HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
তৌহিদুল ইসলাম সাহেব তাঁর বাড়ির চারপাশে অনেক বৃক্ষ রোপণ করেছেন। প্রতিদিন তিনি নিজ হাতে গাছের পরিচর্যা করেন, পানি ঢালেন, আগাছা উপড়ে দেন। তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ। বিভিন্ন গাছে যখন ফুল ফোটে, ফল হয়, তখন তিনি আনন্দ খুঁজে পান। সেই আনন্দকে জগতের অন্য কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। তিনি প্রকৃতির মধ্যেই জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান।
ক
কীসের দিকে তাকালে জীবনের সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়?
উত্তর
বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়।
খ
বৃক্ষের ইতিহাসকে লেখক বৃদ্ধির ইতিহাস বলেছেন কেন?-ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
যে বৃক্ষের জন্ম থেকে পরিপূর্ণতা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই ধারাবাহিক বিকাশ, পরিবর্ধন ও পরিণতির ক্রমাগত গতিশীল প্রক্রিয়া, যা জীবনের আদর্শ প্রতীক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বৃক্ষের সার্থক জীবনপরিক্রমা দেখিয়েছেন। বৃক্ষের সম্পূর্ণ যাত্রাটি কেবল আকারগত বৃদ্ধি নয় বরং জীবনীশক্তি ও পরিপক্বতার ক্রমবিকাশ। বৃক্ষের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও বিকাশই তাকে জীবনের প্রতীক করে তোলে। এজন্যই লেখক বৃক্ষের ইতিহাসকে বৃদ্ধির ইতিহাস বলেছেন।
গ
'জীবন ও বৃক্ষ' গদ্যের কোন দিকটি তৌহিদুল ইসলাম সাহেবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর
উদ্দীপকের তৌহিদুল ইসলাম সাহেবের মধ্যে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের বৃক্ষের মতো বিকাশশীল, সেবামুখী ও প্রকৃতির সাথে একাত্ম জীবনের মাধ্যমে সার্থকতা খোঁজার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বৃক্ষকে জীবনের আদর্শ প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বৃক্ষ শুধু নিজে বড়ো হয় না, ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অন্যের সেবায় নিয়োজিত হয়। বৃক্ষের বৈশিষ্ট্যই হলো জীবনের পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার রূপক।
উদ্দীপকের তোহিদুল ইসলাম বৃক্ষ রোপণ, পরিচর্যা এবং ফুল-ফলের মাধ্যমে আনন্দ খোঁজার মাধ্যমে বৃক্ষের গুণকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি বৃক্ষের সাথে নিজের জীবনকে জড়িত করেছেন, যা প্রবন্ধে বর্ণিত বৃক্ষের সজীবতা, বিকাশ ও সেবামুখিতার প্রতিফলন। তার আনন্দ শুধু ব্যক্তিগত নয়- প্রকৃতির সাথে একাত্মতা ও সৃষ্টিশীলতায় নিহিত, যা প্রবন্ধে উল্লিখিত পরিপূর্ণতা ও দান-এর ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। উদ্দীপকে তার পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষের বিকাশ এবং প্রাপ্ত আনন্দ প্রবন্ধের মূল ব্যক্তব্যকে সমর্থন করে যে, প্রকৃতির মধ্য দিয়ে জীবনের স্বার্থকতা খোঁজা সম্ভব।
ঘ
তৌহিদুল ইসলাম সাহেব একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ-উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
তৌহিদুল ইসলাম সাহেবের একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ' উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য। কারণ তিনি তার জীবনদর্শন ও আনন্দের উৎসকে প্রকৃতির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রকৃতিপ্রেম একটি দার্শনিক ও জীবনবোধের বিষয়। বৃক্ষের মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক স্থাপন মানে জীবনের গতিশীলতা, বিকাশ ও পরিপূর্ণতার সাথে একাত্ম হওয়া। প্রকৃতিপ্রেম একজন ব্যক্তিকে আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে।
উদ্দীপকের তৌহিদুল ইসলাম সাহেব বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি প্রতিদিন সেগুলোর পরিষ্কার ও পরিচর্যা করেন। এটি একটি নিয়মিত, শ্রমসাধ্য ও সময়দানকারী কর্ম যা প্রকৃতির প্রতি তার গভীর মমতা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশ করে। তার আনন্দ জগতের অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। এই বক্তব্য প্রকৃতির সাথে তার অন্তরঙ্গ ও আত্মিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, যা প্রকৃতির প্রেমের উচ্চতর স্তর।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রকৃতি প্রেমকে জীবনের সার্থকতা ও বিকাশের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তৌহিদুল ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গিরই বাস্তব রূপ। তিনি বৃক্ষের মধ্যে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান। তার কাজ শুধু পরিবেশ সেবা নয়, একটি ব্যক্তিগত দার্শনিক চর্চা, যেখানে প্রকৃতির মাধ্যমে তিনি নিজের জীবনকে অর্থময় করে তোলেন। তিনি শখের বাগানি নন, বরং একজন গভীর প্রকৃতিপ্রেমী, যার কাছে প্রকৃতি জীবনের শিক্ষক, সহচর ও পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যম।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো