গদ্য : মাসি-পিসি Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর গদ্য : মাসি-পিসি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৫৫

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাপ-মা মরা অভাগী মেয়ে প্রতিমা দরিদ্র কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে অনেক কষ্টে ভাই-ঝিকে বিয়ে দেন কাকা। অভাগী প্রতিমা শ্বশুরবাড়িতেও সুখের নাগাল পায় না। কারণ, তার কাকার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য স্বামী-শাশুড়ি তার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী একদিন মারধর করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফিরে আসলে, প্রতিমা কোনোরকমে পালিয়ে কাকা-কাকীর কাছে চলে আসে। ভাইঝির এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাকা-কাকী সিদ্ধান্ত নেয়, অমন শ্বশুরবাড়িতে তাকে আর পাঠাবে না তারা।

Comilla · 2017

ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচেছিলেন?

উত্তর

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮ বছর বেঁচেছিলেন।
খ
'যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাসি-পিসির নানারকম প্রস্তুতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'মাসি-পিসি' গল্পে রাতের বেলা দুশ্চরিত্র ও লোভী প্রতিবেশী গোকুল আহ্লাদিকে তুলে নিতে কয়েক জন গুন্ডা-বদমাসকে পাঠায়। কিন্তু মাসি- পিসির দা-বঁটি হাতে তুলে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুণ্ডা-বদমাশদের তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তবুও এ কুচক্রীরা রাতে আবার আক্রমণ চালাতে পারে- এ আশঙ্কায় মাসি-পিসি নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। এ বিষয়টি বোঝাতে গল্পকার আলোচ্য উক্তিটি করেন।
গ
উদ্দীপকের প্রতিমার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর

প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রতিমা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির মাঝে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য দুই-ই রয়েছে। আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি পিতৃ-মাতৃহীন এক তরুণী। বৈবাহিক জীবনে সে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে মাসি-পিসি তার রক্ষাকারীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়। উদ্দীপকের পিতৃ-মাতৃহীন প্রতিমা কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। বিয়ের পর প্রতিমা যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত স্বামী-শাশুড়ির কাছে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে এলে তার কাকা-কাকি তাকে আর ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে আলোচ্য গল্পের আহ্লাদিও স্বামী কর্তৃক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে সে মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। এদিক থেকে প্রতিমার সঙ্গে আহ্লাদির সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে বৈসাদৃশ্যের দিকটি এই যে, প্রতিমার স্বামী যৌতুকের কারণে তাকে অত্যাচার করত, আর আহ্লাদির স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত।
ঘ
"অর্থলিপ্সা মানুষকে পরিপূর্ণ পশু করে তোলে- উদ্দীপকে ও 'মাসি-পিসি' গল্পে এ সত্যটি সন্দেহাতীতভাবে প্রকাশিত হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

'মাসি-পিসি' গল্পে জগু গোকুলের অর্থলোভ বেশি প্রকাশিত হয়েছে, বলে তাদের আচরণে পাশবিক কদর্যতা দেখা যায়। 'মাসি-পিসি' গল্পে ফুটে উঠেছে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার আহ্লাদিকে নিরাপদে রাখার জন্য মাসি-পিসির সংগ্রামের দিকটি। সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীদের যে কত প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয় তারও রূপ ফুটে উঠেছে এ গল্পে। উদ্দীপকের প্রতিমার স্বামী ও তার পরিবার ছিল যৌতুকলোভী ও অত্যাচারী। যৌতুকের টাকার জন্য তারা প্রতিমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী তাকে মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। এদিকে আহ্লাদির স্বামী ছিল মাদকাসক্ত। এ কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাত সে। অর্থলিপ্সার দিকটি উদ্দীপকে যেভাবে উঠে এসেছে, 'মাসি-পিসি' গল্পে সেভাবে উঠে আসেনি। যৌতুকের টাকাই প্রতিমার দুর্ভোগের কারণ। কিন্তু আহ্লাদির ক্ষেত্রে স্বামীর নেশাগ্রস্ত হওয়াটাই মুখ্য। আহ্লাদির ভাগে পড়া জমির প্রতি স্বামীর জগুর লোভ ছিল বৈকি, তবে সে দিকটি এ গল্পে মুখ্য হয়ে ওঠেনি। প্রতিমা ও আহ্লাদি দুজনই শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, অর্থলিন্সার দিকটি আলোচ্য গল্পে মুখ্য হয়ে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাপ-মা মরা অভাগী মেয়ে প্রতিমা দরিদ্র কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে অনেক কষ্টে ভাই-ঝিকে বিয়ে দেন কাকা। অভাগী প্রতিমা শ্বশুরবাড়িতেও সুখের নাগাল পায় না। কারণ, তার কাকার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য স্বামী-শাশুড়ি তার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী একদিন মারধর করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফিরে আসলে, প্রতিমা কোনোরকমে পালিয়ে কাকা-কাকীর কাছে চলে আসে। ভাইঝির এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাকা-কাকী সিদ্ধান্ত নেয়, অমন শ্বশুরবাড়িতে তাকে আর পাঠাবে না তারা।

Comilla · 2017

ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচেছিলেন?

উত্তর

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮ বছর বেঁচেছিলেন।
খ
'যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাসি-পিসির নানারকম প্রস্তুতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'মাসি-পিসি' গল্পে রাতের বেলা দুশ্চরিত্র ও লোভী প্রতিবেশী গোকুল আহ্লাদিকে তুলে নিতে কয়েক জন গুন্ডা-বদমাসকে পাঠায়। কিন্তু মাসি- পিসির দা-বঁটি হাতে তুলে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুণ্ডা-বদমাশদের তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তবুও এ কুচক্রীরা রাতে আবার আক্রমণ চালাতে পারে- এ আশঙ্কায় মাসি-পিসি নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। এ বিষয়টি বোঝাতে গল্পকার আলোচ্য উক্তিটি করেন।
গ
উদ্দীপকের প্রতিমার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর

প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রতিমা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির মাঝে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য দুই-ই রয়েছে। আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি পিতৃ-মাতৃহীন এক তরুণী। বৈবাহিক জীবনে সে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে মাসি-পিসি তার রক্ষাকারীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়। উদ্দীপকের পিতৃ-মাতৃহীন প্রতিমা কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। বিয়ের পর প্রতিমা যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত স্বামী-শাশুড়ির কাছে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে এলে তার কাকা-কাকি তাকে আর ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে আলোচ্য গল্পের আহ্লাদিও স্বামী কর্তৃক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে সে মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। এদিক থেকে প্রতিমার সঙ্গে আহ্লাদির সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে বৈসাদৃশ্যের দিকটি এই যে, প্রতিমার স্বামী যৌতুকের কারণে তাকে অত্যাচার করত, আর আহ্লাদির স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত।
ঘ
"অর্থলিপ্সা মানুষকে পরিপূর্ণ পশু করে তোলে- উদ্দীপকে ও 'মাসি-পিসি' গল্পে এ সত্যটি সন্দেহাতীতভাবে প্রকাশিত হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

'মাসি-পিসি' গল্পে জগু গোকুলের অর্থলোভ বেশি প্রকাশিত হয়েছে, বলে তাদের আচরণে পাশবিক কদর্যতা দেখা যায়। 'মাসি-পিসি' গল্পে ফুটে উঠেছে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার আহ্লাদিকে নিরাপদে রাখার জন্য মাসি-পিসির সংগ্রামের দিকটি। সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীদের যে কত প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয় তারও রূপ ফুটে উঠেছে এ গল্পে। উদ্দীপকের প্রতিমার স্বামী ও তার পরিবার ছিল যৌতুকলোভী ও অত্যাচারী। যৌতুকের টাকার জন্য তারা প্রতিমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী তাকে মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। এদিকে আহ্লাদির স্বামী ছিল মাদকাসক্ত। এ কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাত সে। অর্থলিপ্সার দিকটি উদ্দীপকে যেভাবে উঠে এসেছে, 'মাসি-পিসি' গল্পে সেভাবে উঠে আসেনি। যৌতুকের টাকাই প্রতিমার দুর্ভোগের কারণ। কিন্তু আহ্লাদির ক্ষেত্রে স্বামীর নেশাগ্রস্ত হওয়াটাই মুখ্য। আহ্লাদির ভাগে পড়া জমির প্রতি স্বামীর জগুর লোভ ছিল বৈকি, তবে সে দিকটি এ গল্পে মুখ্য হয়ে ওঠেনি। প্রতিমা ও আহ্লাদি দুজনই শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, অর্থলিন্সার দিকটি আলোচ্য গল্পে মুখ্য হয়ে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বকুল যখন স্বামীহারা হয়, তখন তার মেয়ে পারুলের বয়স দুই বছর। একদিকে অর্থকষ্ট, অপরদিকে বদলোকের কুদৃষ্টি। লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে মেয়েটাকে বড় করে বকুল। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য মেয়ে পারুল হয় বকুলের অবলম্বন। মায়ের জীবন- সংগ্রাম দেখে বড় হওয়া পারুল মায়ের চেয়ে সাহসী এবং আত্মমর্যাদাশীল। বাড়ির পাশে শাক-সবজি চাষ করে, ঘরে হাঁস-মুরগী পালন করে, ধান ভেনে, কাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে মা ও মেয়ে। যেকোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বলি রাখার দৃঢ় প্রত্যয় বকুল ও পারুলের চাল চলনে।

Sylhet · 2017

ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?

