হ্যাঁ, ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি সঠিক। হালিম সাহেবের পরিবার কর্তৃক আদায়কৃত ইবাদতটি সালাত হিসেবে গণ্য। যার ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ।
যে ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর নিকট দোয়া, দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে তাকে সালাত বলে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সালাতের হিসাব সর্বপ্রথম নেবেন। রাসূল (সা.) বলেন, 'কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে।' (মিরমিযি) হালিম সাহেবের পরিবার এ ইবাদতটিই পালন করেছেন।
উদ্দীপকে হালিম সাহেবের সকলেই নিয়মিত একটি ইবাদত পালন করেন। হালিম সাহেবও ইবাদতটি সম্পর্কে ইমাম সাহেবের কাছ থেকে জেনেছেন যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এটির হিসাব নেওয়া হবে এবং এটি মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। হালিম সাহেবের পরিবার মূলত সালাত আদায় করেন। আর এ সম্পর্কে ইমাম সাহেবের উক্তিটিও যথার্থ। কারণ মহানবি (সা.) বলেন, সালাত দ্বীনের ভিত্তি। অন্যত্র তিনি বলেন, সালাত জান্নাতের চাবি। সালাত আদায় করতে গিয়ে বান্দা দৈনিক কমপক্ষে পাঁচবার শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা হাসিল করে আল্লাহর সান্নিধ্যে যায়। এতে তার ইমান বৃদ্ধি পায়। কুফর ও ইমানের মাঝে সালাত পার্থক্য সৃষ্টি করে। কারণ যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করে সে ইমানদার। আর যে নামাজ পরিত্যাগ করে তার ইমান নেই। ইমানহীন ব্যক্তি কাফির। মহানবি (সা.) বলেন, 'সলাত হলো ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী' (তিরমিযি)। সালাত মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন- إنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَن الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ অর্থাৎ,(সূরা আল-আনকাবূত : আয়াত-৪৫)। সালাতের মাধ্যমে সামাজিক'নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে' ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন পাঁচবার একত্রে সালাত আদায় করার ফলে মুসলমানদের মধ্যে হৃদ্যতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, মুসলমানদের জীবনে সালাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।