উদ্দীপকের চার্ট-১ ও চার্ট-৩ হলো যথাক্রমে শর্করা জাতীয় খাদ্য ও আমিষ জাতীয় খাদ্য। নিচে এ দুধরনের খাদ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
শরীরে পুষ্টি সাধনের জন্য মানুষের প্রধান খাদ্য হচ্ছে শর্করা। খাদ্যের এ উপাদানটি শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং তাপ শক্তি উৎপাদন করে। জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয় সেটি শর্করা জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়। গ্লাইকোজেন জাতীয় শর্করা প্রাণিদেহে খাদ্য ঘাটতিতে বা অধিক পরিশ্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে। সেলুলোজ একটি অপাচ্য প্রকৃতির শর্করা যা আমাদের দৈনন্দিন মলত্যাগে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। এছাড়া খাদ্যে প্রোটিন কিংবা ফ্যাটের অভাব হলে শর্করা থেকে এগুলো সংশ্লেষ বা তৈরি হয়।
অন্যদিকে মানবদেহের গঠনে আমিষ অপরিহার্য। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং এগুলো সবই আমিষ দিয়ে তৈরি হয়। দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি খাদ্যের এ উপাদানটি নতুন কোষ উৎপাদনে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেপসিন, ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ইত্যাদি জারক রস নিঃসরণে খাদ্যের এ উপাদানটি সহায়তা করে। সুস্থ মানসিক বিকাশেও আমিষ অপরিহার্য। খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ উপাদানটির অভাবে শিশুদের মধ্যে মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি গঠনেও আমিষের ভূমিকা রয়েছে।
সুতরাং উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দেহ গঠন ও পুষ্টিগত বিবেচনায় শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্য উভয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।