হ্যাঁ, পলাশ বাবুর কর্মকাণ্ড ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের সহায়ক।উদ্দীপকে উল্লেখিত পলাশ বাবু একজন পরোপকারী ব্যক্তি তিনি অসহায় পশু-পাখির যত্ন করেন, খাবার দেন ও গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করেন। তাছাড়া জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।সাধারণ অর্থে 'সেবা' বলতে পরিচর্যা করা বোঝায়। যেমন- অতিথি সেবা, জীবসেবা, ঈশ্বর সেবা প্রভৃতি। অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে। জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। এ ছাড়াও বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সহানুভূতি জানিয়ে, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে নানাভাবে সেবা করা যায়। আমরা জীবের সেবা করব কেন? আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়। জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ'। অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরের কথাই বোঝানো হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন :
'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।'
এ কথার তাৎপর্য এই যে, বহুরূপে অর্থাৎ বহুজীবরূপে ঈশ্বর আমাদের সম্মুখেই আছেন। তাই তাঁকে খুঁজে বেড়ানোর দরকার নেই। যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করেন। সুতরাং বলা যায়, পলাশ বাবুর কর্মকাণ্ড ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের সহায়ক।