দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত তথ্যসমূহই গ্রিক সভ্যতার প্রকৃত পরিচায়ক -উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশ গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স সম্পর্কিত।
পৃথিবীর প্রথম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলো এথেন্স। প্রথমে সেখানে রাজতন্ত্র থাকলেও পরবর্তীতে সেখানে অভিজাততন্ত্রের সূচনা হয়। অভিজাততন্ত্রের মারাত্মক সংকটের সময়ে সংস্কারের জন্য দাবি ওঠে। প্রথম সংস্কারক-হিসেবে ক্ষমতায় আসেন সোলন। তিনি কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেন এবং গ্রিক আইনের কঠোরতা হ্রাস করেন। তিনি ঋণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করার জন্য আইন পাস করেন। তার সময়ে অনেক অর্থনৈতিক সংস্কারও করা হয়। সোলনের পরে একে একে আসেন পিসিসট্রেটাস, ক্লিসথেনিস এবং পেরিক্লিস। এথেন্সে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পেরিক্লিস। তার সময়কে গ্রিক সভ্যতার 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। ৪৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ক্ষমতায় এসে তিনি নাগরিকদের সব রাজনৈতিক অধিকারের দাবি মেনে নেন। পেরিক্লিসের সময়ে এথেন্স সর্বক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে আরোহণ করে। তার মৃত্যুর পর থেকে এথেন্সের দুর্যোগ শুরু হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় অবিস্মরণীয় অবদান ছিল এথেন্সের। এথেন্সের পতন হয় সামরিক রাষ্ট্র স্পার্টার কাছে। তবুও সাহিত্যে- ইলিয়ড, ওডিসি; দর্শনে- সক্রেটিস, প্লেটো; বিজ্ঞানে- ইউক্লিড, হিপোক্রেটস প্রভৃতি নামগুলো আজও গ্রিসের অবদানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশ গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স সম্পর্কিত, যা আমাদের কাছে গ্রিসের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে।