হ্যাঁ, শিমুলের বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শাস্ত্রমতে সম্পন্ন হয়েছিল। 'শ্রদ্ধা' শব্দের সঙ্গে 'অণু' প্রত্যয়যোগে 'শ্রাদ্ধ' শব্দ গঠিত। শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয় তা-ই শ্রাদ্ধ। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল ইত্যাদি মৃতব্যক্তির নামে মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয়।
আদ্যশ্রাদ্ধের যে শুধু ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্ব আছে তা নয়, পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট রয়েছে। কেউ মারা গেলে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন যেমন দেখতে আসেন তেমনি মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তার পরিবার, জ্ঞাতিবর্গের দুঃখের সাথে একাত্ম হন। এতে মানুষের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। সকলেই সমব্যথী হয়। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের একটি মিলনমেলাও হয়। একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়ে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।উদ্দীপকের শিমুল অশৌচের যাবতীয় নিয়ম-কানুন পালন করলেও অর্থের অভাবে সে শ্রাদ্ধে আড়ম্বর করতে পারেনি। তবে সবকিছু নিয়ম মতো পালন করেছে। শুধু আড়ম্বর করলেই শ্রাদ্ধ হয় না। শ্রদ্ধার সঙ্গে কোন কিছু না করলে সেখানে আড়ম্বরটাই প্রাধান্য পায়, শ্রাদ্ধটা না। তখন শ্রাদ্ধ তার মৌলিকতা হারায়। পরিশেষে বলা যায়, শিমুলের বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শাস্ত্রমতেই সম্পন্ন হয়েছিল।