জ্ঞানানন্দের চরিত্রে ধার্মিকের স্বরূপ দিকটি লক্ষ করা যায়।ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ, প্রভৃতি) যার মধ্যে প্রকাশ পায় বা যিনি ধর্মের ঐ দশটি লক্ষণ নিজের জীবনে চলার পথে অনুসরণ করেন তিনিই ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তিনি ক্ষমতা থাকলেও ক্ষমা করেন। ক্ষমতার দম্ভ দ্বারা তিনি পরিচালিত হন না। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত করতে পারেন।ধার্মিক ব্যক্তি ধীশক্তিসম্পন্ন। তার প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। সকল কিছু বিচার করার অনন্যশক্তি দান করে। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। ধী ও বিদ্যা তাঁকে চরিত্রের উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয়। তিনি কখনো সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না বা দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া ধার্মিকের দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।উদ্দীপকে দেখা যায়, জ্ঞানানন্দ ও জনি দুইজন প্রতিবেশী। জ্ঞানানন্দ সমাজের একজন সম্মানিত ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তাকে এলাকার সবাই পছন্দ করেন। কারণ, তিনি অত্যন্ত সহনশীল এবং তার চোখে সবাই সমান। তিনি মনে করেন সবারই সমান অধিকার রয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ বিষয়গুলো তিনি পার্থক্য করেন না। এসব বৈশিষ্ট্য একজন ধার্মিকের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। সুতরাং বলা যায়, জ্ঞানানন্দের চরিত্রে ধার্মিকের স্বরূপ প্রতিফলিত হয়েছে।