উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যসমূহ তথা জাতিতে তুর্কি, ভাগ্যান্বেষী সৈনিক, মুসলিম শাসনের সূচনাকারী এবং ছদ্মবেশি বণিক ও বংশে খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার খলজিকে নির্দেশ করে। কেননা তিনি জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি ও বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনাকারী ছিলেন। বখতিয়ার খলজি উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির-এর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক ছিলেন। ১১৯৫ সালে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। সেখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরির সৈন্য বিভাগে চাকরি প্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। খাটো, লম্বা হাত ও কুৎসিত চেহারার জন্য বখতিয়ার সেনাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হন। বারবার চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিনের নিকট মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত হন। উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনভোগী পদে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানে তিনি নিজ যোগ্যতা গুণে ভগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গির লাভ করেন। বখতিয়ার অল্প সংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ ও লুণ্ঠন শুরু করেন। অবশেষে ছদ্মবেশে বণিক সেজে মাত্র ১৭/১৮ জন সৈন্য নিয়ে নদীয়া জয় করেন, যার মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের তথ্যসমূহ মধ্যযুগের বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে।