস নিয়ে সেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে একালের সংস্কৃতিতেও তার প্রতিফলন নির্দেশিত হয়েছে। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। সাঁওতাল গ্রাম উচ্ছেদ করে মহাজন ধান চাষ করতে চাইলে কপিলদাস মুর্মু একাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এভাবে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত মানবিক চেতনা এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনা একসূত্রে 8 গাঁথা।"- মন্তব্যক্টির যথার্থতা প্রমাণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকে প্রতিফলিত মানবিক চেতনা এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। সমাজে যখন অন্যায়-অনাচার ছড়িয়ে পড়ে তখন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষেরাই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। এ মানবিক চেতনার ফলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাতের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এই মানবিক চেতনা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গল্পের কপিলদাস মুর্মু একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হলে কপিলদাস মুর্মু আপন তেজে জ্বলে উঠেছে। শত্রুর কবল থেকে সাঁওতালদের রক্ষা করতে তির-ধনুক হাতে তুলে নিয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু শত্রুর হাত থেকে নিজেদের বসতবাটি রক্ষার জন্য একাই লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মানুষের কল্যাণের জন্য সে বৃদ্ধ বয়সে অসীম সাহস নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের শেষ কাজ হিসেবে শেষ লড়াইটা লড়ার জন্য সে আত্মত্যাগী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যা তার মানবিক চেতনাকেই নির্দেশ করে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে যে চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে তা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এই মানবিকতাকে যদি বাঙালি সংস্কৃতির একটা মুখ্য প্রকাশ বলে গণ্য করি, তাহলে উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে সেই মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করি। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ আছে। একালের সংস্কৃতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা সরবে শোনা যায়। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের সংস্কৃতির প্রবহমান ধারায় মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত ফুটে উঠেছে। আমাদের সংস্কৃতির বিচিত্র রূপ নিয়ে যেমন আমরা গর্ব করতে পারি, তেমনি তার এই ভাববস্তুও আমাদের গৌরবের বিষয়।
ক
'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কাদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর

'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে মেয়েদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে।
খ
"কপিলদাস দেখতে দেখতে নিজের যৌবনকালে চলে যায়।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ প্রশ্নোক্ত কথাটিতে কপিলদায় মুর্মুর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস প্রায়ই টাঙন নদীর পাড়ে বসে থাকে। সেখানে বসে থাকতে থাকতে তার একটা গা-ছাড়া ভাব চলে আসে। এই ভাবটি যখন আসে তখন তার জীবনের পুরনো ঘটনার ছবি সাজিয়ে নিয়ে আসে। তার চোখের সামনে পুশনা পরবের তুমুল নাচ, মেয়েদের গলায় শানানো স্বর প্রভৃতি ঘটনা ভেসে ওঠে। তখন সে যৌবনকালের ঘটনা স্মরণ করতে থাকে। মহাজনের ধান খামারবাড়ি থেকেই কিষানদের হাতে বিলিয়ে দেওয়া, মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি ঘটনা তার চোখে ভাসতে থাকে। সারকথা: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনার সময় কপিলদাস দেখতে দেখতে তার কল্পনায় যৌবনকালে চলে যায়।
গ
উদ্দীপকটি কোন দিক থেকে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ সমাজের মানুষ নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়। সমাজে এমন অনেক সাহসী মানুষও থাকেন যারা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রবল সাহস নিয়ে সেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে একালের সংস্কৃতিতেও তার প্রতিফলন নির্দেশিত হয়েছে। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। সাঁওতাল গ্রাম উচ্ছেদ করে মহাজন ধান চাষ করতে চাইলে কপিলদাস মুর্মু একাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এভাবে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত মানবিক চেতনা এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনা একসূত্রে 8 গাঁথা।"- মন্তব্যক্টির যথার্থতা প্রমাণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকে প্রতিফলিত মানবিক চেতনা এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। সমাজে যখন অন্যায়-অনাচার ছড়িয়ে পড়ে তখন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষেরাই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। এ মানবিক চেতনার ফলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাতের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এই মানবিক চেতনা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গল্পের কপিলদাস মুর্মু একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হলে কপিলদাস মুর্মু আপন তেজে জ্বলে উঠেছে। শত্রুর কবল থেকে সাঁওতালদের রক্ষা করতে তির-ধনুক হাতে তুলে নিয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু শত্রুর হাত থেকে নিজেদের বসতবাটি রক্ষার জন্য একাই লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মানুষের কল্যাণের জন্য সে বৃদ্ধ বয়সে অসীম সাহস নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের শেষ কাজ হিসেবে শেষ লড়াইটা লড়ার জন্য সে আত্মত্যাগী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যা তার মানবিক চেতনাকেই নির্দেশ করে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকে যে চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে তা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো মিসর ভ্রমণকালে মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ যোগাড় করতেন। যে কুঁড়ে, আলসে, ঘুষখোর ও চোর, সেই হীন। ব্যাবসা বা ছোট স্বাধীন কাজে মানুষ হীন হয় না- হীন হয় মিথ্যা চতুরতা ও প্রবঞ্চনায়। পাছে জাত যায়, সম্মান নষ্ট হয়- এই ভয়ে পরের গলগ্রহ হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছ? সম্মান কোথায়, তা তুমি টের পাওনি? সৎ উপায়ে যে পয়সা উপায় করা যায় তাতে তোমার আত্মার পতন হবে না। তোমার আত্মার পতন হবে আলস্যে ও অসাধুতায়। তোমারই স্পর্শে কাজ গৌরবময় হবে।
ক
কার কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়?

