না, প্রাপ্তি ও হৃদয় তাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের একই প্রমাণ অনুসরণ করেনি। প্রাপ্তি ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের তৃতীয় প্রমাণ তথা সদাচার এবং হৃদয় ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের চতুর্থ প্রমাণ তথা বিবেকের বাণী অনুসরণ করেছে।
কোনো বিষয়ে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না পাওয়া গেলে মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সে পথেই চলতে হবে। আবহমান কাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচার তৃতীয় প্রমাণ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বিজ্ঞব্যক্তি নিজের বিবেককেও প্রামাণ্য বলে বিবেচনা করেন। বিবেক কী বলে? যে কাজ ব্যক্তিকে বিপথগামী করে এবং সামষ্টিক অমঙ্গল ডেকে আনে, বিবেক সে কাজকে অধর্ম বলে বিবেচনা করে। কাজেই নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে নির্ণয় করতে হবে : কাজটি করলে ধর্ম হবে, না অর্ধম হবে। নৈতিক মূল্যবোধের বিচারে যা ভালো কাজ তা ধর্মসম্মত এবং যা ভালো কাজ নয়, তা করলে অধর্ম হয়। ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষতিকর কাজ ধর্মসম্মত নয়। বিবেক সেখানে বাধা দেবেই।
উদ্দীপকে প্রাপ্তি বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের সাহায্য নিয়ে তার সমস্যাটি সমাধান করতে পারে না। শেষ পর্যন্ত একজন মহাপুরুষের আদর্শ অনুসরণ করে, যা ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের তৃতীয় প্রমাণের সাথে মিল রয়েছে। আর হৃদয় একটা সমস্যায় পড়ে। যখন কোনোমতেই সমাধান খুঁজে পাচ্ছিল না তখন সে একটি জায়গায় ধীর স্থিরভাবে বসে চিন্তা করে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পায়, যা ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের চতুর্থ প্রমাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত।