উদ্দীপকে চিত্র-১ ও চিত্র-৩ এর ভূমিরূপ দুটি হলো যথাক্রমে পাদদেশীয় পলল সমভূমি ও বদ্বীপ। ভূমিরূপ দুটির মধ্যে পাদদেশীয় পলল সমভূমি আমাদের দেশের কৃষির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখে। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশের তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই সংলগ্ন রংপুর, ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পলল সমভূমি নামে পরিচিত। নদীগুলো উত্তরের হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে সহজেই পাহাড় থেকে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করেছে। এ সমভূমির মাটি পাহাড় থেকে আনা খনিজ ও জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ, যা ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এ অঞ্চলের উর্বর মাটিতে ধান, গম, ভুট্টা, তেলবীজ, ডাল, আলু ছাড়াও অর্থকরী ফসল পাট, তামাক, চা চাষ হয়। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, হুগলি নদী থেকে পূর্ব দিকে মেঘনার সীমানা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সমস্ত দক্ষিণাংশ গঙ্গা ও পদ্মার বিখ্যাত বদ্বীপ অঞ্চল। বদ্বীপগুলো পলি মাটি দিয়ে গঠিত হলেও লবণাক্ততার সমস্যা ফসল উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটায়। এ অঞ্চলে লবণ-সহিষ্ণু ধান প্রধান ফসল। এছাড়াও কিছু অঞ্চলে মসুর, মুগ, সরিষা, মিষ্টি আলু, তরমুজ ইত্যাদি চাষ হয়। যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলে না।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, পাদদেশীয় পলল সমভূমি আমাদের দেশের কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখে।