HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেহাট ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যূত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়।
ক
উন্নত' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর
'উন্নত' শব্দের অর্থ হলো- উৎকর্ষ।
খ
"অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
"অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।" বলতে লেখক, লেখার মধ্যে অপ্রয়োজনে অলংকার প্রয়োগ করে সাহিত্যকে সুন্দর করার পরিবর্তে কদর্য করে তোলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখকের মতে সাহিত্যের রস বা নির্যাস অনেকাংশেই অলংকারের ওপর নির্ভরশীল। তবে তা অবশ্যই যথাস্থানে ব্যবহার করতে হবে। অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার জন্য জোর করা যাবে না। অযথা যেখানে-সেখানে অলংকার বা রসিকতা ব্যবহার করলে সাহিত্য সৌন্দর্যমন্ডিত হওয়ার বদলে আরও কুৎসিত হয়ে ওঠে। লেখকের ভান্ডারে থাকলে প্রয়োজন অনুসারে তা আপনা থেকেই আসবে। এই দিকটি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
সারকথা: প্রয়োজন অনুসারে সাহিত্যে রসিকতা বা অলংকার প্রয়োগ করতে হবে। অপ্রয়োজনে করলে সাহিত্য কদর্য হয়ে পড়বে।
গ
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্যর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সাহিত্য রচিত হয় মানুষের জন্য। মানুষ ছাড়া সাহিত্য এক প্রকার অসম্ভব। তাই মানুষের কল্যাণে সত্য ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কাজ। সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলে সাহিত্য মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।
উদ্দীপকের লেখক বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এই দুইয়ের মাঝে আকাশ- পাতাল প্রভেদ রয়েছে। এ প্রভেদটি ভুলে গেলেই লেখক নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য নিজের ধর্ম থেকে সরে যায়। 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও তেমন বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক বলেন- যা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন কিংবা স্বার্থসাধন যার উদ্দেশ্য সেসব প্রবন্ধ কখনো হিতকর বা কল্যাণকর হতে পারে না। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বক্তব্য, পরনিন্দা, পরপীড়ন এবং স্বার্থসাধনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সত্য ও ধর্মের কথা সাহিত্যে তুলে আনতে হবে। কারণ সত্য ও ধর্মই হলো সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: সত্য ও ধর্ম একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িত। সত্য ও ধর্ষকে প্রবণ্যে এমন কথাই বলা হয়েছে। বাদ দিয়ে মহৎ সাহিত্য রচিত হতে পারে না। উদ্দীপক ও আলোচা
ঘ
"উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।" মন্তব্যটির পক্ষে তোমার মত দাও।
উত্তর
'উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।" মন্তব্যটি যথার্থ।'
মানুষের কল্যাণে সত্য ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করা সাহিত্যের অন্যতম কাজ। সত্য ও ধর্ম ছাড়া মহৎ কিছুই কল্পনা করা যায় না। যে সাহিত্য সত্য ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত সেই সাহিত্য কখনই মানুষের জন্য সৃষ্টি হতে পারে না। মানুষের জন্য রচিত সাহিত্যে সত্য ও ধর্ম অনিবার্যরূপে থাকতে হবে।
উদ্দীপকের লেখক মনে করেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। অন্যকে আনন্দ দেওয়া আর মনোরঞ্জন করার মধ্যে যে পার্থক্য আছে, আমরা সেটাই ভুলে যাই। ফলে লেখক নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আলোচ্য প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন- যশ ও টু অর্থের জন্য লেখা যাবে না, মানুষের কল্যাণ না হলে সাহিত্য রচনা করা যাবে না। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন সাহিত্যের মাধ্যমে করা যাবে না; লিখেই ছাপানোর কথা চিন্তা করা যাবে না; বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না; অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে প্রভৃতি আরও অনেক নিয়ম প্রবন্ধে উঠে এসেছে। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যে অন্যের মনোরঞ্জন না করার ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব ই দিয়েছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকেও দেখা যায়। কিন্তু আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়টি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় এসেছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সত্য ও ধর্মের সমন্বয়ে স্থায়ী সাহিতা । সৃষ্টি হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়টি থাকলেও প্রবন্ধে এটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো