দৃশ্যকল্প-২ এ সুমনার দেখা নদী দুটি হলো মেঘনা ও কর্ণফুলী। এ নদী দুটির মধ্যে কর্ণফুলী নদীটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
মেঘনা নদী বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখে। নৌপথ বাংলাদেশের সুলভ পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা। দেশের কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেঘনা নদী বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি অঞ্চলের প্রধান নদী হলো কর্ণফুলী। কর্ণফুলী নদীর কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। এ সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। কর্ণফুলী নদীর পাশে কাপ্তাই হ্রদ এক মনোরম পর্যটন স্থান। যা দেশের পর্যটন শিল্পে বিশেষ অবদান রাখছে। কর্ণফুলী নদীর দুই ধারে অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়াও কর্ণফুলী নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি সুমনার দেখা নদী দুটির মধ্যে কর্ণফুলী নদীটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।