দৃশ্য-২ এর 'খ' নামক ব্যাক্তির সাথে ইতিহাসের সুবাদার শায়েস্তা খানের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের 'খ' ছিলেন সুদক্ষ সেনাপতি, দূরদর্শী শাসক এবং তার সময়ে দ্রব্যমূল্য খুব সস্তা ছিল। যার সাথে শায়েস্তা খানের মিল রয়েছে। কেননা তার সময়ে টাকায় আটমন চাল পাওয়া যেত।স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য শায়েস্তা খানের শাসন আমলকে মুঘল আমলের স্বর্ণযুগ বলা হয়। কারণ শায়েস্তা খানের সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বোত্র অসংখ্য সরাইখানা, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি ও কৃষি ক্ষেত্রে তিনি অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন। জনকল্যাণকর শাসনকাজের জন্য শুধু বাংলায় নয়, সমগ্র ভারতবর্ষেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরীর স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তার গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে। শায়েস্তা খানের শাসনামলে নির্মাণ করা স্থাপত্য কাজের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধি সৌধ, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গায় মসজিদ, চকবাজার মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মোটকথা অন্য কোনো সুবাদার ও শাসনকর্তা ঢাকায় শায়েস্তা খানের ন্যায় নিজের স্মৃতিকে এক বেশি জ্বলত্ব রেখে যেতে পারেন নি। বস্তুত ঢাকা ছিল শায়েস্তা খানের নগরী।তাই বলা যায়, নানা কৃতিত্বের জন্য শায়েস্তা খানের সময়কালকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।