উদ্দীপকে বর্ণিত আজিমের কর্মকাণ্ডে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদাত যাকাত আদায়ের বিষয়টি পালিত হয়েছে এবং নাজিমের কর্মকাণ্ডে যাকাত আদায় লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই আজিমের কর্মকাণ্ডটি গ্রহণযোগ্য।ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ ভাগ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। ইসলামে যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর দয়া নয় বরং এটি অধিকার। যাকাত হলো এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তির সম্পদ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল হয় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়, যা ধনী-গরিবের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী কেউ হলে এবং ওই সম্পদ তার নিকট এক বৎসর সঞ্চিত থাকলে তাকে শরিয়ত নির্ধারিত হারে যাকাত প্রদান করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা সালাত কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।” (সূরা আন-নূর: ৫৬), তিনি আরও বলেছেন, “আপনি তাদের ধনসম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন।" (সূরা আত্-তাওবা : ১০৩)যাকাত আদায়ের শর্ত হলো সমুদয় সম্পদ থেকে হিসাব করে বছর শেষে ২.৫ টাকা হারে নির্দিষ্ট খাতে প্রদান করা। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, আজিম তার সমুদয় সম্পদ হিসাব করে ২.৫ টাকা হারে গাভি কিনে এলাকার গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেন। তার এ কাজটি যাকাত আদায়ের জন্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু নাজিম তার সম্পদের কোনো হিসাব না করে সামান্য অংশ গরিবদের মাঝে দেন। তার এরূপ কাজ যাকাত আদায়ের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তার এ সামান্য অংশ গরিবদের মাঝে দেওয়া দান হিসেবে গণ্য হবে, যাকাত হিসেবে নয়।