জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা'- উক্তিটিতে ঈশ্বরের স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে।হিন্দুধর্মে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ভগবান, অবতার, পরমাত্মা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। বস্তুত ঈশ্বরের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর এসব নাম নির্ধারণ করা হয়। আমরা জানি, যিনি সব কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সব কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম যখন জীবজগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়। ব্রহ্ম জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও ধ্বংসকর্তা। আবার ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এই ছয়টি গুণসম্পন্ন ঈশ্বরই ভক্তের কাছে ভগবান। নিরাকার ঈশ্বর যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় সাকার রূপে পৃথিবীতে আসেন তখন তাঁকে অবতার বলে। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাঁকে পরমাত্মা বলে।উদ্দীপকের মিন্টু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বাবার কাছে সৃষ্টিকর্তার পরিচয় জানতে চায়। তার বাবা জবাবে ঈশ্বরের স্বরূপ তুলে ধরে বলেন, 'ঈশ্বর এক মহান সত্তা। তিনি জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান।' মিন্টুর বাবার এ উপলব্ধি সঠিক।পরিশেষে বলা যায়, হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে সম্বোধন করে থাকেন। বস্তুত প্রতিটি নামের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এ কারণে উদ্দীপকে বর্ণিত 'জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা'- উক্তিটি যথার্থ।