উদ্দীপকের শেষাংশে আহমদ আলীর ভাষণের সাথে রাসূল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
দশম হিজরির জিলহজ মাসের নয় তারিখ (৬৩২ খ্রি.) মহানবি (সা.) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। মহানবি (সা.)-এর জীবনের শেষ তথা একমাত্র হজ বলে তা 'বিদায় হজের ভাষণ' নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মুসলিমদের তথা মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা, স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণ ছিল এ ভাষণের অন্যতম কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। আহমদ আলীর শেষ বক্তব্য বা শেষ বাক্যগুলো এ উপদেশগুলোরই বাস্তব প্রতিফলন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আহমদ আলী তার শেষ বাক্যগুলোতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না, নিজের সৎকর্ম দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে, সর্বদা অন্যের আমানত রক্ষা করবে এবং পাপকাজ থেকে বিরত থাকবে। তার এ ধরনের মনোভাব মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের আদর্শের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মহানবি (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার কর। তাদের উপর কোনোরূপ অত্যাচার করবে না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে। তারা যদি কোনো অমার্জনীয় অপরাধ করে ফেলে, তবে তাদের মুক্ত করে দেবে, তবুও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবে না। কেননা তারাও তোমাদের মতোই মানুষ, আল্লাহর সৃষ্টি। সব মুসলিম একে অন্যের ভাই এবং তোমরা একই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।' তিনি আরও বলেন, 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের উপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের উপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' এ ভাষণে তিনি আরও ঘোষণা দেন, 'ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কর না; আগের অনেক জাতি এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে।'
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা হয় যে, বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (সা.) মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ ভাষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক আহমদ আলীর বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে। আর এ ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সত্যিই অপরিসীম।