HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
বাপ-মা মরা অভাগী মেয়ে প্রতিমা দরিদ্র কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে অনেক কষ্টে ভাই-ঝিকে বিয়ে দেন কাকা। অভাগী প্রতিমা শ্বশুরবাড়িতেও সুখের নাগাল পায় না। কারণ, তার কাকার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য স্বামী-শাশুড়ি তার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী একদিন মারধর করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফিরে আসলে, প্রতিমা কোনোরকমে পালিয়ে কাকা-কাকীর কাছে চলে আসে। ভাইঝির এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাকা-কাকী সিদ্ধান্ত নেয়, অমন শ্বশুরবাড়িতে তাকে আর পাঠাবে না তারা।
Comilla · 2017
ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচেছিলেন?
উত্তর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮ বছর বেঁচেছিলেন।
খ
'যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি'- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাসি-পিসির নানারকম প্রস্তুতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'মাসি-পিসি' গল্পে রাতের বেলা দুশ্চরিত্র ও লোভী প্রতিবেশী গোকুল আহ্লাদিকে তুলে নিতে কয়েক জন গুন্ডা-বদমাসকে পাঠায়। কিন্তু মাসি- পিসির দা-বঁটি হাতে তুলে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুণ্ডা-বদমাশদের তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তবুও এ কুচক্রীরা রাতে আবার আক্রমণ চালাতে পারে- এ আশঙ্কায় মাসি-পিসি নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। এ বিষয়টি বোঝাতে গল্পকার আলোচ্য উক্তিটি করেন।
গ
উদ্দীপকের প্রতিমার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
উত্তর
প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের প্রতিমা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির মাঝে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য দুই-ই রয়েছে।
আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি পিতৃ-মাতৃহীন এক তরুণী। বৈবাহিক জীবনে সে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে মাসি-পিসি তার রক্ষাকারীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়।
উদ্দীপকের পিতৃ-মাতৃহীন প্রতিমা কাকা-কাকির কাছে বড় হয়েছে। বিয়ের পর প্রতিমা যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত স্বামী-শাশুড়ির কাছে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে এলে তার কাকা-কাকি তাকে আর ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে আলোচ্য গল্পের আহ্লাদিও স্বামী কর্তৃক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে সে মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। এদিক থেকে প্রতিমার সঙ্গে আহ্লাদির সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে বৈসাদৃশ্যের দিকটি এই যে, প্রতিমার স্বামী যৌতুকের কারণে তাকে অত্যাচার করত, আর আহ্লাদির স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত।
ঘ
"অর্থলিপ্সা মানুষকে পরিপূর্ণ পশু করে তোলে- উদ্দীপকে ও 'মাসি-পিসি' গল্পে এ সত্যটি সন্দেহাতীতভাবে প্রকাশিত হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর
'মাসি-পিসি' গল্পে জগু গোকুলের অর্থলোভ বেশি প্রকাশিত হয়েছে, বলে তাদের আচরণে পাশবিক কদর্যতা দেখা যায়।
'মাসি-পিসি' গল্পে ফুটে উঠেছে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার আহ্লাদিকে নিরাপদে রাখার জন্য মাসি-পিসির সংগ্রামের দিকটি। সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীদের যে কত প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয় তারও রূপ ফুটে উঠেছে এ গল্পে।
উদ্দীপকের প্রতিমার স্বামী ও তার পরিবার ছিল যৌতুকলোভী ও অত্যাচারী। যৌতুকের টাকার জন্য তারা প্রতিমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তার স্বামী তাকে মেরে অজ্ঞান করে ফেলে। এদিকে আহ্লাদির স্বামী ছিল মাদকাসক্ত। এ কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাত সে।
অর্থলিপ্সার দিকটি উদ্দীপকে যেভাবে উঠে এসেছে, 'মাসি-পিসি' গল্পে সেভাবে উঠে আসেনি। যৌতুকের টাকাই প্রতিমার দুর্ভোগের কারণ। কিন্তু আহ্লাদির ক্ষেত্রে স্বামীর নেশাগ্রস্ত হওয়াটাই মুখ্য। আহ্লাদির ভাগে পড়া জমির প্রতি স্বামীর জগুর লোভ ছিল বৈকি, তবে সে দিকটি এ গল্পে মুখ্য হয়ে ওঠেনি। প্রতিমা ও আহ্লাদি দুজনই শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, অর্থলিন্সার দিকটি আলোচ্য গল্পে মুখ্য হয়ে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ নয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো