রহিমার জ্ঞানার্জনের জায়গাটি মক্তব। মুসলিম সমাজজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
আরবি 'মক্তব' শব্দের অর্থ লেখার স্থান, শিক্ষাকেন্দ্র, বিদ্যালয় ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে ছোট ছোট মুসলিম বালক-বালিকাদের প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষায়তনকে বলা হয় মক্তব। সাধারণত মক্তব বলতে আমরা কুরআন শিক্ষার স্থানকে বুঝে থাকি। আসলে মক্তব বলতে ইসলামি শিক্ষার প্রাথমিক স্তরকে বোঝায়। সেখানে ইসলামের প্রাথমিক, মৌলিক ও অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শিশুদের শেখানো হয়। মক্তবের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর গোলাম হিসেবে তাদের করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত হয়। আল্লাহ-রাসুল, ফেরেশতা, আখিরাত, হাশর, কিয়ামত, শেষ বিচার, বেহেশত-দোযখ ইত্যাদি ইমানের মৌলিক বিষয়সমূহ শিক্ষালাভ করে। এর পাশাপাশি বৈষয়িক কিছু বিষয়েরও শিক্ষা দেওয়া হয় এ মক্তবে। মাতৃভাষা, হিসাব-নিকাশ, সমাজ, সাধারণ জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়েও পাঠদান করা হয়। মক্তব সাধারণত মসজিদের বারান্দায় বা মসজিদ সংলগ্ন কাছারি বা বাড়ির কাছারিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা জ্ঞানার্জনের জন্য মক্তবে যায়, সেখানে সে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি প্রতিটি কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, কারও সাথে দেখা হলে সালাম দেওয়া, খাবার শেষে শোকরিয়া করা এবং আরও অনেক ইসলামি বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা অর্জন করে। যা আমাদের দেশে প্রচলিত মক্তবের অনুরূপ এবং পাঠ্য বইয়ের পঠিত মক্তবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এ কার উক্ত প্রতিষ্ঠান মক্তবেরই প্রতিচ্ছবি।