জামাল উদ্দিন সম্বন্ধে মাওলানা আযাদের মন্তব্য সম্পূর্ণ যথার্থ বলে আমি মনে করি।উদ্দীপকে জামাল উদ্দিন নিম্ন বেতনে চাকরি করে অনেক কালো টাকার মালিক হয়েছে। তাছাড়া সে এক ব্যক্তিকে দশ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে বছরান্তে নিয়মিতভাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আদায় করে। এরূপ অতিরিক্ত অর্থ সুদ-এর অন্তর্ভুক্ত। জামাল উদ্দিন সুদ ও ঘুষের লেনদেন করে। যার কুফল ও অপকারিতা অত্যন্ত ভয়াবহ। সুদ মানবসমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য জন্ম দেয়। ধনী আরও ধনী হয়। গরিব আরও গরিব হয়। ফলে সমাজের মধ্যে শ্রেণিভেদ গড়ে ওঠে। পারস্পরিক মায়া-মমতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুদের কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যহত হয়। লোকেরা বিনিয়োগে উৎসাহী হয় না। বরং সম্পদ অনুৎপাদনশীলভাবে সুদি কারবারে ব্যবহার করে। ফলে দেশের বিনিয়োগ কমে যায়, জাতীয় উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। ধর্মীয় দিক থেকেও এর কুফল অত্যন্ত ব্যাপক। সুদ-ঘুষের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ হারাম বা অবৈধ, আর হারাম কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। যার শরীর হারাম খাদ্যে গঠিত, যার পোশাক পরিচ্ছদ হারাম টাকায় অর্জিত এরূপ ব্যক্তির কোনো ইবাদত কবুল হয় না। এমনকি তার কোনো দোয়াও আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না। নবি করিম (সা.) বলেন, "ঘুষ প্রদানকারী ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ের ওপরই আল্লাহর অভিসম্পাত।” (বুখারি ও মুসলিম)উপরিউক্ত আলোচনায় মাওলানা আযাদের মন্তব্যের যথার্থতা ফুটে উঠেছে।