এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে দুলালের মনোভাব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সাহায্য করবে।
দুলাল সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করে। ইসলাম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে। যারা এর অন্যথা করবে তারা নিজেদের ক্ষতি করবে।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী ছড়িয়ে আছে। সৃষ্টির সেরা মানব শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও ইন্দ্রিয় প্রতিবন্ধী হয়ে আমাদের সমাজে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে। নানারকম অপমানসূচক শব্দ, তুঙ্খতাচ্ছিল্য করা হয়। (যেমন- হাবাগোবা, পাগল, কানা, অনন্ম, লুলা, লেংড়া) ইসলাম এ ধরনের কাজকে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে।
এ প্রসঙ্গে মহানবি (সা.) বলেন, "মুসলমান মুসলমানের ভাই, সে তার প্রতি অত্যাচার করবে না। তাকে লাঞ্ছিত করবে না এবং তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না। তিনি বুকের দিকে ইশারা করে তিনবার বলেন। তাকওয়া এখানে। নিজ মুসলিম ভাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ঘৃণা করা অন্যায়। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের রক্ত। সম্পদ ও সম্মান সবই হারাম।" (মুসলিম) মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আমি মানবজাতিকে মর্যাদা দান করেছি।" (সুরা আল-ইসরা ৭০) সুতরাং প্রতিবন্ধীরাও সম্মানিত।
প্রতিবন্ধী শব্দটি নিয়েও প্রচলিত আছে অনেক রকমের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। আমাদের দেশে শিশুর প্রতিবন্ধিত্বের জন্য মা-বাবার পূর্ব পাপ, অভিশাপ, অন্যায়, অপরাধের শান্তি ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি প্রতিবন্ধিতা কোনো ছোঁয়াচে রোগও নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী শিশু এবং ওই শিশুর পরিবারকে সমাজে অনেক অপবাদও অবজ্ঞা সহ্য করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্মীয় শিক্ষায় ও ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। তাই প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
সুতরাং আমরাও উদ্দীপকে দুলালের ন্যায় মনোভাব পোষণ করব। প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে সদয় আচরণ করব।