গদ্য : বিলাসী Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর গদ্য : বিলাসী অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৭১

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।
ক
এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর

এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
খ
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বুঝানো হয়েছে?

উত্তর

উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জারের সেবায় রত বিলাসীর কৃষ্ণ শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। "বিলাসী' গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
গ
বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর ।

উত্তর

বিলাসী চরিত্রের মানবসেবাধর্ম ও উপার্জনক্ষমতার দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর সাথে উচ্চবর্ণের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় প্রণয় ও পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। বিশেষত মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় বিলাসীর সেবা মৃত্যুঞ্জয়কে তথাকথিত সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সমাজ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং বিলাসীর সাথে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। কিন্তু বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়কে আলাদা করা সম্ভব হয়নি। উদ্দীপকে মহুয়া মায়ের ভালোবাসায় সমাজের সকল অপঘাতে বিরুদ্ধাচারণ করে প্রতিবাদী হয়ে উঠে গ্রাম ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। এদিকটি "বিলাসী" গল্পের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আবার, বিলাসী গল্পের বিলাসী ও উদ্দীপকের মহুয়া উভয়ই স্বনির্ভর উপার্জনে সক্ষম নারী। এদিক থেকেও তাদের মিল রয়েছে।
ঘ
"বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মহড়া প্রতিবাদী চরিত্র হলেও "বিলাসী" গল্পের বিলাসী প্রতিবাদী নয়। 'বিলাসী' গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্চায়ের সঙ্গে . বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী গুঁড়া এ বিয়ে 'ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। কিন্তু বিলাসী তাতে কোন প্রতিবাদ করে না। অপরদিকে উদ্দীপকের মহুয়া শহরে পোশাকখানায় কাজ করে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। কারণ তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না। সে সমস্বরে প্রতিবাদ জানায়। এ থেকে বোঝা যায়, মহুয়া একটি প্রতিবাদী নারী চরিত্র। বিলাসী গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির উর্ধ্বে মানব মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষ শক্তির অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে। আবার উদ্দীপকে মা-মেয়ের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, "বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।
ক
এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর

এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
খ
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বুঝানো হয়েছে?

উত্তর

উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জারের সেবায় রত বিলাসীর কৃষ্ণ শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। "বিলাসী' গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
গ
বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর ।

উত্তর

বিলাসী চরিত্রের মানবসেবাধর্ম ও উপার্জনক্ষমতার দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর সাথে উচ্চবর্ণের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় প্রণয় ও পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। বিশেষত মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় বিলাসীর সেবা মৃত্যুঞ্জয়কে তথাকথিত সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সমাজ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং বিলাসীর সাথে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। কিন্তু বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়কে আলাদা করা সম্ভব হয়নি। উদ্দীপকে মহুয়া মায়ের ভালোবাসায় সমাজের সকল অপঘাতে বিরুদ্ধাচারণ করে প্রতিবাদী হয়ে উঠে গ্রাম ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। এদিকটি "বিলাসী" গল্পের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আবার, বিলাসী গল্পের বিলাসী ও উদ্দীপকের মহুয়া উভয়ই স্বনির্ভর উপার্জনে সক্ষম নারী। এদিক থেকেও তাদের মিল রয়েছে।
ঘ
"বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মহড়া প্রতিবাদী চরিত্র হলেও "বিলাসী" গল্পের বিলাসী প্রতিবাদী নয়। 'বিলাসী' গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্চায়ের সঙ্গে . বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী গুঁড়া এ বিয়ে 'ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। কিন্তু বিলাসী তাতে কোন প্রতিবাদ করে না। অপরদিকে উদ্দীপকের মহুয়া শহরে পোশাকখানায় কাজ করে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। কারণ তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না। সে সমস্বরে প্রতিবাদ জানায়। এ থেকে বোঝা যায়, মহুয়া একটি প্রতিবাদী নারী চরিত্র। বিলাসী গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির উর্ধ্বে মানব মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষ শক্তির অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে। আবার উদ্দীপকে মা-মেয়ের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, "বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সৌদামিনী মালোর পালিত পুত্র হরিদাসকে নিয়ে মনোরঞ্জন মালো গ্রামময় প্রচার করে দিল যে সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কর্ম করেছে। ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে সে। সৌদামিনী মালোর সাথে মনোরঞ্জন মালোর শত্রæতা আগে ছিল ব্যক্তিগত এখন তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একা মনোরঞ্জন মালো নয়, সমস্ত গ্রাম সৌদামিনী মালোর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করল।

Barisal · 2022

ক
'বিলাসী' গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?

উত্তর

'বিলাসী' গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
খ
“একলা যেতে ভয় করবে না তো?'- কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

আম বাগানের জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যেতে ভয় করবে কি না তা জানতে চেয়ে বিলাসী ন্যাড়াকে উদ্দেশ করে আলোচ্য উক্তিটি করেছে। দীর্ঘদিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা না পেয়ে, তার মর মর অবস্থার কথা জানতে পেরে তাকে দেখতে এসেছিল ন্যাড়া। ফেরার সময় পথ এমনকি নিজের হাতও দেখতে না পাওয়া জমাট অন্ধকারে আম বাগানের ভেতর দিয়ে আসতে যে কারো দারুণ ভয় পাওয়ার কথা। বিলাসী সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ন্যাড়ার কাছে জানতে চেয়েছে সে একা যেতে ভয় পাবে কি না ।
গ
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সাথে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

উত্তর

তৎকালীন হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুসারে উচ্চ জাতকে কলঙ্কিত করেছে এই অজুহাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সঙ্গে সৌদামিনী মালো করে দুজনেই কর্পোরেট জব করছে এবং পরিবারের ও বিলাসী চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় । 'বিলাসী' গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী খুড়া এ বিয়ে ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের আমবাগান দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুড়া জুলুম করার এমন প্রেক্ষাপট তৈরি করে । উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোকেও ব্রাহ্মণের জাত মারার অপবাদ দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাজেহাল করা হয়। মনোরঞ্জন মালোর সঙ্গে সৌদামিনী মালোর পূর্ব শত্রুতা ছিল। ব্যক্তিগত সেই শত্রুতাকে গ্রামময় ছড়িয়ে দিতে মনোরঞ্জন মালো পুরো গ্রামে প্রচার করে যে, সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপকর্ম করেছে। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে সমাজের লোকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। গোটা গ্রাম তখন সৌদামিনীর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করে। 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর অবস্থাও সৌদামিনীর মতোই। সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করা ও ভাত রেঁধে খাওয়ানোর কারণে গায়ে হাত তুলে টেনেহিঁচড়ে গ্রামের বাইরে বের করে দেওয়া হয় বিলাসীকে। বিলাসীর ওপর জুলুম করতে সম্পত্তির লোভে অন্ধ খুড়া | গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে। উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোও বিলাসীর মতোই এমন জুলুমের শিকার। তাই বলা যায়, ধর্মীয় কুসংস্কারকে ব্যবহার করে অত্যাচার করার দিক থেকে উভয় চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
ঘ
উদ্দীপকের 'ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ' 'বিলাসী' গল্পে কীভাবে দেখানো হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ' 'বিলাসী' গল্পে দেখানো হয়েছে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত খাওয়ানোর অর্থাৎ অন্নপাপের মধ্য দিয়ে। 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হওয়ায় তার রান্না করা ভাত উচ্চ. জাতের কেউ খেতে পারবে না। এতে অন্নপাপ হয় বলেই সমাজের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছে। এজন্য মৃত্যুঞ্জয়ের জাত গেছে ও মিত্তির বংশের নাম ডুবেছে বলে জ্ঞাতি খুড়া গ্রামময় প্রচার করে। তৎকালীন সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এতে ভয়ানক অপরাধ হয়েছে বলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়। উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোকে ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপের কথা বলে তার ওপর জুলুম করা হয়। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে প্রচার করে মনোরঞ্জন মালো। পূর্বশত্রুতার জেরে মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীর বিরুদ্ধে গোটা সমাজকে খেপিয়ে তোলে। সমাজের মানুষও এতটাই অন্ধবিশ্বাসী যে তারা মনোরঞ্জন মালোর কথায় প্রভাবিত হয়ে সৌদামিনীর ওপর জুলুম চালায় । 'বিলাসী' গল্পে বিলাসীর ওপরও ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কথাটির প্রয়োগ করা হয় অন্নপাপ করার অভিযোগের ভেতর দিয়ে। সে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে উচ্চবংশীয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রেঁধে খাইয়ে যেন অপরাধ করেছে। কঠিন অসুখে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন বিলাসীর মতো মানবিক মেয়ে রাত-দিন তার পাশে ছিল । তার অক্লান্ত সেবা-শুশ্রুষা ও রাতজেগে সেবার পর মৃত্যুঞ্জয় সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই দুর্দিনে গাঁয়ের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি, উদ্যোগ নেয়নি ভালো চিকিৎসার। কিন্তু চক্রান্তকারী লোভী খুড়ার প্ররোচনায় সবাই অন্নপাপের অপবাদে একজোটহয়ে আক্রমণ করে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে জাতে ওঠে। তাই তারা বিলাসীকে নির্যাতন করে মৃত্যুঞ্জয়ের বা দেয়। বিলাসী তাদেরকে বলার চেষ্টা করে যে, সে মৃত স্ত্রী। তবুও অন্নপাপের ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজের অজুহ ওপর জুলুম করে । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রান্না করে ভয়ানক শাস্ত্র-বিরুদ্ধ পাপ বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ে এমন পাপকে অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সৌদামিনী মালোর পালিত পুত্র হরিদাসকে নিয়ে মনোরঞ্জন মালো গ্রামময় প্রচার করে দিল যে সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কর্ম করেছে। ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে সে। সৌদামিনী মালোর সাথে মনোরঞ্জন মালোর শত্রæতা আগে ছিল ব্যক্তিগত এখন তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একা মনোরঞ্জন মালো নয়, সমস্ত গ্রাম সৌদামিনী মালোর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করল।

Barisal · 2022

ক
'বিলাসী' গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?

উত্তর

'বিলাসী' গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
খ
“একলা যেতে ভয় করবে না তো?'- কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

আম বাগানের জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যেতে ভয় করবে কি না তা জানতে চেয়ে বিলাসী ন্যাড়াকে উদ্দেশ করে আলোচ্য উক্তিটি করেছে। দীর্ঘদিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা না পেয়ে, তার মর মর অবস্থার কথা জানতে পেরে তাকে দেখতে এসেছিল ন্যাড়া। ফেরার সময় পথ এমনকি নিজের হাতও দেখতে না পাওয়া জমাট অন্ধকারে আম বাগানের ভেতর দিয়ে আসতে যে কারো দারুণ ভয় পাওয়ার কথা। বিলাসী সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ন্যাড়ার কাছে জানতে চেয়েছে সে একা যেতে ভয় পাবে কি না ।
গ
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সাথে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

উত্তর

তৎকালীন হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুসারে উচ্চ জাতকে কলঙ্কিত করেছে এই অজুহাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সঙ্গে সৌদামিনী মালো করে দুজনেই কর্পোরেট জব করছে এবং পরিবারের ও বিলাসী চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় । 'বিলাসী' গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী খুড়া এ বিয়ে ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের আমবাগান দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুড়া জুলুম করার এমন প্রেক্ষাপট তৈরি করে । উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোকেও ব্রাহ্মণের জাত মারার অপবাদ দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাজেহাল করা হয়। মনোরঞ্জন মালোর সঙ্গে সৌদামিনী মালোর পূর্ব শত্রুতা ছিল। ব্যক্তিগত সেই শত্রুতাকে গ্রামময় ছড়িয়ে দিতে মনোরঞ্জন মালো পুরো গ্রামে প্রচার করে যে, সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপকর্ম করেছে। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে সমাজের লোকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। গোটা গ্রাম তখন সৌদামিনীর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করে। 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর অবস্থাও সৌদামিনীর মতোই। সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করা ও ভাত রেঁধে খাওয়ানোর কারণে গায়ে হাত তুলে টেনেহিঁচড়ে গ্রামের বাইরে বের করে দেওয়া হয় বিলাসীকে। বিলাসীর ওপর জুলুম করতে সম্পত্তির লোভে অন্ধ খুড়া | গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে। উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোও বিলাসীর মতোই এমন জুলুমের শিকার। তাই বলা যায়, ধর্মীয় কুসংস্কারকে ব্যবহার করে অত্যাচার করার দিক থেকে উভয় চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
ঘ
উদ্দীপকের 'ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ' 'বিলাসী' গল্পে কীভাবে দেখানো হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ' 'বিলাসী' গল্পে দেখানো হয়েছে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত খাওয়ানোর অর্থাৎ অন্নপাপের মধ্য দিয়ে। 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হওয়ায় তার রান্না করা ভাত উচ্চ. জাতের কেউ খেতে পারবে না। এতে অন্নপাপ হয় বলেই সমাজের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছে। এজন্য মৃত্যুঞ্জয়ের জাত গেছে ও মিত্তির বংশের নাম ডুবেছে বলে জ্ঞাতি খুড়া গ্রামময় প্রচার করে। তৎকালীন সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এতে ভয়ানক অপরাধ হয়েছে বলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়। উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোকে ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপের কথা বলে তার ওপর জুলুম করা হয়। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে প্রচার করে মনোরঞ্জন মালো। পূর্বশত্রুতার জেরে মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীর বিরুদ্ধে গোটা সমাজকে খেপিয়ে তোলে। সমাজের মানুষও এতটাই অন্ধবিশ্বাসী যে তারা মনোরঞ্জন মালোর কথায় প্রভাবিত হয়ে সৌদামিনীর ওপর জুলুম চালায় । 'বিলাসী' গল্পে বিলাসীর ওপরও ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কথাটির প্রয়োগ করা হয় অন্নপাপ করার অভিযোগের ভেতর দিয়ে। সে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে উচ্চবংশীয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রেঁধে খাইয়ে যেন অপরাধ করেছে। কঠিন অসুখে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন বিলাসীর মতো মানবিক মেয়ে রাত-দিন তার পাশে ছিল । তার অক্লান্ত সেবা-শুশ্রুষা ও রাতজেগে সেবার পর মৃত্যুঞ্জয় সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই দুর্দিনে গাঁয়ের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি, উদ্যোগ নেয়নি ভালো চিকিৎসার। কিন্তু চক্রান্তকারী লোভী খুড়ার প্ররোচনায় সবাই অন্নপাপের অপবাদে একজোটহয়ে আক্রমণ করে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে জাতে ওঠে। তাই তারা বিলাসীকে নির্যাতন করে মৃত্যুঞ্জয়ের বা দেয়। বিলাসী তাদেরকে বলার চেষ্টা করে যে, সে মৃত স্ত্রী। তবুও অন্নপাপের ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজের অজুহ ওপর জুলুম করে । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রান্না করে ভয়ানক শাস্ত্র-বিরুদ্ধ পাপ বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ে এমন পাপকে অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিও পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

Sylhet · 2022

ক
'বিলাসী' গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

উত্তর

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।
খ
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের নেতিবাচক ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গার্থে 'সুনাম' বলা হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে উদ্ধৃত উক্তিতে 'সুনাম' শব্দটি গল্পকথক ন্যাড়া 'দুর্নাম' অর্থে ব্যবহার করেছে। আত্মীয়-পরিজনহীন মৃত্যুঞ্জয়ের এক জ্ঞাতি খুড়া ছিল। সে তার নামে দুর্নাম রটনা করে বেড়াত। দুর্নাম রটানোর কারণে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল |যে, গ্রামবাসী তার সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা দূরে থাক, তার সঙ্গে সংশ্রব থাকার কথাটা পর্যন্ত স্বীকার করত না। নিজ গ্রামে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গেই গল্পটিতে উদ্ধৃত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে। উদ্দীপকের গফুর রেগে গিয়ে লাঙলের ফলা দিয়ে তার প্রিয় গরু মহেশকে আঘাত করে। ফলে মহেশ মারা যায়, যা তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। কিন্তু এর ফলে সমাজপতিদের চাপে তাকে গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করার মতো শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। তাই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে গফুর রাতের অন্ধকারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোহত্যার ঘটনাটি তার ইচ্ছাকৃত ছিল না, তবুও সমাজের ভয়ে তাকে তার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজচ্যুত হয়। গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের এই ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান ।
ঘ
“উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং গল্পের 'অন্নপাপ' একই সূত্রে গাঁথা”- তোমার মতামত আলোচনা কর।

উত্তর

তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ বাস্তবতার নিরিখে উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং গল্পের 'অন্নপাপ' মূলত একই সূত্রে গাঁথা । সেকালে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল 'অন্নপাপ' নামক প্রচলিত ধারণা। অন্নপাপ বলতে সমাজে উঁচু জাতের কেউ নিচু জাতের কারো হাতে ভাত খাওয়াকে বোঝায়। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করলে অন্নপাপের অভিযোগে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়৷ উদ্দীপকের গফুরের অত্যন্ত প্রিয় গরু মহেশ। দারিদ্র্যের কারণে গফুর ঠিকমতো তার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না। একদিন রাগের মাথায় মহেশকে আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। এমতাবস্থায় গোহত্যার অভিযোগে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিজেকে বাঁচাতে সে সপরিবারে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তার এই গ্রামছাড়া হওয়ার কারণ তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও সংকীর্ণ চিন্তাধারা। 'বিলাসী' গল্পে গল্পকার তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের ভয়াবহ রূপটি উন্মোচন করেছেন। অসবর্ণের হওয়ায় সেই সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়েকে স্বীকৃতি দেয় না। উপরন্তু অন্নপাপের অজুহাতে তাদের নিপীড়ন করে গ্রামছাড়া করে । ফলে বাধ্য হয়েই মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করতে হয় এবং পরিণতিতে সর্প দংশনে মৃত্যু হয় তার। একইভাবে, গোহত্যার কারণে রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়েই গফুরকেও গ্রাম ছাড়তে হয়। এই গোহত্যাজনিত অপরাধ বা অন্নপাপ মূলত রক্ষণশীল মানসিকতারই প্রকাশ। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিও পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

Sylhet · 2022

ক
'বিলাসী' গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

উত্তর

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।
খ
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের নেতিবাচক ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গার্থে 'সুনাম' বলা হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে উদ্ধৃত উক্তিতে 'সুনাম' শব্দটি গল্পকথক ন্যাড়া 'দুর্নাম' অর্থে ব্যবহার করেছে। আত্মীয়-পরিজনহীন মৃত্যুঞ্জয়ের এক জ্ঞাতি খুড়া ছিল। সে তার নামে দুর্নাম রটনা করে বেড়াত। দুর্নাম রটানোর কারণে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল |যে, গ্রামবাসী তার সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা দূরে থাক, তার সঙ্গে সংশ্রব থাকার কথাটা পর্যন্ত স্বীকার করত না। নিজ গ্রামে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গেই গল্পটিতে উদ্ধৃত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে। উদ্দীপকের গফুর রেগে গিয়ে লাঙলের ফলা দিয়ে তার প্রিয় গরু মহেশকে আঘাত করে। ফলে মহেশ মারা যায়, যা তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। কিন্তু এর ফলে সমাজপতিদের চাপে তাকে গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করার মতো শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। তাই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে গফুর রাতের অন্ধকারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোহত্যার ঘটনাটি তার ইচ্ছাকৃত ছিল না, তবুও সমাজের ভয়ে তাকে তার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজচ্যুত হয়। গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের এই ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান ।
ঘ
“উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং গল্পের 'অন্নপাপ' একই সূত্রে গাঁথা”- তোমার মতামত আলোচনা কর।

উত্তর

তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ বাস্তবতার নিরিখে উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং গল্পের 'অন্নপাপ' মূলত একই সূত্রে গাঁথা । সেকালে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল 'অন্নপাপ' নামক প্রচলিত ধারণা। অন্নপাপ বলতে সমাজে উঁচু জাতের কেউ নিচু জাতের কারো হাতে ভাত খাওয়াকে বোঝায়। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করলে অন্নপাপের অভিযোগে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়৷ উদ্দীপকের গফুরের অত্যন্ত প্রিয় গরু মহেশ। দারিদ্র্যের কারণে গফুর ঠিকমতো তার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না। একদিন রাগের মাথায় মহেশকে আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। এমতাবস্থায় গোহত্যার অভিযোগে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিজেকে বাঁচাতে সে সপরিবারে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তার এই গ্রামছাড়া হওয়ার কারণ তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও সংকীর্ণ চিন্তাধারা। 'বিলাসী' গল্পে গল্পকার তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের ভয়াবহ রূপটি উন্মোচন করেছেন। অসবর্ণের হওয়ায় সেই সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়েকে স্বীকৃতি দেয় না। উপরন্তু অন্নপাপের অজুহাতে তাদের নিপীড়ন করে গ্রামছাড়া করে । ফলে বাধ্য হয়েই মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করতে হয় এবং পরিণতিতে সর্প দংশনে মৃত্যু হয় তার। একইভাবে, গোহত্যার কারণে রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়েই গফুরকেও গ্রাম ছাড়তে হয়। এই গোহত্যাজনিত অপরাধ বা অন্নপাপ মূলত রক্ষণশীল মানসিকতারই প্রকাশ। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো