মাধুরীদের বাড়ির সামনের মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মাধুরীদের বাড়ির সামনের মন্দিরে কয়েকদিন ব্যাপী চলে এ অনুষ্ঠানটি। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তগণ এসে যোগ দেয় এ অনুষ্ঠানে। রাম ও কৃষ্ণের নাম বার বার উচ্চারিত হতে থাকে এ অনুষ্ঠানে। যা পাঠ্যবইয়ের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের সাথে মিল রয়েছে। ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবির, কুমকুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। তাঁদের পূজা দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে রং বা আবির মাখিয়ে আনন্দ করে। এ পূজার আগের দিন অর্থাৎ ফাল্গুনী শুক্লা চতুর্দশীর দিন 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গলকে দূর করার বা ধ্বংস করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়। অনেক জায়গায় এ সময় সমস্বরে বলা হয়- 'আজ আমাদের নেড়া পোড়া, কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে বলো সবাই, বলো হরিবোল'। ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবীর নিয়ে রাধিকা ও অন্য গোপীদের সাথে রং খেলায় মেতেছিলেন। সে ঘটনা থেকেই এ দোল খেলার প্রবর্তন।
দোলপূর্ণিমার দিন দোলযাত্রা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে গান, মেলা প্রভৃতির আয়োজন করা হয়। এ উৎসবের দিন সকাল থেকেই শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে দেয়। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। ফলে তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধনের সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। এ পাঠটি পালনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক ভেদাভেদ এবং বৈষম্য হ্রাস পায়। সবাই সবাইকে আপন করে নেয়। বর্তমানে এ উৎসবটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, দোলযাত্রা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।