HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
৮ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। সেই দিবসে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নারীজাগরণে দীক্ষিত নাসিরা সিদ্দিকা বলেন, উনিশ শতকে বাংলামোদ নারীসমাজের অবস্থা ছিল খুবই ভয়াবহ। নারীর অধিকার বলতে কিছুই ছিল না তখন। খুশির সংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে নারীর অবদা পূর্বের মতো ভয়াবহ নয়, তারা অনেকটাই জেগে উঠেছে, তবে ভারা এখনও পুরোপুরি জেগে উঠতে পারেনি, তাই তাদের জেগে উঠতে হবে। সমাজ ও দেশের স্বার্থে নারীকে তার অধিকার সচেতন হয়ে পুরুষের সমধর্মী হয়ে উঠতে হবে।
ক
কলম্বাসকে লোকেরা কী বলেছিল?
উত্তর
কলম্বসকে লোকেরা বাতুল (উন্মাদ/পাগল) বলেছিল।
খ
"অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।" উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ নারীরাও যে সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, উক্তিটির মধ্য দিয়ে সেটি সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
➤ পুরুষের মতো নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তারাও সমাজের গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সম্পর্কে পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অবলা বিবেচনা করে পেছনে ফেলে রাখলে চলবে না। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নারীরা যদি উপযুক্তভাবে সন্তান গড়ে তোলে তাহলে সেই সন্তানই গঠন করতে পারে দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। নারীদের উন্নয়নের ওপর দেশ ও জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে।
সারকথা : পুরুষের মতো নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তারাও সমাজের গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
গ
উদ্দীপকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশাপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকে উনিশ শতকে নারীসমাজের যে দুর্দশার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক একই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন।
➤ পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা বরাবরই অবমাননার শিকার হয়। পূর্বে তাদের জীবন আরও বেশি দুর্বিষহ ছিল। আধুনিক যুগে নারীরা অধিকার সচেতন। সমাজের প্রচলিত নিয়মে তাদের আর বেঁধে রাখা যাবে না।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ায় ভারতবর্ষের পুরুষশাসিত সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। উদ্দীপকে উনিশ শতকের নারীসমাজের দুর্দশার কথাই যেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উঠে এসেছে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়। আমাদের সমাজের নারীরা গোঁড়া পর্দাপ্রথা ও রক্ষণশীলতার কূপমণ্ডুক অচলায়তনে বন্দিনি জীবনযাপন করছে। এ পর্দাপ্রথা বা পর্দাহীনতা কোনোটির প্রতিই লেখিকার বিদ্বেষ নেই। কিন্তু পর্দার নামে নারীদের যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে বন্দি করে রাখা হতো প্রাবন্ধিক তার সমালোচনা করেছেন। প্রবন্ধে পুরুষ দ্বারা নারীদের অবমাননার বিষয়টি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
সারকথা: উদ্দীপকে উনিশ শতকে নারীসমাজের যে দুর্দশার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।
ঘ
"উদ্দীপকে উল্লিখিত নারীর অধিকার সচেতন হয়ে জেগে ওঠার বিষয়টিই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মূল কথা।" মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
➤ "উদ্দীপকে উল্লিখিত নারীর অধিকার সচেতন হয়ে জেগে ওঠার বিষয়টিই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মূল কথা।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ নারী পূর্বে যে অবস্থায় ছিল বর্তমানে আর তেমন নেই। বর্তমানে নারীরা অধিকার সচেতন। বর্তমান তারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে সমাজের অগ্রগতি সম্পন্ন করছে। নারীর এই জাগরণ বিশ্বের জন্য কল্যাণকর।
➤ উদ্দীপকে নারীকে জেগে ওঠার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজ ও দেশের স্বার্থে নারীকে জেগে উঠতেই হবে, অন্যথায় সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি সাধন সম্ভব নয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী: প্রবন্ধে এই যুক্তি প্রদর্শন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে আমাদের নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। সমাজের অর্ধেক অংশ নারীকে এভাবে পেছনে ফেলে রেখে পুরুষের পক্ষে এককভাবে কর্মক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য সম্ভব নয়। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নারীকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। নারীর কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, নারীদের কর্মের পরিধি বিস্তৃত হলে সমাজে জরাজীর্ণ বিশ্বাসগুলো খুব সহজেই ভেঙে পড়বে।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখকের মতানুসারে পৃথিবীর সকল সুসভ্য জাতির নারীরা যেখানে শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসের ফলে পুরুষদের সঙ্গীরূণে তাদের পাশাপাশি উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করছে, সেখানে বাঙালি নারীসমাজ অন্তঃপুরবাসিনী বন্দিনির মতো জীবনযাপন করছে। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে তাদেরকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন লেখক ও উদ্দীপকের বস্তা। এই বিবেচনায় বলল যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত নারীর অধিকার সচেতন হয়ে জেগে ওঠার বিষয়টিই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মূল কথা। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্য পিছিয়েপড়া নারীসমাজকে জেগে উঠতেই হবে। নারীসমাজের অনগ্রসরতাই সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো