উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেন, তিনি হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সম্পর্কে প্রধান অতিথির মন্তব্য সঠিক বলে আমি মনে করি। মন্তব্যের সঠিকতা ইমাম আবু হানিফার জীবনাদর্শের আলোকে আমরা নিরূপণ করতে পারি।ফিকাহ শাস্ত্রের জনক ইমাম আবু হানিফা (র.) ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। সতেরো বছর বয়স থেকে জ্ঞান সাধনা আরম্ভ করলেও তিনি অতি অল্প দিনের মধ্যে হাদিস, তাফসির, ফিকাহ ইত্যাদি বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি ফিকাহশাস্ত্রের উদ্ভাবক ছিলেন। তিনি তাঁর চল্লিশজন ছাত্রের সমন্বয়ে 'ফিকাহ সম্পাদনা বোর্ড' গঠন করেন। এই বোর্ড দীর্ঘ বাইশ বছর কঠোর সাধনা করে ফিকাহকে একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র হিসেবে রূপদান করেন। পরবর্তীতে তিনি বোর্ডের চল্লিশজন সদস্য হতে দশজনকে নিয়ে একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করেন। ফিকাহশাস্ত্র প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এই বোর্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলেম, আবিদ ও বুদ্ধিমান।তৎকালীন বাগদাদের খলিফা আল মানসুর ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। ফলে তাঁকে জেলখানায় আবদ্ধ করে রাখা হয়। সরকার কর্তৃক দেওয়া সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাখ্যান করে ইমাম আবু হানিফা নৈতিক ও দীনি ইলমের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।পরিশেষে বলা যায়, প্রধান অতিথির আলোচনায় দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয়েছে, তা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জীবনাদর্শের আলোকে যথার্থ হিসেবে বিবেচিত।