উত্তর

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম হলো প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
খ
'নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে'- কার, কেন?

উত্তর

নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির। অত্যাচারী স্বামী জগুর ঘর থেকে আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। কিন্তু এলাকার কিছু খারাপ লোক তার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়। মাসি-পিসির সাথে বাজারে গেলে তারা তরিতরকারি কেনার মতো তাকেও করায়ত্ত করার জন্য মাসি-পিসির সাথে আলাপ জমায়। এ সকল কথা চিন্তা করে নিজেকে আহ্লাদির ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।
গ
উদ্দীপকের পারুলের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য দেখাও।

উত্তর

'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদিকে নির্যাতিত, অসহায় ও পরনির্ভরশীল নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। নিঃস্ব ও বিধবা মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদিকেও সমাজের বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। কিন্তু গল্পে আহ্লাদিকে আত্মরক্ষার কোনো চেষ্টা করতে দেখা যায় না। সে সবসময় ভয়ে কোণঠাসা হয়ে থাকে। জগুর মামলার হুমকিতে সে ভয় পায়। বদলোকের খারাপ দৃষ্টির কারণে নিজেকে তার নোংরা, নর্দমার মতো মনে হয়। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে মাসি-পিসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে মেয়ে পারুলকে বড় করে তোলে। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয় সে। কিন্তু অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে চলে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য পারুল বাড়ির পাশে সবজি চাষ, হাঁস-মুরগী পালন, কাঁথা সেলাই ইত্যাদি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে সে সমাজের বিরূপ পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কিন্তু গল্পের আহ্লাদির মধ্যে এই সাহস ও উদ্দীপনার অভাব পরিলক্ষিত হয়। এখানেই আহ্লাদি ও পারুলের মধ্যে বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘ
"উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি-পিসি' গল্পের বক্তব্য ধারণ করে।"- তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীর দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে বলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথাযথ বলে বিবেচনা করা যায়। আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি দুজনই নিঃস্ব ও বিধবা। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার জন্য তারা ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে, শাক-পাতা কুড়িয়ে শহরের বাজারে বিক্রি করে। আহ্লাদি স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসলে তাকে তারা পরম মমতায় আগলে রাখে। জগুর অত্যাচার ও সমাজের বদলোকের কুদৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষা করতে সবসময় সতর্ক থাকে। উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে তার মেয়ে পারুলকে বড় করে। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর অত্যাচারের কারণে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সাহসী ও আত্মমর্যাদাশীল পারুল সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য শাক-সবজির চাষ করে, ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে। সে সবরকম অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি এবং আলোচ্য উদ্দীপকের বকুল ও তার মেয়ে পারুল সমাজের বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। গল্পের মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদির সুরক্ষার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকে। উদ্দীপকের বকুলও স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে পারুলের সুরক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। বিয়ের পর স্বামী অত্যাচার করলে পারুল তার মায়ের কাছে ফিরে এসে এবং মায়ের সাথে কাজ করে সাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগ নেয়। তাই বলা যায়, জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার লড়াইয়ের দিক বিবেচনায় "উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি- পিসি' গল্পের বক্তব্যকে ধারণ করে"-মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বকুল যখন স্বামীহারা হয়, তখন তার মেয়ে পারুলের বয়স দুই বছর। একদিকে অর্থকষ্ট, অপরদিকে বদলোকের কুদৃষ্টি। লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে মেয়েটাকে বড় করে বকুল। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য মেয়ে পারুল হয় বকুলের অবলম্বন। মায়ের জীবন- সংগ্রাম দেখে বড় হওয়া পারুল মায়ের চেয়ে সাহসী এবং আত্মমর্যাদাশীল। বাড়ির পাশে শাক-সবজি চাষ করে, ঘরে হাঁস-মুরগী পালন করে, ধান ভেনে, কাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে মা ও মেয়ে। যেকোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বলি রাখার দৃঢ় প্রত্যয় বকুল ও পারুলের চাল চলনে।

Sylhet · 2017

ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?

উত্তর

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম হলো প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
খ
'নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে'- কার, কেন?

উত্তর

নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির। অত্যাচারী স্বামী জগুর ঘর থেকে আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। কিন্তু এলাকার কিছু খারাপ লোক তার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়। মাসি-পিসির সাথে বাজারে গেলে তারা তরিতরকারি কেনার মতো তাকেও করায়ত্ত করার জন্য মাসি-পিসির সাথে আলাপ জমায়। এ সকল কথা চিন্তা করে নিজেকে আহ্লাদির ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।
গ
উদ্দীপকের পারুলের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য দেখাও।

উত্তর

'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদিকে নির্যাতিত, অসহায় ও পরনির্ভরশীল নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। নিঃস্ব ও বিধবা মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদিকেও সমাজের বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। কিন্তু গল্পে আহ্লাদিকে আত্মরক্ষার কোনো চেষ্টা করতে দেখা যায় না। সে সবসময় ভয়ে কোণঠাসা হয়ে থাকে। জগুর মামলার হুমকিতে সে ভয় পায়। বদলোকের খারাপ দৃষ্টির কারণে নিজেকে তার নোংরা, নর্দমার মতো মনে হয়। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে মাসি-পিসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে মেয়ে পারুলকে বড় করে তোলে। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয় সে। কিন্তু অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে চলে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য পারুল বাড়ির পাশে সবজি চাষ, হাঁস-মুরগী পালন, কাঁথা সেলাই ইত্যাদি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে সে সমাজের বিরূপ পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কিন্তু গল্পের আহ্লাদির মধ্যে এই সাহস ও উদ্দীপনার অভাব পরিলক্ষিত হয়। এখানেই আহ্লাদি ও পারুলের মধ্যে বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘ
"উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি-পিসি' গল্পের বক্তব্য ধারণ করে।"- তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীর দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে বলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথাযথ বলে বিবেচনা করা যায়। আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি দুজনই নিঃস্ব ও বিধবা। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার জন্য তারা ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে, শাক-পাতা কুড়িয়ে শহরের বাজারে বিক্রি করে। আহ্লাদি স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসলে তাকে তারা পরম মমতায় আগলে রাখে। জগুর অত্যাচার ও সমাজের বদলোকের কুদৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষা করতে সবসময় সতর্ক থাকে। উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে তার মেয়ে পারুলকে বড় করে। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর অত্যাচারের কারণে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সাহসী ও আত্মমর্যাদাশীল পারুল সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য শাক-সবজির চাষ করে, ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে। সে সবরকম অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি এবং আলোচ্য উদ্দীপকের বকুল ও তার মেয়ে পারুল সমাজের বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। গল্পের মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদির সুরক্ষার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকে। উদ্দীপকের বকুলও স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে পারুলের সুরক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। বিয়ের পর স্বামী অত্যাচার করলে পারুল তার মায়ের কাছে ফিরে এসে এবং মায়ের সাথে কাজ করে সাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগ নেয়। তাই বলা যায়, জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার লড়াইয়ের দিক বিবেচনায় "উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি- পিসি' গল্পের বক্তব্যকে ধারণ করে"-মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মীনার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ায় তার মা রানু তাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। সে তার স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কৃষিজমিতে উৎপন্ন ফসল বিক্রি করে যা আয় করে তাতে মীনার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারে না । তাই অন্যের বাড়িতে ধান ভানা, মাড়াই দেওয়া ও গৃহপরিচারিকার কাজ করে মীনার লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়াল মীনার বয়স। ষোড়শী মীনাকে গ্রাম্য মোড়লের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সে তাকে বিয়ে দিলো। কিন্তু অর্থলোভী ও স্বার্থান্ধ পরিবারে মীনার ঠাই হলো না। সে মায়ের কাছে চলে আসল। শুরু হলো মা-মেয়ের নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই।

Barisal · 2019

ক
পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়' কারা বসেছে?

উত্তর

'পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়' শকুনরা বসেছে।
খ
'ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়।' – এখানে 'পাষাণ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে 'পাষাণ' শব্দটি দ্বারা নির্যাতক পুরুষের নিষ্ঠুর মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে। সন্তানের প্রতি পিতামাতা স্বভাবতই সংবেদনশীল হয়। অপত্যস্নেে বশবর্তী হয়ে কঠিন হৃদয়ের মানুষও আবেগে আপ্লুত হয়। আর তাই সন্তানের প্রতি স্নেহের কারণে স্ত্রী নির্যাতনকারী কঠিন হৃদয়ের পুরুষও অনেক সময় স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হয়। আলোচ্য উরিটিতে 'পাষাণ' শব্দটি দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নির্দয় ও কঠিন মানসিকতার পুরুষদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের সমাজচিত্রের সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের সমাজচিত্রের সাদৃশ্য কতটুকু? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের পুরুষশাসিত বিরূপ সমাজব্যবস্থায় নারীর জীবনসংগ্রাম ও লড়াই করে টিকে থাকার সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের সমাজচিত্রের বহুলাংশে সাদৃশ্য রয়েছে। 'মাসি-পিসি' গল্পের সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার নির্মম রূপ ফুটে উঠেছে। এ গল্পের পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের ভাগ্যবিড়ম্বনার দিকটি স্পষ্ট। মাসি-পিসি মুজনেই স্বামীর সংসারে নিগ্রহের শিকার। এছাড়া আহ্লাদির অত্যাচারী স্বামী, লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা, চৌকিদার, গুন্ডা-বদমাশদের উপস্থিতি আলোচ্য গল্পের বিরূপ সমাজচিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে। উদ্দীপকে পুরুষশাসিত সমাজে শোষণের নগ্নরূপ অঙ্কিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হয় মীনা ও তার মা রানুর । চরিত্রহীন মোড়লের হাত থেকে রক্ষা পেতে রানু তার মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেন। কিন্তু অর্থলোভী ও স্বার্থান্ধ পরিবারে মীনার ঠাঁই হয়নি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত রানু ও মীনাকে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। আলোচ্য গল্পেও পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার ঘৃণ্য রূপ পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, প্রতিকূল সমাজচিত্রের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
'বেঁচে থাকার লড়াই।'- কথাটি উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় নারীদের সংগ্রাম করে টিকে থাকার চিত্র উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। 'মাসি-পিসি' গল্পের প্রধান উপজীব্য মাসি ও পিসির কঠোর জীবনসংগ্রাম। মাসি-পিসি সর্বদা অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত। সমাজজীবনে সহায়- সম্বলহীন ও দুর্বল অবস্থানে থেকেও তারা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিপদগ্রস্ত আহ্লাদিকে তারা আগলে রেখেছে। নারী হয়েও তারা নৌকা চালনা ও সবজির ব্যাবসা করেছে। আহ্লাদি ও নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে একমাত্র সন্তান মীনাকে নিয়ে বিধবা রানুর কষ্টের সংসার। স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কৃষিজমিতে উৎপন্ন ফসল তার আয়ের একমাত্র উৎস। এই সামান্য আয়ে সংসার চলে না। তাই রানুকে অন্যের বাড়িতে ধানভানা ও গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হয়। গ্রাম্য মোড়লের হাত থেকে বাঁচতে অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয় রানু। কিন্তু অল্পকাল পরেই অসৎ ও লোভী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে মীনার। স্বামীর গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে সে। মা-মেয়ের টিকে থাকার লড়াই নতুন করে শুরু হয়। আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকে দেখা যায়, সার্বক্ষণিক বিপদের মধ্যে নারীদের লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। গল্পটিতে তারা মূলত নারীর শ্রেণিসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। সমাজের অবিবেচক, লোভী, স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। উদ্দীপকের রানু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। অন্যের বাড়িতে ধানভানা, মাড়াই দেওয়া প্রভৃতি কাজ করে মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাতে হয় তাকে। সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মেয়েকে বিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে অসহায় মা-মেয়েকে অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা করতে হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আলোচ্য গল্প এবং উদ্দীপকের নারীরা কঠোর জীবনসংগ্রামে লিপ্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মীনার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ায় তার মা রানু তাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। সে তার স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কৃষিজমিতে উৎপন্ন ফসল বিক্রি করে যা আয় করে তাতে মীনার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারে না । তাই অন্যের বাড়িতে ধান ভানা, মাড়াই দেওয়া ও গৃহপরিচারিকার কাজ করে মীনার লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়াল মীনার বয়স। ষোড়শী মীনাকে গ্রাম্য মোড়লের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সে তাকে বিয়ে দিলো। কিন্তু অর্থলোভী ও স্বার্থান্ধ পরিবারে মীনার ঠাই হলো না। সে মায়ের কাছে চলে আসল। শুরু হলো মা-মেয়ের নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই।

Barisal · 2019

ক
পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়' কারা বসেছে?

