দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত মহাপুরুষ হলে প্রভু নিত্যানন্দ। নিম্নে মহাপুরুষের সাধন জীবন বিশ্লেষন করা হলো-নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। ছাত্র হিসেবে তিনি মেধাবী ছিলেন। কিন্তু পড়াশোনায় তাঁর একদম মন ছিল না। ধর্মকথা শুনতে তিনি খুব ভালোবাসতেন। খেলার পরিবর্তে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকতেন। সর্বদা কৃষ্ণের কথা ভাবতেন। কীভাবে কৃষ্ণকে পাওয়া যাবে সর্বক্ষণ এটাই ছিল তার ভাবনা। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পিতামাতার অনুমতি নিয়ে গৃহত্যাগ করেন। অনেক অরণ্য, পাহাড়-পর্বত, তীর্থস্থান ঘুড়ে বেড়াতে লাগলেন। এভাবে একদিন উপস্থিত হলেন কাঙ্ক্ষিত বৃন্দাবনে। তিনি ব্যাকুল হয়ে পাগলের মতো শ্রীকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। হঠাৎ একদিন কৃষ্ণ তাকে স্বপ্নে সাক্ষাৎ দেন এবং তাকে নির্দেশ দেন নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে প্রেমভক্তি প্রচারে যোগ দিতে। নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের গৃহে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে তার সাক্ষাৎ হয় এবং দুজনে নেচে গেয়ে জাতিধর্ম নির্বিশেষে হরিনাম বিলাতে লাগলেন। ফলে দলে দলে লোক তাদের অনুসারী হলো। জগাই-মাধাইয়ের মতো অসংখ্য পাপীকে তিনি কৃষ্ণনামের দ্বারা উদ্ধার করেন। গৌরাঙ্গের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে নিত্যানন্দ গৌড়রাজ্যে, বিশেষ নবদ্বীপে কৃষ্ণনাম ও প্রেমধর্ম প্রচার করতে লাগলেন। তিনি কৃষ্ণনামের সাথে একীভূত করে দেন শ্রীগৌরাঙ্গের নাম। গৌরাঙ্গ প্রবর্তিত প্রেমধর্মের এক মহাপ্রচারকরূপে গৌড়দেশে আবির্ভূত হন নিত্যানন্দ। সকলে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে এক সারিতে এসে দাঁড়ায়। সার্থক হয় শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমভক্তি ও কৃষ্ণনামের আন্দোলন। নিত্যানন্দও চির অমর হয়ে থাকেন গৌড়বাসীর অন্তরে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর শান্ত প্রভু নিত্যানন্দের জীবনকেই ইঙ্গিত করছে। পাঠ্যবইয়ের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আমরা প্রভু নিত্যানন্দের সাথেই মিল খুঁজে পাই।