উদ্দীপকে রিদমের কর্মকাণ্ডের তথা মানবতার শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।মানবতা একটি মহৎ গুণ। এটি ধর্মের অঙ্গ। মানবতাবোধের উপস্থিতির কারণে মানুষ একে অন্যের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে। এই বোধই মানুষকে অন্যদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। এই গুণটির কারণেই মানুষ নিরন্নকে অন্ন দিয়ে, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিয়ে, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করে। ফলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য, অকল্যাণ দূর হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবতার গুণের মাধ্যমে মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। অন্যেরও উপকার হয়। সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে এ গুণটি থাকা উচিত। তাহলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।মানবতার মাধ্যমে মানুষে মানুষে সহযোগিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুগে যুগে মানুষ সত্যের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছে। মানুষের মঙ্গলের জন্য দুঃখ বরণ করেছে। সেবায়, ত্যাগে, কর্মে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হয়েছে। মানুষের কল্যাণ কামনায় নিজের মেধা, শ্রম কাজে লাগিয়ে সার্থক করেছে, করেছে মহান। শাস্ত্রে অনেক মহাপুরুষের কাহিনির উল্লেখ রয়েছে যারা অন্যের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে মানবতার উজ্জ্বল নিদর্শন রেখে গেছেন। পৃথিবীতে যতগুলো ধর্ম রয়েছে সব ধর্মেই মানবতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সব ধর্মেই মানুষের কল্যাণ করাকে পুণ্যময় কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।উদ্দীপকে রিদম নৌকায় নদী পার হচ্ছিল। এমন সময় একটি শিশু মায়ের কোল থেকে নদীতে পড়ে যায়। রিদম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুটি উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। এতে শিশুটির মা খুশি হয় এবং রিদমকে আশির্বাদ করে। যা মানবতাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, মানবতার শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।