উদ্দীপকের সুনীতি দেবীর মধ্যে 'মানবতা' নামক নৈতিক গুনের প্রকাশ ঘটেছে। নিম্নে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-রন্তিবর্মা নামে এক প্রজাবৎসল ও কৃষ্ণভক্ত রাজা ছিলেন। তিনি শুধু রাজা ছিলেন না, ছিলেন রাজার রাজা, মহারাজা, সম্রাট। সম্রাট হয়েও রন্তিবর্মা পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন। শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই তিনি একমাত্র সম্পদ বলে জ্ঞান করেন। শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে তিনি একবার অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেন। অযাচক বৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেবে তাই দিয়েই দিন যাপন করতে হবে। অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করার পর একে একে আটচল্লিশ দিন কেটে গেছে। এই আটচল্লিশ দিনে কেউ তাঁকে কিছু দেয়নি। তিনিও খেতে চাননি। ঊনপঞ্চাশতম দিবসে একভক্ত তাকে একটি থালায় করে কিছু খাবার দিয়ে গেলেন। এবার তার উপবাস ভঙ্গ হবে। হঠাৎ তার সামনে একজন ভিক্ষুক উপস্থিত সাথে একটি কুকুর। উভয়ের শরীর খুবই কাহিল। দেখেই দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতদিন কিছুই খায়নি। ক্ষুধার্ত লোকটির করুণ অবস্থা দেখে রাজা রন্তিবর্মার চোখে জল এলো। রাজা কিছুক্ষণ পূর্বে যে খাবার ভিক্ষা পেয়েছেন এর সবটাই ভিক্ষুক ও তার কুকুরটিকে দিয়ে দিলেন। এরই নাম মানবতাবোধ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুনীতি দেবী একজন ধর্মপরায়ণা নারী। তিনি সবসময় মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় এগিয়ে আসেন। তার কাছে কেউ কিছু চাইতে এসে খালি হাতে ফিরে যায় না কখনো। তার কাছে যা থাকে তার সবটাই তিনি দিতে প্রস্তুত থাকেন। সুনীতি দেবীর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটি মানবতার দৃষ্টান্তস্বরূপ।পরিশেষে বলা যায়, পাঠ্যবইয়ের রন্তিবর্মার মতো মানবতাবোধের প্রকাশ ঘটেছে সুনীতি দেবীর চরিত্রেও।