উত্তর

'পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়' শকুনরা বসেছে।
খ
'ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়।' – এখানে 'পাষাণ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে 'পাষাণ' শব্দটি দ্বারা নির্যাতক পুরুষের নিষ্ঠুর মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে। সন্তানের প্রতি পিতামাতা স্বভাবতই সংবেদনশীল হয়। অপত্যস্নেে বশবর্তী হয়ে কঠিন হৃদয়ের মানুষও আবেগে আপ্লুত হয়। আর তাই সন্তানের প্রতি স্নেহের কারণে স্ত্রী নির্যাতনকারী কঠিন হৃদয়ের পুরুষও অনেক সময় স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হয়। আলোচ্য উরিটিতে 'পাষাণ' শব্দটি দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নির্দয় ও কঠিন মানসিকতার পুরুষদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের সমাজচিত্রের সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের সমাজচিত্রের সাদৃশ্য কতটুকু? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের পুরুষশাসিত বিরূপ সমাজব্যবস্থায় নারীর জীবনসংগ্রাম ও লড়াই করে টিকে থাকার সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের সমাজচিত্রের বহুলাংশে সাদৃশ্য রয়েছে। 'মাসি-পিসি' গল্পের সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার নির্মম রূপ ফুটে উঠেছে। এ গল্পের পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের ভাগ্যবিড়ম্বনার দিকটি স্পষ্ট। মাসি-পিসি মুজনেই স্বামীর সংসারে নিগ্রহের শিকার। এছাড়া আহ্লাদির অত্যাচারী স্বামী, লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা, চৌকিদার, গুন্ডা-বদমাশদের উপস্থিতি আলোচ্য গল্পের বিরূপ সমাজচিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে। উদ্দীপকে পুরুষশাসিত সমাজে শোষণের নগ্নরূপ অঙ্কিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হয় মীনা ও তার মা রানুর । চরিত্রহীন মোড়লের হাত থেকে রক্ষা পেতে রানু তার মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেন। কিন্তু অর্থলোভী ও স্বার্থান্ধ পরিবারে মীনার ঠাঁই হয়নি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত রানু ও মীনাকে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। আলোচ্য গল্পেও পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার ঘৃণ্য রূপ পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, প্রতিকূল সমাজচিত্রের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
'বেঁচে থাকার লড়াই।'- কথাটি উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় নারীদের সংগ্রাম করে টিকে থাকার চিত্র উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। 'মাসি-পিসি' গল্পের প্রধান উপজীব্য মাসি ও পিসির কঠোর জীবনসংগ্রাম। মাসি-পিসি সর্বদা অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত। সমাজজীবনে সহায়- সম্বলহীন ও দুর্বল অবস্থানে থেকেও তারা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিপদগ্রস্ত আহ্লাদিকে তারা আগলে রেখেছে। নারী হয়েও তারা নৌকা চালনা ও সবজির ব্যাবসা করেছে। আহ্লাদি ও নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে একমাত্র সন্তান মীনাকে নিয়ে বিধবা রানুর কষ্টের সংসার। স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কৃষিজমিতে উৎপন্ন ফসল তার আয়ের একমাত্র উৎস। এই সামান্য আয়ে সংসার চলে না। তাই রানুকে অন্যের বাড়িতে ধানভানা ও গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হয়। গ্রাম্য মোড়লের হাত থেকে বাঁচতে অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয় রানু। কিন্তু অল্পকাল পরেই অসৎ ও লোভী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে মীনার। স্বামীর গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে সে। মা-মেয়ের টিকে থাকার লড়াই নতুন করে শুরু হয়। আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকে দেখা যায়, সার্বক্ষণিক বিপদের মধ্যে নারীদের লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। গল্পটিতে তারা মূলত নারীর শ্রেণিসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। সমাজের অবিবেচক, লোভী, স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। উদ্দীপকের রানু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। অন্যের বাড়িতে ধানভানা, মাড়াই দেওয়া প্রভৃতি কাজ করে মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাতে হয় তাকে। সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মেয়েকে বিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে অসহায় মা-মেয়েকে অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা করতে হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আলোচ্য গল্প এবং উদ্দীপকের নারীরা কঠোর জীবনসংগ্রামে লিপ্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো