উদ্দীপকের নাজমা খাতুন আমার পাঠ্যবইয়ের সংস্কারক বেগম রোকেয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে।উদ্দীপকে উল্লিখিত নাজমা একটি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও তিনি ঘরে বসে পড়াশোনা করেন। লেখালেখিতেও তার হাত ছিল। তার লেখনীতে নারী সমাজের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। যা বেগম রোকেয়াকে নির্দেশ করে। বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুরের মিঠাপুকুরে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের মেয়েরা ছিল খুবই পর্দানশীল। স্বভাবতই রোকেয়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি তার বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভকরেন। তাকে পড়াশোনা করতে হতো গভীর রাতে যাতে বাড়ির লোক টের না পায়। বড় ভাইয়ের একান্ত চেষ্টায় তিনি উর্দু, আরবি, বাংলা, ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন। যা উপলব্ধি করেছেন, তাই তিনি তার লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'সুলতানা স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে নারী সামজের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে নাজমা খাতুনের দ্বারা বেগম রোকেয়াকে বোঝানো হয়েছে।