অর্পা ও অয়নের আচরণে নমস্কার শিষ্টাচারটি ফুটে উঠেছে। এর গুরুত্ব অপরিসীম।নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ। প্রণাম চার প্রকার। যথা- অভিবাদন, পঞ্চাঙ্গ প্রণাম, অষ্টাঙ্গ প্রণাম ও নমস্কার। 'প্রণাম করি' বলে আনত হওয়াকে অভিবাদন বলে। বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দ্রিয় যোগে অবনত হয়ে যে প্রণাম করা হয় তাকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে। আবার জানু, পদ, হস্ত, বক্ষ, বুদ্ধি, শির, বাক্য ও দৃষ্টি- এই আটটি অঙ্গ ব্যবহার করে প্রণাম করাকে অষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে। আর হাত জোড় করে মাথায় ঠেকিয়ে যে প্রণাম তাকে নমস্কার বলে। নমস্কারের মাধ্যমে ব্যক্তির মনের সমস্ত কালিমা, অহং সেিয় মাথা নত করে অন্যকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ কারণে সকল যজ্ঞের মধ্যে নমস্কার প্রধান।নমস্কারের মাধ্যমে অপর আত্মাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর মাধ্যমে মানব মন বিশুদ্ধতা লাভ করে। ফলে হরিকে লাভ করা সহজ হয়। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয়, সকল প্রাণীর মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করেন। তাই অপর একটি আত্মাকে নমস্কার জানানো মানে ঈশ্বরকে নমস্কার জানানো।সুতরাং, নমস্কারের মাধ্যমে আমরা সহজেই ঈশ্বরকে প্রণাম জানাতে পারি।