উত্তর

কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়।
খ
"সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।"- এখানে সংসারের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের কথা বলা হয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু তার চারপাশের ঝগড়াঝাঁটি, কর্মকান্ড ইত্যাদি নিয়ে তেমন কিছুই ভাবে না। কারণ তার কাছে মনে হয় এসব সংসারের স্বাভাবিক বিষয়। সে মনে করে রাগ, ক্ষোভ, হাসিখুশি মনের ভাব, আসমান, টাঙনের স্রোত প্রভৃতি সবকিছুই একটার সঙ্গে আরেকটা শেষ পর্যন্ত একসূত্রে গাঁথা। প্রকৃতপক্ষে কপিলদাস মুর্মুর মনে করে যে সংসারের সবকিছুর ওপর দিয়ে একটি শান্ত স্রোত বয়ে চলছে আর সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই। সারকথা: সংসারের অনেক ভেতর দিয়ে কাঁপনহীন, উত্তেজনাহীন, চিৎকারহীন এক শান্ত, ধীর ও নিরবচ্ছিন্ন স্রোতধারা বহমান
গ
উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সকল ভয় ও দ্বিধাকে পেছনে ফেলে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ আলস্য, মিথ্যা, চতুরতা, প্রবঞ্চনা, অসাধুতা কখনো মানুষকে মর্যাদার আসনে বসায় না। এগুলো পরিহার করে মানুষ যখন আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারবে তখনই কেবল সে হয়ে উঠবে মর্যাদাবান। ➤ উদ্দীপকে কাজ বা শ্রমের গুরুত্ব নির্দেশিত হয়েছে। এখানে ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো যে একসময় মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ জোগাড় করতেন তা তুলে ধরা হয়েছে। আত্মসম্মানের ভয়ে অন্যের গলগ্রহ হয়ে না থেকে আত্মাকে চিনে আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারলে অসাধ্যকে সাধন করা যায়। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস বুড়োর চেতনায় এই আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার দিকটি লক্ষ করা যায়। যখন ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তখন সে তার কাজ সম্পর্কে সজাগ হয়। সাঁওতাল তরুণরা ভয় ও দ্বিধার মধ্যে থাকলেও সে ভয় পায়নি। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া কপিলদাস আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে, তরুণদের ভয় ও দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকটি গল্পের কপিলদাসের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে প্রতিফলিত কাজের গুরুত্বের দিকটি আলোচ্য গল্পে কপিলদাসের চেতনায় ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব কি এক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়। ➤ জীবনে ভালো কিছু করতে চাইলে নিজের মানসিকতায় স্বচ্ছ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। কোনো কাজকেই তুচ্ছ না ভেবে আলস্য পরিহার করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়। ➤ উদ্দীপকে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শ্রমের মর্যাদার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জাত ও সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে যারা অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকে তারাই মূলত সম্মান হারায়। আত্মবিশ্বাস ও চেতনা নিয়ে এগিয়ে গেলে যেকোনো কাজেই সফল হওয়া যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজকে গৌরবময় করার দিকটি আমি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর মধ্যে পাই। বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় সবাই ভীত ও দ্বিধান্বিত হলেও কপিলদাস একাই জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। সে নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার মতো দূরবস্থা অনুধাবন করে সচেতন হয়ে ওঠে। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, অন্য সবার কাছে গুরুত্বহীন এই কপিলদাস মুর্মু একাই প্রতিবাদ করে। গল্পের এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়। সারকথা: 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভাব ব প্রতিফলিত হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে ওঠেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো মিসর ভ্রমণকালে মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ যোগাড় করতেন। যে কুঁড়ে, আলসে, ঘুষখোর ও চোর, সেই হীন। ব্যাবসা বা ছোট স্বাধীন কাজে মানুষ হীন হয় না- হীন হয় মিথ্যা চতুরতা ও প্রবঞ্চনায়। পাছে জাত যায়, সম্মান নষ্ট হয়- এই ভয়ে পরের গলগ্রহ হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছ? সম্মান কোথায়, তা তুমি টের পাওনি? সৎ উপায়ে যে পয়সা উপায় করা যায় তাতে তোমার আত্মার পতন হবে না। তোমার আত্মার পতন হবে আলস্যে ও অসাধুতায়। তোমারই স্পর্শে কাজ গৌরবময় হবে।
ক
কার কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়?

উত্তর

কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়।
খ
"সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।"- এখানে সংসারের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের কথা বলা হয়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু তার চারপাশের ঝগড়াঝাঁটি, কর্মকান্ড ইত্যাদি নিয়ে তেমন কিছুই ভাবে না। কারণ তার কাছে মনে হয় এসব সংসারের স্বাভাবিক বিষয়। সে মনে করে রাগ, ক্ষোভ, হাসিখুশি মনের ভাব, আসমান, টাঙনের স্রোত প্রভৃতি সবকিছুই একটার সঙ্গে আরেকটা শেষ পর্যন্ত একসূত্রে গাঁথা। প্রকৃতপক্ষে কপিলদাস মুর্মুর মনে করে যে সংসারের সবকিছুর ওপর দিয়ে একটি শান্ত স্রোত বয়ে চলছে আর সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই। সারকথা: সংসারের অনেক ভেতর দিয়ে কাঁপনহীন, উত্তেজনাহীন, চিৎকারহীন এক শান্ত, ধীর ও নিরবচ্ছিন্ন স্রোতধারা বহমান
গ
উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সকল ভয় ও দ্বিধাকে পেছনে ফেলে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ আলস্য, মিথ্যা, চতুরতা, প্রবঞ্চনা, অসাধুতা কখনো মানুষকে মর্যাদার আসনে বসায় না। এগুলো পরিহার করে মানুষ যখন আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারবে তখনই কেবল সে হয়ে উঠবে মর্যাদাবান। ➤ উদ্দীপকে কাজ বা শ্রমের গুরুত্ব নির্দেশিত হয়েছে। এখানে ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো যে একসময় মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ জোগাড় করতেন তা তুলে ধরা হয়েছে। আত্মসম্মানের ভয়ে অন্যের গলগ্রহ হয়ে না থেকে আত্মাকে চিনে আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারলে অসাধ্যকে সাধন করা যায়। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস বুড়োর চেতনায় এই আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার দিকটি লক্ষ করা যায়। যখন ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তখন সে তার কাজ সম্পর্কে সজাগ হয়। সাঁওতাল তরুণরা ভয় ও দ্বিধার মধ্যে থাকলেও সে ভয় পায়নি। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া কপিলদাস আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে, তরুণদের ভয় ও দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকটি গল্পের কপিলদাসের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে প্রতিফলিত কাজের গুরুত্বের দিকটি আলোচ্য গল্পে কপিলদাসের চেতনায় ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব কি এক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

➤ না, উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়। ➤ জীবনে ভালো কিছু করতে চাইলে নিজের মানসিকতায় স্বচ্ছ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। কোনো কাজকেই তুচ্ছ না ভেবে আলস্য পরিহার করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়। ➤ উদ্দীপকে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শ্রমের মর্যাদার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জাত ও সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে যারা অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকে তারাই মূলত সম্মান হারায়। আত্মবিশ্বাস ও চেতনা নিয়ে এগিয়ে গেলে যেকোনো কাজেই সফল হওয়া যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজকে গৌরবময় করার দিকটি আমি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর মধ্যে পাই। বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় সবাই ভীত ও দ্বিধান্বিত হলেও কপিলদাস একাই জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। সে নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার মতো দূরবস্থা অনুধাবন করে সচেতন হয়ে ওঠে। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, অন্য সবার কাছে গুরুত্বহীন এই কপিলদাস মুর্মু একাই প্রতিবাদ করে। গল্পের এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মূলভাব এক নয়। সারকথা: 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভাব ব প্রতিফলিত হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকের মূলভাবে ফুটে ওঠেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো