HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাঠ শেষ করতে করতেই আমার বোনের অনেক বয়স হয়ে যায়। তিন তিনবার তার বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাবার পর কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ি। একদিন তাকে ডেকে বলি, 'সানজিদা, কাল বাসায় একটি নতুন বরপক্ষ তোকে দেখতে আসবে।' শুনে ওর চেহারা কঠিন হয়ে ওঠে, বলে, 'তুই শুধু শুধু ব্যস্ত হচ্ছিস তপন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আমার যা কাজ তা জীবনভর শেষ হবার নয়।'
Rajshahi · 2017
ক
কাকে 'মাকাল ফল' বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে?
উত্তর
অনুপমকে 'মাকাল ফল' বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
খ
অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও।
উত্তর
অনুপম মহাসমারোহের সাথে বিয়ে করতে গিয়েছিল।
ধনী ঘরের ছেলে অনুপম। তাই তার বিয়েতে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। ব্যান্ড, বাঁশি, কন্সট কোনো কিছুরই কমতি ছিলো না। দামি পোশাক ও বাহারি গয়নাতে জড়ানো ছিল অনুপমের শরীর। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে ভাবী শ্বশুরের সঙ্গে আভিজাত্যের মোকাবিলা করতে বিয়ের আসরে যাচ্ছে
গ
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য- বৈসাদৃশ্যগুলো আলোচনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের সানজিদার সঙ্গে কল্যাণীর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য এবং যৌতুকের কাছে মাথা নত না করার ঘটনায় বৈসাদৃশ্য উভয়ই লক্ষ করা যায়।
'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী চরিত্রটি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সমাজে গেড়ে বসা যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ধ্বনিত হয়েছে এ চরিত্রের মাধ্যমে। পিতার কথায় অনুপমকে বিয়ে না করে সে পিতার যৌক্তিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এছাড়া সমাজের অবহেলিত নারীদের শিক্ষাদানের মহান দায়িত্বে সে নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছে। সর্বোপরি সেবাব্রত ও নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে কল্যাণী এক অসাধারণ নারী চরিত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
উদ্দীপকের সানজিদা বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সে বার বার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও দুঃখে কাতর হয়নি। বিয়েই যে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয় তা সে উপলব্ধি করতে পেরেছে। 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীও এমনই মানব সেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের পক্ষে মোটেও সহজ ছিল না। এরূপ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বই তাদের দুজনকে এক করে দিয়েছে। কিন্তু কল্যাণী বরপক্ষকে বিয়ের আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। পুরুষশাসিত সমাজের কাছে এমনকি যৌতুকের কাছে মাথা নত করেনি। তার চরিত্রে ফুটে উঠেছে প্রতিবাদী দৃঢ় ব্যক্তিত্ব। এসবের বিচারে উদ্দীপকের সানজিদার সাথে তার কিছু বৈসাদৃশ্যও বিদ্যমান।
ঘ
উদ্দীপকটিতে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্য কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকটিতে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্য আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পেই প্রথম যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেছেন লেখক। অপিরিচিতা বিশেষণের আড়ালে বর্ণিত হয়েছে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক নারীর কাহিনি। ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে সানজিদা পুরুষশাসিত সমাজে বিরূপ মনোভাবের শিকার। কিন্তু সে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়েনি। মানবসেবায় সে নিজেকে ব্যস্ত করে রেখেছে। বিয়ে না হওয়া একজন নারীর জীবন দুঃখের হলেও সানজিদা এটিকে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে করে না। এর মধ্য দিয়ে তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। যদিও তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
'অপরিচিতা' গল্পে উদ্দীপকের বক্তব্য ফুটে উঠলেও সেই সঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে প্রতিবাদের সুর। গল্পের কল্যাণী চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজে নারী জাগরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। সমসাময়িক যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গল্পে উঠে আসলেও উদ্দীপকে তার আভাস নেই। সে যুগে কন্যাপক্ষ কর্তৃক বিয়ে ভেঙে দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু পিতা শম্ভুনাথ ও কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে সেটা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল নারী সত্তার জাগরণের কথাই উঠে এসেছে। এসব বিচারে উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো