জনাব মহিদুলের শেষোক্ত কর্মকাণ্ডে হাক্কুল ইবাদ লঙ্ঘিত হয়েছে। মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হক বা অধিকার রক্ষা বা আদায় করাই হলো হাক্কুল ইবাদ। যেমন- অন্যের ক্ষতি না করা, প্রতারণা না করা, অন্যের অর্থ ভোগ না করা, গিবত না করা, অসহায়কে সাহায্য করা ইত্যাদি, যা মহিদুলের শেষোক্ত কর্মকান্ডে দেখা যায় না।
উদ্দীপকে জনাব মহিদুল নিয়মিত নামায, রোযা করেন। কিন্তু সমাজের অসহায় মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করে না। এরূপ কর্মকান্ডে হাক্কুল ইবাদ লঙ্ঘিত হয়। বান্দার হক পালন বা মানবসেবা মানুষের উন্নত চরিত্রের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি মানুষের সেবা করেন তিনি মহৎপ্রাণ। মানুষের অধিকার রক্ষা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (তিরমিযী) অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, "কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি অভাবী হবে, যে দুনিয়াতে সালাত, সিয়াম, যাকাত ও আদায় করে আসবে এবং সঙ্গে সেই লোকেরাও আসবে যাদের কাউকে সে গালি দিয়েছে, কারও সাথে অপরাধ করেছে, কারো মাল-সম্পদ মেরেছে। সুতরাং এই হকদারকে তার নেকি দেওয়া হবে। আবার ঐ হকদারকেও (পূর্বোক্ত হকদার যার ওপর জুলুম করেছিল) তার নেকি নেওয়া হবে। এভাবে পরিশোধ করতে গিয়ে যদি তার (প্রথম ব্যক্তির) নেকি শেস হয়ে যায়, তবে তাদের পরের হকদারের গুনাহসমূহ ঐ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে। অতৎপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" (সহীহ মুসলিম)
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কোনো ব্যক্তি আল্লাহর হক সম্পূর্ণরূপে আদায় করার পরও শুধু বান্দার হক নষ্ট করার কারণে চিরস্থায়ী শান্তির মুখোমুখি হতে পারে। এ কারণে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।