“জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"- উক্তিটি শ্রী শঙ্করাচার্যের মোহমুদগর কাব্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: "জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই- এটি ছিল তাঁর জীবনের চরম সত্য।" কথাটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-শঙ্করাচার্য যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন ভারতবর্ষের ধর্মীয় জীবন ছিল বিপর্যস্ত। জৈন ও বৌদ্ধধর্মের মধ্যে নানা কুসংস্কার ঢুকে পড়েছিল। হিন্দুধর্মও ম্লান হয়ে পড়েছিল। সমাজে বেদের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ যাগ-যজ্ঞের প্রাধান্য বেড়ে গিয়েছিল। শঙ্করাচার্য তাঁর অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধমের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন। তিনি বলেন, “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।” শঙ্করের এই মতবাদ প্রথমে অনেকেই মানতে চাননি। কিন্তু তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও বাগ্মিতার কাছে সবাই হার মানেন। সবাই তাঁর মতবাদ মেনে নেন। এই বক্তব্যে মানুষের প্রতি মানুষের, এমনকি জীবের প্রতিও মানুষের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়। আমরা উপলদ্ধি করতে পারি যে, ঈশ্বরের বাইরে প্রকৃতি ও জগৎ বলে কিছু নেই। সমস্ত কিছুই সেই এক পরম ব্রহ্মের প্রকাশ মাত্র। সকল জীব, প্রাণী ও প্রকৃতি তাঁরই অংশ মাত্র। আমরা সর্বজীবে ঈশ্বরের উপলদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছি। এতে করে অন্য মানুষ ও প্রাণীদের প্রতি আমরা সমদর্শন প্রাপ্ত হয়েছি। তাঁদের সেবা বা কল্যাণই ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বা প্রার্থনার উল্লেখযোগ্য রূপ।
SSC হিন্দুধর্ম শিক্ষা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · হিন্দুধর্ম শিক্ষা · সৃজনশীল
“জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"- উক্তিটি শ্রী শঙ্করাচার্যে…
উদ্দীপক
Barisal · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর