উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশ দু'টি হলো নরওয়ে ও কানাডা। উক্ত দেশ দু'টির সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শীতল অঞ্চলের উপর দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে শীতকালেও বরফ জমতে পারে না। বন্দরগুলো সারাবছর ব্যবহার করা যায়। উষ্ণ, উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে নরওয়ের পশ্চিম উপকূল শীতকালে বরফমুক্ত থাকে, কিন্তু একই অক্ষাংশে অবস্থিত কানাডার পূর্ব উপকূলে বরফাচ্ছন্ন অবস্থা দেখা যায়। উষ্ণ স্রোতের অনুকূলে নৌকা, জাহাজ প্রভৃতি চলাচলের সুবিধা হয়। তাই উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে সর্বাধিক জাহাজ যাতায়াত করে।
অপরদিকে, শীতল স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূল সারাবছর বরফাচ্ছন্ন থাকে। শীতল সমুদ্রস্রোত কোনো অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ঐ অঞ্চলের শীতলতা বৃদ্ধি পায়। শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের জন্য জাহাজ চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে হিমশৈলের সাথে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে নরওয়ের পশ্চিম উপকূল সারাবছর জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ব্যবস্থার অনুকূলে থাকে এবং শীতল স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলে জাহাজ চলাচল করতে পারে না।