না, টেক্সিচালক জলদেবীর প্রতিচ্ছবি নয়।
পাঠ্যবইয়ে জলদেবী ও কাঠুরিয়ার সততার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ঘটনায় বলা হয়েছে, একবার এক গরিব কাঠুরিয়া নদীর তীরে এসে কাঠ কাটছিল। এ সময় কাঠুনিয়ার অসতর্কতায় তার কুঠারটা নদীতে পড়ে যায়। এতে কাঠুরিয়া মনের দুঃখে কাঁদতে লাগল। তার দুঃখ দেখে জলদেবীর দয়া হয়। দেবী নদীর জল থেকে উঠে এলেন। তিনি সোনা ও রূপার কুঠার দেখিয়ে কাঠুরিয়াকে পরীক্ষা করলেন। কিন্তু সৎ কাঠুরিয়া সোনার বা রূপার কুঠার নিজের না হওয়ায় এগুলো নিজের বলে দাবি করলেন না। যখন জলদেবী কাঠুরিয়ার লোহার কুঠার নিয়ে এলেন তখন সে এটিকে নিজের বলে দাবী করেন। এভাবে কাঠুরিয়া তার সততার পরিচয় দেন। তার সততায় মুগ্ধ হয়ে জলদেবী তাকে সোনার ও রুপার কুঠার দুটিও দিয়ে দেন। পাঠ্যবইয়ের অনুরূপ ঘটনা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। যেখানে ডাঃ রোজারী তার পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে রেখেই নেমে পড়েন। পরে টেক্সিচালক মাইক যোগে প্রাপ্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডঃ রোজারীকে তার ব্যাগটি ফিরিয়ে দেন। এতে খুশি হয়ে টেক্সিচালককে তিনি পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেন। এখানে টেক্সিচালক ও পাঠ্যবইযের কাঠুরিয়ার দৃষ্টান্ত একইরকম হলেও টেক্সিচালকের সাথে জলদেবীর দৃষ্টান্ত অনুরূপ নয়। এ কারণে বলা যায়, টেক্সিচালক জলদেবীর প্রতিচ্ছবি নয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের টেক্সিচালক ও পাঠ্যবইয়ের কাঠুরিয়া উভয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অন্যদিকে, ডঃ রোজারী ও জলদেবী উভয়ে সততার পুরস্কার দিয়েছেন। এরূপ ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করার কারণে টেক্সি চালক ও জলদেবী এক নয়।