HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সারওয়ার সাগর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র। দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করা তার শখ। কিছুদিন আগে সে বন্ধুদের সঙ্গে কাশ্মীর ভ্রমণে যায়। সেখানে পাহাড় এবং ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সে মুগ্ধ হয়। পাহাড়ি ফুলের গন্ধ ও ঝরনার মনোমুগ্ধকর শব্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে তাকে আকুল করে।
ক
জালালাবাদ থেকে কাবুলের দূরত্ব কত মাইল?
উত্তর
জালালাবাদ থেকে কাবুলের দূরত্ব একশ মাইল।
খ
"আপনি তো ওদের মালজানের জিম্মাদার নন।"- কে, কাকে, কেন বলেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ "আপনি তো ওদের মালজানের জিম্মাদার নন।"- বেতার কর্মচারী এই কথাটি লেখককে বলেছিলেন।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় কাবুল যাত্রায় লেখকদের বহন করা গাড়ি একসময় জালালাবাদ শহরে ঢোকে। তখন কাবুলিরা এক মিনিটের ভেতর যে যার মতো তড়িঘড়ি করে নেমে পড়ে। কেউ একবার জিজ্ঞেসও করে না বাস ফের কখন ছাড়বে। তারা ফিরে না এলে গাড়িও ছাড়বে না। তাই লেখক চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাঁর এমন অবস্থা দেখে বেতার কর্মচারী তার সঙ্গে যেতে বলেন। আবার লেখক তাকে জিজ্ঞেস করেন, সবাই কোথায় গেল, আর ফিরবেই বা কখন? তখন লেখকের উদবিগ্নতা দেখে বেতার কর্মচারী আলোচ্য কথাটি বলেন।
সারকথা: জালালাবাদ থেকে পুনরায় বাস ছাড়া নিয়ে। লেখকের উদবিগ্নতায় বেভার কর্মচারী প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
গ
উদ্দীপকের দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার কোন বিশেষ দিকটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জালালাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে।
➤ কোনো কোনো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতটাই চিত্তাকর্ষক যে তো যেকোনো মানুষের হৃদয়কে মুগ্ধ করে। প্রকৃতির পাহাড়, পর্বত, নদী-নালা, ঝরনা প্রভৃতি এর সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এসব মনোরম দৃশ্য দেখে এবং ফুল-ফলের সুবাস গ্রহণ করে মানুষের হৃদয় আনন্দে মেতে ওঠে।
➤ উদ্দীপকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সারওয়ার সাগরের দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করা শখ। কিছুদিন আগে সে বন্ধুদের সঙ্গে কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। পাহাড়ি ফুলের গন্ধ ও ঝরনার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তাকে আকুল করে। এ দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনায়ও দেখা যায়। এ রচনায় লেখকদের গাড়ি জালালাবাদ থামলে কবির সন্ধ্যা কাটে নালার পাড়ে, নারগিস বনের এক পাশে, চিনার মর্মরের মাঝখানে। খেয়েদেয়ে লেখক সেখানেই চারপাইয়ে শুয়ে পড়েন। শেষ রাতে তিনি শুনতে পান জলের কুলুকুলু শব্দ আর ফুলের সৌরভ। এই দুইয়ে মিলে একটি মনোমুগ্ধকর আবহ তৈরি করে। এ দিকটি উদ্দীপকের কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটিকেই নির্দেশ করে।
সারকথা: উদ্দীপকের কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জালালাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটিকেই নির্দেশ করে
ঘ
"উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার একটি খন্ডচিত্রকে ধারণ করে।"- মন্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
➤ "উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার একটি খন্ডচিত্রকে ধারণ করে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ এই সুবিশাল পৃথিবীর অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তাই এই অজানাকে জানা ও অদেখাকে দেখার প্রবৃত্তি থাকাটা মানুষের জন্য স্বাভাবিক। এজন্যই মানুষ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নতুন নতুন জায়গায় ভ্রমণ করে। এসব ভ্রমণে মানুষ নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করে।
➤ উদ্দীপকের সারওয়ার সাগর কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। এ দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জালালাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে। তবে এই দিকটি আলোচ্য রচনার একটি খন্ড অংশকে নির্দেশ করে। কেননা এ রচনার লেখক হাওড়া স্টেশন থেকে কাবুলের উদ্দেশে যে যাত্রাটি শুরু করেছিলেন তাতে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ রসঘন এক অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে। পাশাপাশি এ রচনাটির মাধ্যমে আমরা লেখকের জীবনবোধ, সাহিত্যরুচি ও নিজস্ব শিল্প-বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারি। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক জালালাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও কাবুল যাত্রার অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। যাত্রাপথে হরেক রকম মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, পাঠানদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক-ভৌগোলিক-সাংস্কৃতিক নানা বিষয় লেখক এ রচনায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অথচ এসব দিক উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জালালাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের বর্ণনায় কাশ্মীরের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে এটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার শুধু একটিমাত্র দিককে ধারণ করে, বাকি বিষয়গুলোর নয়। য়। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো