চিত্র-১ এ সামাজিক অনুষ্ঠানটি হলো বিবাহ। নিম্নে এই অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কারটি অর্থাৎ বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে মানুষের পুরো জীবনে যে দশটি সংস্কার বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে বিবাহের সংস্কারটি শ্রেষ্ঠ। কেননা বিবাহের মাধ্যমে সংসারধর্ম পালন করা যায়। সংসারধর্ম হলো ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী হচ্ছে পুরুষের সহধর্মিণী। স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই সম্পন্ন হয় না। সংসারধর্ম পালনের মাধ্যমে পুরুষ সন্তানের জনকরূপে লাভ করেন পিতৃত্ব এবং নারী জননীরূপে লাভ করেন মাতৃত্ব। সংসারধর্ম পালনের মাধ্যমেই পৃথিবীর বুকে মাতা, পিতা, কন্যা নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার।এই সংসারকে কেন্দ্র করেই প্রেম-প্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্য প্রভৃতি মানবমনের সুকুমার বৃত্তিগুলো পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়। সংসারধর্ম বলতে বিবাহের পরবর্তী জীবনকেই বোঝায়। এই সময় স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সকলের প্রতি পুরুষের প্রেম-প্রীতি, ইত্যাদি প্রকাশ পায়। সংসারধর্ম পালনের সময় পিতা-মাতাকে পরিবারের ভরণ-পোষণের সমস্ত দায়িত্ব নিতে হয়। এর মধ্য দিয়ে সংসারের প্রতি তাদের সকল দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। তাই সংসারধর্ম পালনের সময় একজন মানুষের মানবিকতার পরিপূর্ণ প্রকাশঘটে। আর এভাবে গড়ে ওঠে আলোকিত মানুষ।পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।