উদ্দীপকের শাসকের মতো আবদুর রহমান আদ-দাখিলের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা।
স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আবদুর রহমান আদ-দাখিল অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার। তার প্রতিষ্ঠিত আমিরাত ১০৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কয়েক শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল। অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাবলির জন্য আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের শাসক কবির মাহমুদ প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে পালিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। একইভাবে উমাইয়া যুবরাজ আবদুর রহমানও স্বদেশ থেকে উৎখাত হওয়ার পর স্পেনে আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আরবে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসিরা ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতালাভের পর আব্বাসিরা উমাইয়াদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই নৃশংসতার হাত থেকে উমাইয়া যুবরাজ আবদুর রহমান ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে উত্তর আফ্রিকায় গিয়ে মামার কাছে আশ্রয় নেন। মামার সাহায্য নিয়ে তিনি ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসারার যুদ্ধে স্পেনের তৎকালীন মুসলিম শাসনকর্তা ইউসুফকে পরাজিত করেন। এ যুদ্ধে বিজয়ের পর আবদুর রহমান ইউসুফের রাজধানী কর্ডোভা দখল করেন। তিনি ৩২ বছর স্পেন শাসন করেন। এ সময়কালে তাকে ইউসুফ ও স্যামুয়েলের বিদ্রোহ, ইয়েমেনি বিদ্রোহ, সেভিলের বিদ্রোহ, টলেডোর বিদ্রোহ প্রভৃতি মোকাবেলা করতে হয়। আবদুর রহমানকে স্পেন থেকে বিতাড়িত করার জন্য ইউসুফের পুত্র, জামাতা এবং বার্সেলোনার গভর্নর ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্রান্সের রাজা শার্লিমানকে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু ৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে তাদের সম্মিলিত বাহিনী আবদুর রহমানের কাছে পরাজিত হয়। শেষ পর্যন্ত শার্লিমান আবদুর রহমানের সাথে সন্ধি করেন। ফলে আবদুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া আমিরাতের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আবদুর রহমান স্পেনে আরবের উমাইয়া বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা ও একে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার।