ক্ষমতাবান মহান একজনকে বিশেষ গুণের জন্য তাকে ভগবান নামে ডাকা হয়। তার স্বরূপ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যাঁর মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে- যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা জানেন, তিনিই ভগবান। ঈশ্বরকে যখন এই ছয়টি গুণের অধীশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়। (শ্রীমদ্ভাগবত পূরাণ, ৬। ৫। ৭৯)। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভগবান গুণময় এবং অশেষরূপের আধার। তিনি রসময়, আনন্দময় ও দয়াময়। তিনি তাঁর ভক্তদের বিভিন্নভাবে কৃপা করে থাকেন। ভগবানের মধ্যে ভক্ত তাঁর অভীষ্ট প্রত্যক্ষ করতে পারেন। ভগবান যে-কোনো রূপ ধারণ করে ভক্তকে দেখা দেন, লীলা করেন। তিনি প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। আবার ঈশ্বরাবেশে অপ্রাকৃত লীলা, দাবানল পান, একহাতে গোবর্ধন পর্বত ধারণ, পাষণ্ড-দলন এবং কঠোর তপস্যা করে সকলকে মুগ্ধ করেন এবং সকলের মঙ্গল করেন। সামান্য দেহধারী হয়ে ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে ভগবান তাঁর কাছে আসেন। প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা তিনি বহন করেন। মোট কথা ঈশ্বর যখন জীবকে দয়া করেন তখন তাঁকে বলা হয় ভগবান।উদ্দীপকে ক্ষমতাবান মহান একজনের বিশেষ ছয়টি গুণের জন্য তাঁকে বিশেষ নামে ডাকা হয়। তিনি ক্ষমতাবান হলেও ভক্তের ডাকে সাড়া দেন। প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা নিজেই বহন করেন। জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে দুঃখ কষ্ট ভোগ করেন। যা ভাগবানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ক্ষমতাবান মহান একজনকে বিশেষ গুণের জন্য তাকে ভগবান নামে ডাকা হয়।