উদ্দীপকে নির্দেশিত সভ্যতা তথা রোমান সভ্যার আইনের ওপর আধুনিক বিশ্ব নির্ভরশীল। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।বিশ্ব সভ্যতায় রোমানদের স্মরণীয় হয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো আইন প্রণয়ন। খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রোমানরা। ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে সাজাতে সক্ষম হন। প্রায় ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জপাতে সর্বপ্রথম আইনগুলো খোদাই করে লিখিত হয় এবং জনগণের অবগতির জন্য প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়। রোমান আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। যেসব কারণে আধুনিক বিশ্ব রোমান আইনের ওপর নির্ভরশীল, তা হলো-
প্রথমত, মৌলিক অধিকারকে আধুনিক বিশ্বে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। রোমানরা প্রাকৃতিক আইন শাখায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছে।
দ্বিতীয়ত, আইনের দৃষ্টিতে সমতা গণতান্ত্রিক আধুনিক বিশ্বের মৌলিক বিষয়, যা রোমান আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।
তৃতীয়ত, ব্যক্তি অধিকারের বিষয়ে রোমান সভ্যতার আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। আধুনিক বিশ্বে ব্যক্তি অধিকারের রক্ষা সব দেশের জন্য প্রত্যাশিত।
চতুর্থত, রোমান আইন নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল, যা আধুনিক বিশ্বের জন্য সার্থক আইনের বৈশিষ্ট্য।
তাই দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বিশ্বের আইনগুলো মূলত রোমান সভ্যতার আইনের অনুকরণ মাত্র। আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্ণভাবে রোমান আইনের ওপর নির্ভরশীল। রোমান আইনগুলো আধুনিক বিশ্বের জন্য সংগ্রহ করে সংকলন করে গেছেন রোমান সম্রাট জাস্টিনিয়ান।