জনাব রাশেদের ইবাদতটি হলো সাওম।সাওমের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। সাওম ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। সাওম পালনের মাধ্যমে ক্ষুধার দুঃসহ মর্মজ্বালা দরিদ্রদের মতো ধনীরাও অনুভব করে। রমজান মাসে আমির-ফকির, ছোট-বড় সকলে একসাথে তারাবিহের নামায আদায় করে এবং ইফতার ও সাহরি খায়। এতে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। রোযা রাখার মাধ্যমে একজন বিত্তশালী ব্যক্তি একজন বুভুক্ষের ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করে। এতে অসহায় দরিদ্রদের প্রতি তার সহানুভূতিবোধ জাগ্রত হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “রোযাদারের সাথে কেউ ঝগড়া করতে আসলে সে যেন বলে দেয়, আমি রোযাদার।” তাই সাওম পালনকারী নিজেকে সংঘর্ষ, সংঘাত থেকে সংযত রাখে। ফলে সমাজ থেকে মারামারি, ঝগড়া, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি দূর হয়। সাওম লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষোভ সবকিছুর অবসান ঘটায়। ফলে সামাজিক জীবনে কলুষতামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জীবনে উত্তম চরিত্র গঠনের প্রতিশ্রুতি লাভকরা যায়। রোযাদার নির্দিষ্ট সময়ে সাহরি, ইফতার, তারাবিহ নামায আদায়ের দ্বারা মানুষ নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ পায়। সিয়াম পালনকারী সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। এতে আত্মসংযম ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায়।পরিশেষে বলা যায় সাওমের সামাজিক গুরত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এ রমযান মাসেই ধনীদের মাধ্যমে গরিবরা বেশি উপকৃত হয়। সুতরাং সমাজ থেকে অভাব-অনটন দূরীভূত হওয়ার ক্ষেত্রেও সাওম বিশেষ একটি হাতিয়ার। তাই বলা যায়, “সাওমের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।” কথাটি যুক্তিযুক্ত।