'নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি বাণীর পরিপূ রক'- কথাটি যথার্থ।স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষা জীবন শেষে শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। তিনি গৃহত্যাগ করে সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়ান। নিজের চোখে ভারতবাসীর দুরবস্থা দেখেন। কীভাবে এ থেকে দেশবাসীকে উদ্ধার করা যায়, সে কথাও চিন্তা করতে লাগলেন। তিনি বলতেন, "দেশের উন্নতি করতে হলে সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন প্রয়োজন।" বিবেকানন্দ অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, শিক্ষা ব্যতীত কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি বলতেন, "দেশের জনগণকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে, তবেই একটি উন্নত জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” স্বামী বিবেকানন্দের ন্যায় উদ্দীপকের নরেশ বাবু ছাত্রজীবন শেষে সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সারা ভারত ঘুরে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে পান।স্বামী বিবেকানন্দ লক্ষ করলেন, ভারতের নারীসমাজ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রসহ নানাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। তাই তিনি নারীদের সার্বিক অবস্থার উন্নতির কথা ভাবতে থাকেন। তিনি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নারীশিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। তাঁর মতে, “যে-জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। নারীদের অবস্থার উন্নতি না করে বিশ্বের মঙ্গলসাধন করা সম্ভব নয়। কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না।" এমনকি অধ্যাত্ম সাধনায় নারীরা যাতে সুযোগ পায় এবং এগিয়ে আসে তার জন্য তিনি সারদাদেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠ প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বামীজীর ন্যায় উদ্দীপকের নরেশ বাবুও নারী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন।তাই উপর্যুক্ত আলোচনার শেষে বলা যায়, নারী শিক্ষা, স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নরেশ বাবুর কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি বাণীর পরিপূরক।