সুজন সরকারের কাজটি আখলাকে যামিমার 'কর্মবিমুখতা' এর অন্তর্ভুক্ত। যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।কর্মবিমুখতা বলতে কাজ না করার প্রবণতাকে বোঝায়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজ না করে অলস বা বেকার বসে থাকাকে কর্মবিমুখতা বলা হয়। কর্মবিমুখতা একটি জাতির জন্য দুর্ভোগ ও কলঙ্কস্বরূপ। এ দুর্ভোগজনক অবস্থাটি সুজন সরকারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, সুজন সরকার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে কর্মহীন জীবন-যাপন করেন। তাকে কর্মের কথা বললে সে বলে বাবার অঢেল টাকা আছে কর্মের কোনো প্রয়োজন নেই। সুজন সরকার এভাবে চলতে থাকলে এক সময় পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে যাবে। কারণ তার এ ধরনের কর্মহীন জীবনযাপনের ফলে পরিবার এবং সমাজে আর্থিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। কেউ কাজ না করে বেকার বসে থাকলে অন্যদেরকে তার ব্যয়ভার বহন করতে হয়। ফলে সে ধীরে ধীরে বোঝা হিসেবে পরিগণিত হয়। কর্মবিমুখতা মানবজীবনে অভিশাপস্বরূপ, ইসলামে এর কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম মানুষকে হালাল পন্থায় জীবিকা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর' (সূরা আল-জুমুআ : আয়াত-১০)। হাদিসেও হালাল জীবিকা অর্জনকে ফরজ ঘোষণা করা হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, কর্মবিমুখ ব্যক্তি সমাজ ও জাতির জন্য বোঝাস্বরূপ। এরা সমাজের সার্বিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই উদ্দীপকের সুজন সরকারের অবস্থা অর্থাৎ কর্মবিমুখতাকে ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা সমাজজীবনে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে থাকে।