উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ক'-এর এর মনোভাবে ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত জিহাদের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।জিহাদ অর্থ পরিশ্রম করা, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। ইসলামি পরিভাষায় জান-মাল, ইলম, আমল লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দ্বীনকে (ইসলামকে), সমুন্নত করাই হলো জিহাদ। অন্য কথায়, বলা যায়, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান অর্থাৎ কুরআন অনুযায়ী ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করাকে জিহাদ বলে। কুরআন দিয়ে বা আল্লাহর আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা ফরজ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এ নির্দেশনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "বিধান দেবার অধিকার শুধু আল্লাহর।" (সূরা আনতাম: ৫৭) অন্যত্র তিনি বলেন, "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা কাফির।” (সূরা আল-মায়িদা: ৪৪) উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহর আইন দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা ফরজ। যেই রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন কার্যকর নেই সেখানে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করা ফরজ। এটিই জিহাদ। আর জিহাদকে অস্বীকার করা বা উপেক্ষা করা কুফুরি। যেমনটি উদ্দীপকে মি, 'ক'-এর মনোভাব ফুটে উঠেছে। ইসলামে জিহাদের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। জিহাদের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিত।" (সুরা আল-হাজ: ৭৮) অন্যত্র আরও বলেন, "আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।' (সুরা আল-আনফাল: ৩৯)তাই বলা যায়, মি. 'ক'-এর মনোভাবে ইসলামের জিহাদ বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।