জনাব কাওসারের আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা মালিক শ্রেণির প্রদত্ত বেতন-ভাতার উপর নির্ভরশীল। তাই এ ব্যাপারে মহানবি (সা.) মালিক শ্রেণিকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, জনাব কাউসার সাহেবের ক্ষেত্রে যা অনুসরণের ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়।জনাব কাওছার একজন ধনী ব্যক্তি। তার কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু তিনি নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেন না। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় এবং শ্রমিকরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানা আক্রমণ ও ভাংচুর করে। প্রকৃতপক্ষে তিনি শ্রমিকদের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অমান্য করেছেন। ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে-মালিকেরা যাতে শ্রমিকের প্রতি নির্দয় না হয়। তারা যেন তাদের প্রতি জুলুম না করে যথাযথভাবে তাদের মজুরি প্রদান করে। যেমন হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এ সম্পর্কে বলেন- أَعْطُوًا الْأَجِيْرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يُجِفٌ عَرَقُهُ অর্থাৎ, 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও' (ইবনে মাজাহ)। তিনি আরও বলেন, 'মজুরের পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ কর না' (বুখারি ও মুসলিম)। কিন্তু জনাব কাওসার সাহেব এসব নির্দেশ অমান্য করে অকারণে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিতে বিলম্ব করেছেন। জনাব কাওসার সাহেব একজন শিল্পমালিক হয়েও শ্রমিকের মজুরি ঠিকমতো প্রদান করেননি। তিনি শ্রমিকের সাথে ইসলামের বিধানসম্মত আচরণ করেননি। তিনি রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অমান্য করেছেন। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের জনাব কাওছার সাহেবের আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।